০৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবৈধ জুস কারখানা, জনস্বাস্থ্যের শঙ্কা।

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার পূর্ব বাড়ইপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে একটি জুস তৈরির কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বা প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব জুস উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বাড়ইপাড়া এলাকার একটি গোডাউনের ভেতরে গোপনে এই কারখানার কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস ও পানীয় তৈরি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের ও অনিরাপদ কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদন করা হচ্ছে এসব পণ্য, যেখানে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানায় ব্যবহৃত পানি ও কাঁচামালের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে জুস প্রস্তুত করে তা আশপাশের দোকান ও হাট-বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ অজান্তেই ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ করছেন।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কারখানাটি থেকে প্রায়ই দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং আশপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে। এতে করে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি এলাকায় রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে।

অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক মো. হুমায়ন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

অবৈধ জুস কারখানা, জনস্বাস্থ্যের শঙ্কা।

Update Time : ০৭:২১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার পূর্ব বাড়ইপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে একটি জুস তৈরির কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বা প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব জুস উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বাড়ইপাড়া এলাকার একটি গোডাউনের ভেতরে গোপনে এই কারখানার কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস ও পানীয় তৈরি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের ও অনিরাপদ কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদন করা হচ্ছে এসব পণ্য, যেখানে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানায় ব্যবহৃত পানি ও কাঁচামালের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে জুস প্রস্তুত করে তা আশপাশের দোকান ও হাট-বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ অজান্তেই ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ করছেন।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কারখানাটি থেকে প্রায়ই দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং আশপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে। এতে করে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি এলাকায় রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে।

অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক মো. হুমায়ন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।