০৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিলাসী জীবন, সাব রেজিস্ট্রার জাকিরের হাজার কোটি টাকার সম্পদ।

একজন সাব রেজিস্ট্রারের বেতন ৪৫ হাজার টাকা। এই টাকায় বর্তমান বাজারে সংসারও চলার কথা না। কিন্তু সাভারের সাব রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন মোহাম্মদপুর তাহমহল রোডে ২৫০০ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট কিনেছেন। যার দাম ২ কোটি টাকার ফ্ল্যাট। নিজে চড়েন ১ কোটি টাকার গাড়িতে। তার স্ত্রী চড়েন ৫০ লাখ টাকার গাড়িতে। জীবন যাপন করেন কোটিপতি ব্যবসায়ীর মত।

অথচ ১ বছর আগেও তার এতো সম্পদ ছিলো না। অতি সম্প্রতি তিনি মিরপুরে একটি ১০ তলা বাড়ি নির্মান করেছেন। যার অনুমানিক মূল্যে ৬ কোটি টাকা।

এছাড়া জাকির এবং তার স্ত্রীর মনিরা সুলতানার একাধিক ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

জাকিরের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়। তার পিতা মোহাম্মদ আলী ও মা নুরজাহান বেগমের নামে মির্জাপুরের নয়াপাড়া, গায়রাবেতিল মৌজায় অন্তত ১০ একর জমি কিনেছেন জাকির। ছোট ভাই আসাদ সিকদারের নামেও বিপুল জমি কিনেছেন জাকির।

কিছু কাগজপত্রে দেখা গেছে, মির্জাপুরের নয়াপাড়া মৌজায় ২৫-৮২৩ নং খতিয়ানে জাকিরের নিজের নামে ১১ শতাংশ জমি রয়েছে। একই খতিয়ানে মনিরা সুলতানার নামে রয়েছে আরো ৬ শতাংশ জমি। মির্জাপুরের গায়রাবেতলি-২০০ মৌজার ২৮১৬ নম্বর খতিয়ানে তার নিজ নামে আরো ১৬ শতাংশ জমি কিনেছেন তিনি।

খাটিয়ার হাট-বাজার এলাকায়ও রয়েছে তার একটি দোতলা মার্কেট। যেখানে ৩০ থেকে ৪০টি দোকান ভাড়া দেয়া। অভিযোগ আছে, পাকা ভবনের ওপরে টিনের চালা দেয়া ওই মার্কেটটি বন বিভাগের জমি দখল করে করা হয়েছে।

এমনকি ৫ বিঘা জমিতে তার বাংলো বাড়িটিও বন বিভাগের জমি দখল করে নির্মান করা হয়েছে। এবং বাড়ির পেছনে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পল্ট্রি মুরগির খামার করেছেন।

মির্জাপুর-কালিয়াকৈড় সীমানায় তার একটি পোল্ট্রি ফার্মও রয়েছে। সেখানে গরুর খামার করার প্রস্তুতি চলছে।

চাকুরি জীবনের দুই বছরের মাথায় নিজ জেলা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে করেছেন
৬ তলা আলিশান বাড়ি। মির্জাপুর উপজেলার বাওয়ার কুমারজানি মৌজার পৌর মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ১ বিঘা জমি কিনেছেন ৫ কোটি টাকা দিয়ে।

শশুড়বাড়ী এলাকায় ৩ একর জমিতে করেছেন মাছের ঘের। স্ত্রী, শশুড় শাশুড়ীর নামেও কয়েক একর জমি কিনেছেন।

এছাড়া নিকট আত্মীয়দের নামে ও বেনামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে করেছেন কোটি কোটি টাকার এফডিআর।

জাকির ছেলেকে পড়াচ্ছেন মোহাম্মদপুরের নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। যার মাসিক বেতন ৩০,০০০ টাকা। তার বর্তমান কর্মস্থল সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে যাতায়াতে করেন ভাড়া চালিত প্রাইভেটকারে যার মাসিক ভাড়া দিতে হয় ৭০,০০০ টাকা। যার নম্বর প্লেট ঢাকা মেট্রো-গ ২৫-৫০৮৬।

চাকুরী শুরু হতেই প্রতিটি অফিসেই জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে রেজিস্ট্রি, ভূয়া দাতা সাজিয়ে জাল দলিল করেছেন, সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাকি দিয়ে, পে-অর্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে নিজে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অংকের টাকা।

সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাভারের বিলামালিয়া মৌজা এবং বড়বরদেশী মৌজার সিলিকন সিটির জমি রেজিষ্ট্রেশন, মিউটেশনের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গত ২ বছর ধরে আদালতের আদেশ বলবৎ থাকলেও জাকির হোসেন সাভারে আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গোপনে দলিল সম্পাদন করছেন। এতে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করছেন।

এছাড়া জাকির হোসেন সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরেন বলে রেজিস্ট্রি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এছাড়া প্রতিদিন দুপুরে লাঞ্চের সময় অফিসে বসে ইয়াবা সেবন করে অফিসের কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার মানববন্ধনও হয়েছে। ইয়াবা সেবনের বিষয়টি তার ডোপ টেস্ট করলেই প্রমানিত হবে।

তিনি অসাধু দলিল লেককদের সাথে সিন্ডিকেট করে জমির শ্রেণী পরিবর্তন সহ নানা, জাল দাতার মাধ্যমে জাল দলিল করা, সরকারী রাজস্ব ফাকি, ভূমি অপরাধ আইন অমান্য করা সহ
নানা অনিয়ম করেন।

জাকির সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী এবং দলিল লেখকদের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ধার নিয়েছেন। এবং সেই টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। দলিল লেখক সমিতির সভাপতির কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা ধার নিয়ে টাকা দিতে নয়ছয় করছেন।

কিভাবে সাভার আসলেন জাকির:

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেন সাভারে আসার আগে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি ৩ কোটি টাকার বিনিময়ে সাভার সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে বদলি হন। তাকে বদলিতে সহায়তা করেন তখনকার আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পিএস শামসুদ্দিন মাসুম।

এই শামসুদ্দিন মাসুমের বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায়। বদলির আগে জাকির হোসেন বানিয়াচং উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে মাসুমের পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে পিএস এর পরিবারের মাধ্যমে সাভারে পেইড পোস্টিং বাগিয়ে নেন জাকির। এতে সাব রেজিস্ট্রার সমিতির নেতারাও অবাক হন।

দুর্নীতির তদন্ত আটকে আছে:

অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে অন্তবর্তি সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ও আইন মন্ত্রণালয়ে জাকিরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। পরে দুই জায়গা থেকেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে লিখিত নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ে মাসুম সিন্ডিকেট জাকিরের দুর্নীতির তদন্ত আটকে দেন। এতে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং আইন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত রিপোর্ট আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

জুলাই হত্যা মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে:

জাকির ছাত্র জীবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। জাকির হোসেনের নামে জুলাই হত্যা মামলা রয়েছে। কদমতলী থানা সিআর মামলা নং- ৩৪৯/২০২৫। জাকির ৫৭ নম্বর আসামি। মামলায় তাকে ছাত্রলীগ নেতা উল্লেখ করা হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বিলাসী জীবন, সাব রেজিস্ট্রার জাকিরের হাজার কোটি টাকার সম্পদ।

Update Time : ০৫:৩০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

একজন সাব রেজিস্ট্রারের বেতন ৪৫ হাজার টাকা। এই টাকায় বর্তমান বাজারে সংসারও চলার কথা না। কিন্তু সাভারের সাব রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন মোহাম্মদপুর তাহমহল রোডে ২৫০০ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট কিনেছেন। যার দাম ২ কোটি টাকার ফ্ল্যাট। নিজে চড়েন ১ কোটি টাকার গাড়িতে। তার স্ত্রী চড়েন ৫০ লাখ টাকার গাড়িতে। জীবন যাপন করেন কোটিপতি ব্যবসায়ীর মত।

অথচ ১ বছর আগেও তার এতো সম্পদ ছিলো না। অতি সম্প্রতি তিনি মিরপুরে একটি ১০ তলা বাড়ি নির্মান করেছেন। যার অনুমানিক মূল্যে ৬ কোটি টাকা।

এছাড়া জাকির এবং তার স্ত্রীর মনিরা সুলতানার একাধিক ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

জাকিরের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়। তার পিতা মোহাম্মদ আলী ও মা নুরজাহান বেগমের নামে মির্জাপুরের নয়াপাড়া, গায়রাবেতিল মৌজায় অন্তত ১০ একর জমি কিনেছেন জাকির। ছোট ভাই আসাদ সিকদারের নামেও বিপুল জমি কিনেছেন জাকির।

কিছু কাগজপত্রে দেখা গেছে, মির্জাপুরের নয়াপাড়া মৌজায় ২৫-৮২৩ নং খতিয়ানে জাকিরের নিজের নামে ১১ শতাংশ জমি রয়েছে। একই খতিয়ানে মনিরা সুলতানার নামে রয়েছে আরো ৬ শতাংশ জমি। মির্জাপুরের গায়রাবেতলি-২০০ মৌজার ২৮১৬ নম্বর খতিয়ানে তার নিজ নামে আরো ১৬ শতাংশ জমি কিনেছেন তিনি।

খাটিয়ার হাট-বাজার এলাকায়ও রয়েছে তার একটি দোতলা মার্কেট। যেখানে ৩০ থেকে ৪০টি দোকান ভাড়া দেয়া। অভিযোগ আছে, পাকা ভবনের ওপরে টিনের চালা দেয়া ওই মার্কেটটি বন বিভাগের জমি দখল করে করা হয়েছে।

