১২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক মাসে আন্তঃব্যাংক লেনদেন কমেছে লাখ কোটি টাকা, মূল কারণ মন্দা ও তারল্য সংকট

চলমান অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তঃব্যাংক লেনদেন কমে গেছে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জানুয়ারি মাসে যেখানে আন্তঃব্যাংকে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৬০ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা, সেখানে ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে এসেছে ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে   “১ লাখ ১৩ হাজার ৯৯ কোটি টাকা”।

তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তঃব্যাংক লেনদেন ছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ২১৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা—বৃদ্ধি হয়েছে “৪৪ হাজার ৪০২ কোটি টাকা”।

কেন কমছে লেনদেন?

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগে ভাটা, তারল্য সংকট এবং ব্যাংকগুলোতে বেড়ে যাওয়া অনিয়মের কারণে অর্থনৈতিক গতিশীলতা কমেছে। বিশেষ করে সরকারি দলের সময়ে সংঘটিত কিছু কেলেঙ্কারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি ব্যাংক স্বাভাবিকভাবে ঋণ বিতরণ ও আন্তঃব্যাংক লেনদেনে অংশ নিতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তঃব্যাংকে লেনদেনের পরিমাণ সাধারণত ব্যাংক খাতের সুস্থতা এবং অর্থনীতির কার্যক্রমের গতি বোঝায়। লেনদেন বাড়া মানে ব্যাংকগুলোর মধ্যে আস্থা ও সক্রিয়তা বেড়েছে। আর লেনদেন কমা মানেই সংকোচন, আস্থাহীনতা এবং অর্থনৈতিক মন্থরতা।

 মাসভিত্তিক লেনদেনের ওঠানামা

২০২৪ সালের নভেম্বর ৬ লাখ ৫২ হাজার ৪২৩ কোটি  টাকা ডিসেম্বর ৭ লাখ ২৯ হাজার ৮০ কোটি টাকা জানুয়ারি  ৭ লাখ ৬০ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা ফেব্রুয়ারি ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত লেনদেন বাড়লেও, ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ বড় ধস নেমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্চ ও পরবর্তী মাসগুলোতেও যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে তা অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠতে পারে।

তারা আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে দুর্নীতি দমন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং বেসরকারি খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ৪২ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ আটক ২ নারী

এক মাসে আন্তঃব্যাংক লেনদেন কমেছে লাখ কোটি টাকা, মূল কারণ মন্দা ও তারল্য সংকট

Update Time : ১২:৫২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫

চলমান অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তঃব্যাংক লেনদেন কমে গেছে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জানুয়ারি মাসে যেখানে আন্তঃব্যাংকে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৬০ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা, সেখানে ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে এসেছে ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে   “১ লাখ ১৩ হাজার ৯৯ কোটি টাকা”।

তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তঃব্যাংক লেনদেন ছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ২১৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা—বৃদ্ধি হয়েছে “৪৪ হাজার ৪০২ কোটি টাকা”।

কেন কমছে লেনদেন?

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগে ভাটা, তারল্য সংকট এবং ব্যাংকগুলোতে বেড়ে যাওয়া অনিয়মের কারণে অর্থনৈতিক গতিশীলতা কমেছে। বিশেষ করে সরকারি দলের সময়ে সংঘটিত কিছু কেলেঙ্কারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি ব্যাংক স্বাভাবিকভাবে ঋণ বিতরণ ও আন্তঃব্যাংক লেনদেনে অংশ নিতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তঃব্যাংকে লেনদেনের পরিমাণ সাধারণত ব্যাংক খাতের সুস্থতা এবং অর্থনীতির কার্যক্রমের গতি বোঝায়। লেনদেন বাড়া মানে ব্যাংকগুলোর মধ্যে আস্থা ও সক্রিয়তা বেড়েছে। আর লেনদেন কমা মানেই সংকোচন, আস্থাহীনতা এবং অর্থনৈতিক মন্থরতা।

 মাসভিত্তিক লেনদেনের ওঠানামা

২০২৪ সালের নভেম্বর ৬ লাখ ৫২ হাজার ৪২৩ কোটি  টাকা ডিসেম্বর ৭ লাখ ২৯ হাজার ৮০ কোটি টাকা জানুয়ারি  ৭ লাখ ৬০ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা ফেব্রুয়ারি ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত লেনদেন বাড়লেও, ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ বড় ধস নেমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্চ ও পরবর্তী মাসগুলোতেও যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে তা অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠতে পারে।

তারা আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে দুর্নীতি দমন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং বেসরকারি খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।