ঢাকার আশুলিয়ায় নির্বাচনী ব্যানারকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত এক প্রার্থীর সমর্থকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, অফিস ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘিরে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে ভোটারদের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার পহেলা ফেব্রুয়ারি বিকেলে আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর হাসান কলোনী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার মাত্র দশ মিনিট আগে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু একটি নির্বাচনী ক্যাম্প পরিদর্শন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তার চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই একই প্রার্থীর সমর্থকদের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। পুরো এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রার্থী ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবুর নির্বাচনী ব্যানার নিয়ে তার সমর্থক কিবরিয়া ও আলম পারভেজ বুলেটের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আলম পারভেজ বুলেট তার সহযোগীদের নিয়ে কিবরিয়ার পরিচালিত নির্বাচনী অফিস ও পাশের একটি চায়ের দোকানে হামলা ও লুটপাট চালায়। হামলা ঠেকাতে গেলে নারীসহ কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত তৌহিদ সরকার নামের একজনকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে আসছে।
এ ঘটনার পর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৯ (সাভার–আশুলিয়া) জুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনী ক্যাম্পের আড়ালে ওই এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও চলছে। এসব বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, ঘটনার বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে নির্বাচন ঘিরে একই দলের প্রার্থীর সমর্থকদের এমন সংঘর্ষ স্থানীয় ভোটারদের মাঝে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
শাহীনুল হক। 

















