ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাই মো. ওসমান মোল্যাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে বাম হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই মো. নুরুল হক, তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলায় আহত হয়েছেন ওসমান মোল্যার ছেলে নাইম মোল্যাও।
এ ঘটনায় ওসমান মোল্যার স্ত্রী মোসা. রূপবান বেগম বাদী হয়ে নুরুল হকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাপাশা এলাকায় জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে নুরুল হকের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওসমান মোল্যার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে ঘরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে তারা গালিগালাজ শুরু করে।
এ সময় লোহার রড দিয়ে ওসমান মোল্যার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে তিনি বাম হাত দিয়ে তা ঠেকান। এতে তার বাম হাতের হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হয়।
বাবাকে রক্ষা করতে ছেলে নাইম মোল্যা এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ডলি বেগম নামের এক অভিযুক্ত ধারালো বঁটি দিয়ে নাইমের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে হাত দিয়ে প্রতিহত করতে গিয়ে তার বাম হাতের তর্জনী কেটে যায়।
আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বাবা ও ছেলেকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওসমান মোল্যার অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি 









