১২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের গুজব ছড়িয়ে সড়কের ইট আত্মসাতের অভিযোগ, মানববন্ধনের পাশেই মিলল ইট

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের গুজব ছড়িয়ে গ্রামীণ সড়ক থেকে রাতের আঁধারে ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কথিত জামায়াত নেতা গোলাম কুদ্দুস ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর নদীভাঙন ঠেকানোর দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনের অদূরেই তুলে নেওয়া ইটের স্তূপ পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চরবেলবানা এলাকায় মধুমতী নদীর তীরে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, মানববন্ধনের স্থানটির পাশেই সড়ক থেকে তুলে নেওয়া পুরোনো ইটের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে মানববন্ধনের ছবি ও খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া গ্রামের আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন গ্রামীণ সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙনে রাস্তাটি বিলীন হয়ে যাবে—এমন তথ্য ছড়িয়ে প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ ডাবল ইটের সলিং সড়কের ইট উপড়ে ফেলা হয়। পরে এসব ইটের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইট ট্রলারযোগে মধুমতী নদীর ওপারে চরবেলবানা এলাকায় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী রবিউল মিয়া, আলামিন মিয়া ও জহুর মোল্যাসহ কয়েকজনের অভিযোগ, ইট তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে গোলাম কুদ্দুসের পক্ষ থেকে নদীভাঙনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়। তাদের দাবি, মানববন্ধনের স্থানটির পাশেই তুলে নেওয়া ইটের স্তূপ দেখা গেছে। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে কিছু ইট আগের স্থানে ফেরত দেওয়া হয় বলেও তারা জানান।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে উপজেলার চরবেলবানা এলাকায় মধুমতী নদীসংলগ্ন তৈয়বুর রহমানের বাড়ির সামনে কয়েকটি স্থানে পুরোনো ইটের এলোমেলো স্তূপ দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অভিযোগের বিষয়ে গোলাম কুদ্দুস বলেন, মানুষের বাড়িতে কাজের প্রয়োজনে ইট থাকতেই পারে। তবে ওগুলো কার ইট, সে সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে মধুমতী নদীতে নৌকাবাইচ, প্রতিযোগিতাও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত

আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের গুজব ছড়িয়ে সড়কের ইট আত্মসাতের অভিযোগ, মানববন্ধনের পাশেই মিলল ইট

Update Time : ১১:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের গুজব ছড়িয়ে গ্রামীণ সড়ক থেকে রাতের আঁধারে ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কথিত জামায়াত নেতা গোলাম কুদ্দুস ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর নদীভাঙন ঠেকানোর দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনের অদূরেই তুলে নেওয়া ইটের স্তূপ পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চরবেলবানা এলাকায় মধুমতী নদীর তীরে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, মানববন্ধনের স্থানটির পাশেই সড়ক থেকে তুলে নেওয়া পুরোনো ইটের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে মানববন্ধনের ছবি ও খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া গ্রামের আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন গ্রামীণ সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙনে রাস্তাটি বিলীন হয়ে যাবে—এমন তথ্য ছড়িয়ে প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ ডাবল ইটের সলিং সড়কের ইট উপড়ে ফেলা হয়। পরে এসব ইটের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইট ট্রলারযোগে মধুমতী নদীর ওপারে চরবেলবানা এলাকায় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী রবিউল মিয়া, আলামিন মিয়া ও জহুর মোল্যাসহ কয়েকজনের অভিযোগ, ইট তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে গোলাম কুদ্দুসের পক্ষ থেকে নদীভাঙনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়। তাদের দাবি, মানববন্ধনের স্থানটির পাশেই তুলে নেওয়া ইটের স্তূপ দেখা গেছে। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে কিছু ইট আগের স্থানে ফেরত দেওয়া হয় বলেও তারা জানান।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে উপজেলার চরবেলবানা এলাকায় মধুমতী নদীসংলগ্ন তৈয়বুর রহমানের বাড়ির সামনে কয়েকটি স্থানে পুরোনো ইটের এলোমেলো স্তূপ দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অভিযোগের বিষয়ে গোলাম কুদ্দুস বলেন, মানুষের বাড়িতে কাজের প্রয়োজনে ইট থাকতেই পারে। তবে ওগুলো কার ইট, সে সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব।