০৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ধর্মীয় উগ্রপন্থার দিকে এগুচেছ বাংলাদেশ, ইউনুসের প্রতিবাদ

  • আফরোজ
  • Update Time : ০৮:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • ৫৯৯ Time View

মীর আফরোজ জামান ঢাকা ২ এপ্রিল : ধর্মীয় উগ্রপন্থার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ এ ধরণের একটি বিশ্লেষনমুলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ”দ্য নিউইয়র্ক টাইমস”।  প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশ একটি সংকটাপন্ন রাষ্ট্র এবং দেশটি ইসলামিক উগ্রপন্থীদের একটি বড় ক্ষেত্রের ওপরে দাড়িয়ে ইউনুস সরকার দেশ পরিচারনা করছে। শেখ হাসিনার সরকার এ সকল উগ্রপন্থাকে কঠিন ভাবে দমনে রেখেছিল তাকে বিতারিত করে উগ্র ইসলামিক মৌলবাদের এই ক্ষেত্রটি  অঞ্চলসমূহে বড় ধরণের অশান্তি তৈরিতে সহায়ক হবে। তবে এইসব তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছে ইউনুস সরকারের দপ্তর। মঙ্গলবার এক প্রেস নোটে  দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেদনটি বাস্তবতার সঙ্গে  অসঙ্গতিপূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও একপক্ষীয়। ্এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কোনো ধরনের জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।  বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে  ইউনুসের দপ্তর বলেছে, এটি শুধু রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে সরলীকৃতভাবে তুলে ধরে না, বরং ১৮ কোটি মানুষের একটি জাতিকে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত করে। বাংলাদেশ গত বছর অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে, যা এই প্রতিবেদনে উপেক্ষিত হয়েছে। বরং, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর ও পক্ষপাতদুষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে না।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরেছে ইউনুসের প্রেস উইং।
নিবন্ধে ধর্মীয় উত্তেজনা ও রক্ষণশীলতার কিছু দিক তুলে ধরা হলেও, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকটি উপেক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে, নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নারী সুরক্ষা ও উন্নয়নের প্রতি অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নোটে বলা হয়, ’যুব উৎসব ২০২৫’, যেখানে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে প্রায় ২৭ লাখ মেয়ে ৩ হাজার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ইভেন্টে অংশ নিয়েছে। এ উৎসবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। অথচ একটি ফুটবল ম্যাচের বিরোধিতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২,৯৯৯টি সফল আয়োজনকে উপেক্ষা করা এবং এর ভিত্তিতে বাংলাদেশের সামাজিক অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।  প্রতিবেদনে বলা হয় এই সব উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে ইউনুস সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি যার বড় উদাহরন হলো নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিজবুত তাহরির এর অপতৎপরতা। এই বিষয়টিকে নাকচ করে প্রেস নোটে বলা হয়
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নেননি। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ড. ইউনূস আজীবন নারীর ক্ষমতায়নের জন্য লড়াই করে এসেছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি লাখ লাখ নারীকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। যার স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। একজন দুই কন্যার পিতা হিসেবে ড. ইউনূস সবসময় নারীর অধিকার ও নিরাপত্তার পক্ষে সোচ্চার থেকেছেন। 
হিন্দুদের ওপর আক্রমণ, আহমদিয়া মুসলিমদের বাড়িঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেয়াসহ পাহড়িদের ওপর বর্বরতা চালানো প্রসঙ্গে ইউনুসের দফতর বলছে, শেখ হাসিনার বিদায়ের পর কিছু সংঘর্ষ হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে ক্ষমতার দ্বদ্ধের ফল। কিন্তু এগুলোকে ধর্মীয় সহিংসতা বলে উপস্থাপন করা চরম বিভ্রান্তিকর। প্রেস উইং বলছে,সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে যে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে উগ্রপন্থিদের কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টাগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। বাংলাদেশ বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গত সাত মাসে দেশের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীল রয়েছে এবং টাকার বিনিময় হার ১২৩ টাকা প্রতি ডলারে স্থির রয়েছে। এ ছাড়াও ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজার হয়ে উঠবে। প্রধান উপদেষ্টা গত আট মাস ধরে নিরলসভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। সম্প্রতি তার চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ, বিনিয়োগ ও অনুদান পেয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশটির ভবিষ্যৎ বিশ্বের অন্য দারিদ্র পিড়ীত অঞ্চলের দিকে ধাবিত হচেছ। এটি সম্মুন্ন কল্পনা প্রসুত ও মির্থা। প্রেসনোটে বলা হচেছ, আগামী সপ্তাহে ঢাকায় ‘ইনভেস্টরস কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ৫০টি দেশের ২ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি বিনিয়োগকারী অংশ নেবেন। এতে মেটা, উবার, স্যামসাং-এর মতো বৈশ্বিক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। প্রেসনোটে বলা হয়,
একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় একজন ব্যক্তি শাস্তি না পাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে পুরো দেশকে উগ্রপন্থার শিকার বলে প্রচার করা অন্যায়। ১৮ কোটি মানুষের দেশকে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে বিচার করা ভুল।
বিশ্বের বহু দেশেই উগ্রবাদী গোষ্ঠী সক্রিয়, কিন্তু তাতে ওই দেশগুলোর অগ্রগতিকে খাটো করে দেখা হয় না। একইভাবে, বাংলাদেশও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং গণতন্ত্র ও সামাজিক অগ্রগতির পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে উগ্রপন্থার উত্থান অনিবার্য, যা একেবারেই অতিরঞ্জিত ও ভুল দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা, সক্রিয় নাগরিক সমাজ, তরুণ সমাজ এবং নারী নেতৃত্ব উগ্রপন্থাকে প্রতিহত করছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ৪২ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ আটক ২ নারী

