১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫ জন।

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে সোয়া দুই ঘণ্টার ব্যবধানে নয়ারহাট, টংগাবাড়ী ও জামগড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তবে তারা সংঘবদ্ধ কোনো মাদকচক্রের সদস্য কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক তিনটি অভিযানে মোট ৭৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ টাকা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকার আশুলিয়া থানার চাকলগ্রাম এলাকার মো. শুকুর আলীর ছেলে মো. আব্দুল আজিজ (৪৫), টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থানার কুরসি এলাকার মো. তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. তালেব ইসলাম শুভ (২৮), শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার ছুড়িহারা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. হজরত আলী (৩৫), ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানার সারুটিয়া এলাকার মো. মাসুদ রানার ছেলে পারভেজ হোসেন (২৬) এবং কুড়িগ্রাম সদর থানার জুনকার চর এলাকার মো. গুলজার হোসেনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৩২)।

পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম এর নেতৃত্বে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাথালিয়া ইউনিয়নের নয়ারহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালান আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াজ মাহমুদ ও তাঁর সঙ্গীয় সদস্যরা। এ সময় আব্দুল আজিজের চায়ের দোকানের সামনে থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ আব্দুল আজিজকে আটক করা হয়।

এর প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আশুলিয়া ইউনিয়নের টংগাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালান এসআই আব্দুল হাই ও তাঁর সঙ্গীয় সদস্যরা। এসময় নাভানা সিএনজি পাম্পের সামনে পাকা সড়ক থেকে ৫৩ পিস ইয়াবাসহ হজরত আলী, পারভেজ হোসেন ও আবুল কালাম আজাদকে আটক করা হয়।

এরপর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে জামগড়া এলাকায় অভিযান চালান এসআই মো. জুয়েল রানা ও তাঁর সঙ্গীয় সদস্যরা। এসময় ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ছয়তলা এলাকার একটি গোডাউনের সামনে থেকে ১৩০ গ্রাম গাঁজাসহ তালেব ইসলাম শুভকে আটক করা হয়।

একই রাতে সোয়া দুই ঘণ্টার মধ্যে তিনটি পৃথক এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় আশুলিয়ায় মাদকের সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের অভিযানে মাদক ও কয়েকজন সন্দেহভাজন কারবারি গ্রেপ্তার হলেও এসব মাদক কোথা থেকে এসেছে, কার মাধ্যমে আশুলিয়ায় ঢুকেছে এবং এর পেছনে বড় কোনো সরবরাহকারী বা চক্র রয়েছে কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের মাধ্যমে মাদকের উৎস ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি তাদের পূর্বের কোনো মামলা বা অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আশুলিয়া থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াকে মাদকমুক্ত রাখতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তবে মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি মাদকের মূল উৎস, সরবরাহকারী ও অর্থের লেনদেনের পথ শনাক্ত করা গেলে এই অঞ্চলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ফরিদপুরের মধুখালীকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করতে ইউএনওর পদক্ষেপ

আশুলিয়ায় ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫ জন।

Update Time : ০৬:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে সোয়া দুই ঘণ্টার ব্যবধানে নয়ারহাট, টংগাবাড়ী ও জামগড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তবে তারা সংঘবদ্ধ কোনো মাদকচক্রের সদস্য কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক তিনটি অভিযানে মোট ৭৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ টাকা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকার আশুলিয়া থানার চাকলগ্রাম এলাকার মো. শুকুর আলীর ছেলে মো. আব্দুল আজিজ (৪৫), টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থানার কুরসি এলাকার মো. তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. তালেব ইসলাম শুভ (২৮), শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার ছুড়িহারা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. হজরত আলী (৩৫), ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানার সারুটিয়া এলাকার মো. মাসুদ রানার ছেলে পারভেজ হোসেন (২৬) এবং কুড়িগ্রাম সদর থানার জুনকার চর এলাকার মো. গুলজার হোসেনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৩২)।

পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম এর নেতৃত্বে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাথালিয়া ইউনিয়নের নয়ারহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালান আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াজ মাহমুদ ও তাঁর সঙ্গীয় সদস্যরা। এ সময় আব্দুল আজিজের চায়ের দোকানের সামনে থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ আব্দুল আজিজকে আটক করা হয়।

এর প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আশুলিয়া ইউনিয়নের টংগাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালান এসআই আব্দুল হাই ও তাঁর সঙ্গীয় সদস্যরা। এসময় নাভানা সিএনজি পাম্পের সামনে পাকা সড়ক থেকে ৫৩ পিস ইয়াবাসহ হজরত আলী, পারভেজ হোসেন ও আবুল কালাম আজাদকে আটক করা হয়।

এরপর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে জামগড়া এলাকায় অভিযান চালান এসআই মো. জুয়েল রানা ও তাঁর সঙ্গীয় সদস্যরা। এসময় ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ছয়তলা এলাকার একটি গোডাউনের সামনে থেকে ১৩০ গ্রাম গাঁজাসহ তালেব ইসলাম শুভকে আটক করা হয়।

একই রাতে সোয়া দুই ঘণ্টার মধ্যে তিনটি পৃথক এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় আশুলিয়ায় মাদকের সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের অভিযানে মাদক ও কয়েকজন সন্দেহভাজন কারবারি গ্রেপ্তার হলেও এসব মাদক কোথা থেকে এসেছে, কার মাধ্যমে আশুলিয়ায় ঢুকেছে এবং এর পেছনে বড় কোনো সরবরাহকারী বা চক্র রয়েছে কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের মাধ্যমে মাদকের উৎস ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি তাদের পূর্বের কোনো মামলা বা অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আশুলিয়া থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াকে মাদকমুক্ত রাখতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তবে মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি মাদকের মূল উৎস, সরবরাহকারী ও অর্থের লেনদেনের পথ শনাক্ত করা গেলে এই অঞ্চলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।