০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালকিনিতে ৪ মাদ্রাসায় ৩৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র-১জন,মাসে বেতন পৌনে ১৫ লাখ, চলছে সমালোচনার ঝড়


মাদারীপুরের কালকিনি ও উপজেলায় চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চরম বিপর্যয়কর ফলাফল নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এবারের দাখিল পরীক্ষায় চার মাদ্রাসা থেকে মোট ৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছে,বাকি ৩৭ জনই ফেল করেছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।
​অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ফলাফলের বিপরীতে চার মাদ্রাসায় শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা অর্ধশতাধিক, যারা প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। শিক্ষার্থী ও ফলাফলের তুলনায় বিপুল অঙ্কের এই ব্যয়ের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
​উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষা সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার ক্রোকিরচর ইসলামিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় ১৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। এছাড়া উত্তর রমজানপুর জিন্নাতিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১১ জন, ক্রোকিরচর আকিমুন্নেছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ১২ জন এবং ক্রোকির হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউই পাস করতে পারেনি (পাসের হার শূন্য)।
​স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার কোনো পরিবেশ নেই। নিয়মিত পাঠদান না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক-কর্মচারীরা মাস শেষে ঠিকই সরকারি বেতন-ভাতা পকেটে ভরছেন। শিক্ষার এই বেহাল দশা ও সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
​এ বিষয়ে জানতে ক্রোকিরচর ইসলামিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্য মাদ্রাসাগুলোর প্রধানদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
​কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফিন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যর্থ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ফরিদপুরের মধুখালীকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করতে ইউএনওর পদক্ষেপ

কালকিনিতে ৪ মাদ্রাসায় ৩৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র-১জন,মাসে বেতন পৌনে ১৫ লাখ, চলছে সমালোচনার ঝড়

Update Time : ০৫:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬


মাদারীপুরের কালকিনি ও উপজেলায় চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চরম বিপর্যয়কর ফলাফল নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এবারের দাখিল পরীক্ষায় চার মাদ্রাসা থেকে মোট ৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছে,বাকি ৩৭ জনই ফেল করেছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।
​অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ফলাফলের বিপরীতে চার মাদ্রাসায় শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা অর্ধশতাধিক, যারা প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। শিক্ষার্থী ও ফলাফলের তুলনায় বিপুল অঙ্কের এই ব্যয়ের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
​উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষা সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার ক্রোকিরচর ইসলামিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় ১৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। এছাড়া উত্তর রমজানপুর জিন্নাতিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১১ জন, ক্রোকিরচর আকিমুন্নেছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ১২ জন এবং ক্রোকির হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউই পাস করতে পারেনি (পাসের হার শূন্য)।
​স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার কোনো পরিবেশ নেই। নিয়মিত পাঠদান না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক-কর্মচারীরা মাস শেষে ঠিকই সরকারি বেতন-ভাতা পকেটে ভরছেন। শিক্ষার এই বেহাল দশা ও সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
​এ বিষয়ে জানতে ক্রোকিরচর ইসলামিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্য মাদ্রাসাগুলোর প্রধানদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
​কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফিন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যর্থ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।