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ধর্মীয় উগ্রপন্থার দিকে এগুচেছ বাংলাদেশ, ইউনুসের প্রতিবাদ

Update Time : ০৮:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

মীর আফরোজ জামান ঢাকা ২ এপ্রিল : ধর্মীয় উগ্রপন্থার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ এ ধরণের একটি বিশ্লেষনমুলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ”দ্য নিউইয়র্ক টাইমস”।  প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশ একটি সংকটাপন্ন রাষ্ট্র এবং দেশটি ইসলামিক উগ্রপন্থীদের একটি বড় ক্ষেত্রের ওপরে দাড়িয়ে ইউনুস সরকার দেশ পরিচারনা করছে। শেখ হাসিনার সরকার এ সকল উগ্রপন্থাকে কঠিন ভাবে দমনে রেখেছিল তাকে বিতারিত করে উগ্র ইসলামিক মৌলবাদের এই ক্ষেত্রটি  অঞ্চলসমূহে বড় ধরণের অশান্তি তৈরিতে সহায়ক হবে। তবে এইসব তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছে ইউনুস সরকারের দপ্তর। মঙ্গলবার এক প্রেস নোটে  দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেদনটি বাস্তবতার সঙ্গে  অসঙ্গতিপূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও একপক্ষীয়। ্এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কোনো ধরনের জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।  বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে  ইউনুসের দপ্তর বলেছে, এটি শুধু রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে সরলীকৃতভাবে তুলে ধরে না, বরং ১৮ কোটি মানুষের একটি জাতিকে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত করে। বাংলাদেশ গত বছর অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে, যা এই প্রতিবেদনে উপেক্ষিত হয়েছে। বরং, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর ও পক্ষপাতদুষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে না।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরেছে ইউনুসের প্রেস উইং।
নিবন্ধে ধর্মীয় উত্তেজনা ও রক্ষণশীলতার কিছু দিক তুলে ধরা হলেও, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকটি উপেক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে, নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নারী সুরক্ষা ও উন্নয়নের প্রতি অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নোটে বলা হয়, ’যুব উৎসব ২০২৫’, যেখানে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে প্রায় ২৭ লাখ মেয়ে ৩ হাজার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ইভেন্টে অংশ নিয়েছে। এ উৎসবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। অথচ একটি ফুটবল ম্যাচের বিরোধিতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২,৯৯৯টি সফল আয়োজনকে উপেক্ষা করা এবং এর ভিত্তিতে বাংলাদেশের সামাজিক অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।  প্রতিবেদনে বলা হয় এই সব উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে ইউনুস সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি যার বড় উদাহরন হলো নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিজবুত তাহরির এর অপতৎপরতা। এই বিষয়টিকে নাকচ করে প্রেস নোটে বলা হয়
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নেননি। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ড. ইউনূস আজীবন নারীর ক্ষমতায়নের জন্য লড়াই করে এসেছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি লাখ লাখ নারীকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। যার স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। একজন দুই কন্যার পিতা হিসেবে ড. ইউনূস সবসময় নারীর অধিকার ও নিরাপত্তার পক্ষে সোচ্চার থেকেছেন। 
হিন্দুদের ওপর আক্রমণ, আহমদিয়া মুসলিমদের বাড়িঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেয়াসহ পাহড়িদের ওপর বর্বরতা চালানো প্রসঙ্গে ইউনুসের দফতর বলছে, শেখ হাসিনার বিদায়ের পর কিছু সংঘর্ষ হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে ক্ষমতার দ্বদ্ধের ফল। কিন্তু এগুলোকে ধর্মীয় সহিংসতা বলে উপস্থাপন করা চরম বিভ্রান্তিকর। প্রেস উইং বলছে,সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে যে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে উগ্রপন্থিদের কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টাগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। বাংলাদেশ বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গত সাত মাসে দেশের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীল রয়েছে এবং টাকার বিনিময় হার ১২৩ টাকা প্রতি ডলারে স্থির রয়েছে। এ ছাড়াও ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজার হয়ে উঠবে। প্রধান উপদেষ্টা গত আট মাস ধরে নিরলসভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। সম্প্রতি তার চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ, বিনিয়োগ ও অনুদান পেয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশটির ভবিষ্যৎ বিশ্বের অন্য দারিদ্র পিড়ীত অঞ্চলের দিকে ধাবিত হচেছ। এটি সম্মুন্ন কল্পনা প্রসুত ও মির্থা। প্রেসনোটে বলা হচেছ, আগামী সপ্তাহে ঢাকায় ‘ইনভেস্টরস কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ৫০টি দেশের ২ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি বিনিয়োগকারী অংশ নেবেন। এতে মেটা, উবার, স্যামসাং-এর মতো বৈশ্বিক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। প্রেসনোটে বলা হয়,
একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় একজন ব্যক্তি শাস্তি না পাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে পুরো দেশকে উগ্রপন্থার শিকার বলে প্রচার করা অন্যায়। ১৮ কোটি মানুষের দেশকে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে বিচার করা ভুল।
বিশ্বের বহু দেশেই উগ্রবাদী গোষ্ঠী সক্রিয়, কিন্তু তাতে ওই দেশগুলোর অগ্রগতিকে খাটো করে দেখা হয় না। একইভাবে, বাংলাদেশও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং গণতন্ত্র ও সামাজিক অগ্রগতির পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে উগ্রপন্থার উত্থান অনিবার্য, যা একেবারেই অতিরঞ্জিত ও ভুল দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা, সক্রিয় নাগরিক সমাজ, তরুণ সমাজ এবং নারী নেতৃত্ব উগ্রপন্থাকে প্রতিহত করছে।