এমনকি ৫ বিঘা জমিতে তার বাংলো বাড়িটিও বন বিভাগের জমি দখল করে নির্মান করা হয়েছে। এবং বাড়ির পেছনে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পল্ট্রি মুরগির খামার করেছেন।

মির্জাপুর-কালিয়াকৈড় সীমানায় তার একটি পোল্ট্রি ফার্মও রয়েছে। সেখানে গরুর খামার করার প্রস্তুতি চলছে।

চাকুরি জীবনের দুই বছরের মাথায় নিজ জেলা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে করেছেন
৬ তলা আলিশান বাড়ি। মির্জাপুর উপজেলার বাওয়ার কুমারজানি মৌজার পৌর মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ১ বিঘা জমি কিনেছেন ৫ কোটি টাকা দিয়ে।

শশুড়বাড়ী এলাকায় ৩ একর জমিতে করেছেন মাছের ঘের। স্ত্রী, শশুড় শাশুড়ীর নামেও কয়েক একর জমি কিনেছেন।

এছাড়া নিকট আত্মীয়দের নামে ও বেনামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে করেছেন কোটি কোটি টাকার এফডিআর।

জাকির ছেলেকে পড়াচ্ছেন মোহাম্মদপুরের নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। যার মাসিক বেতন ৩০,০০০ টাকা। তার বর্তমান কর্মস্থল সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে যাতায়াতে করেন ভাড়া চালিত প্রাইভেটকারে যার মাসিক ভাড়া দিতে হয় ৭০,০০০ টাকা। যার নম্বর প্লেট ঢাকা মেট্রো-গ ২৫-৫০৮৬।

চাকুরী শুরু হতেই প্রতিটি অফিসেই জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে রেজিস্ট্রি, ভূয়া দাতা সাজিয়ে জাল দলিল করেছেন, সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাকি দিয়ে, পে-অর্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে নিজে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অংকের টাকা।

সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাভারের বিলামালিয়া মৌজা এবং বড়বরদেশী মৌজার সিলিকন সিটির জমি রেজিষ্ট্রেশন, মিউটেশনের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গত ২ বছর ধরে আদালতের আদেশ বলবৎ থাকলেও জাকির হোসেন সাভারে আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গোপনে দলিল সম্পাদন করছেন। এতে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করছেন।

এছাড়া জাকির হোসেন সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরেন বলে রেজিস্ট্রি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এছাড়া প্রতিদিন দুপুরে লাঞ্চের সময় অফিসে বসে ইয়াবা সেবন করে অফিসের কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার মানববন্ধনও হয়েছে। ইয়াবা সেবনের বিষয়টি তার ডোপ টেস্ট করলেই প্রমানিত হবে।

তিনি অসাধু দলিল লেককদের সাথে সিন্ডিকেট করে জমির শ্রেণী পরিবর্তন সহ নানা, জাল দাতার মাধ্যমে জাল দলিল করা, সরকারী রাজস্ব ফাকি, ভূমি অপরাধ আইন অমান্য করা সহ
নানা অনিয়ম করেন।

জাকির সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী এবং দলিল লেখকদের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ধার নিয়েছেন। এবং সেই টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। দলিল লেখক সমিতির সভাপতির কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা ধার নিয়ে টাকা দিতে নয়ছয় করছেন।

কিভাবে সাভার আসলেন জাকির:

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেন সাভারে আসার আগে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি ৩ কোটি টাকার বিনিময়ে সাভার সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে বদলি হন। তাকে বদলিতে সহায়তা করেন তখনকার আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পিএস শামসুদ্দিন মাসুম।

এই শামসুদ্দিন মাসুমের বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায়। বদলির আগে জাকির হোসেন বানিয়াচং উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে মাসুমের পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে পিএস এর পরিবারের মাধ্যমে সাভারে পেইড পোস্টিং বাগিয়ে নেন জাকির। এতে সাব রেজিস্ট্রার সমিতির নেতারাও অবাক হন।

দুর্নীতির তদন্ত আটকে আছে:

অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে অন্তবর্তি সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ও আইন মন্ত্রণালয়ে জাকিরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। পরে দুই জায়গা থেকেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে লিখিত নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ে মাসুম সিন্ডিকেট জাকিরের দুর্নীতির তদন্ত আটকে দেন। এতে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং আইন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত রিপোর্ট আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

জুলাই হত্যা মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে:

জাকির ছাত্র জীবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। জাকির হোসেনের নামে জুলাই হত্যা মামলা রয়েছে। কদমতলী থানা সিআর মামলা নং- ৩৪৯/২০২৫। জাকির ৫৭ নম্বর আসামি। মামলায় তাকে ছাত্রলীগ নেতা উল্লেখ করা হয়।