০৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪৫৮ Time View


স্টাফ রিপোর্টার :


মানিকগঞ্জ, শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রায় ১১ লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ  দেয়া হয়েছে। যদিও প্রধান শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করেন।
জানা গেছে,২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মোঃ ইসমাইল হোসেন নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। চাকুরিতে যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি শুরু করেন। সচেতন অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ এ নিয়ে আপত্তি তুললেও তিনি কর্ণপাত না করে স্বেচ্ছাচারিভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে থাকেন। ভূক্তভোগী অনেকেই এ অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেও তেমন ফল পাওয়া যায়নি। স্থানীয় একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় প্রধান শিক্ষক দুর্নীতির মাত্রা বাড়িয়ে তোলেন।

এতে, শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম-দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ উঠে। উক্ত প্রধান শিক্ষক ২০০৮ সালে মানিকগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামীলীগ দলীয় এমপি এবিএম আনোয়ারুল হকের নিকট আত্মীয় পরিচয়ে ইসমাইল হোসেন নানা তদবির চালিয়ে ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। তার নিয়োগ ওই সময় নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, অর্থ ঘুষ প্রদানের অভিযোগ ওঠে।
তার পর থেকে ইসমাইল হোসেন স্বেচ্ছাচারিভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে থাকা এক পর্যায়ে বিভিন্ন ভূঁইফোড়, নাম সর্বস্ব সংগঠনের  মাধ্যমে অন্তত ১৮টি সম্মাননা-ক্রেস্ট গ্রহণের বিষয়ে স্থানীয় মহলে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়।
এতদসত্তে¡ও নানা দূর্নীতির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে ঢিলে-ঢালা ভাবের কারণে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। অনেক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ পর্যন্ত ৪ দফায় ৫ মাসের  বেতন কর্তন করা হয়েছে।
অথচ, এলাকার ভূক্তভোগীদের পক্ষ থেকে চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল, জুন, আগস্ট ও নভেম্বর মাসে স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও শিক্ষকদের দেয়া লিখিত অভিযোগ শিক্ষা বিভাগসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তার দপ্তরে  দেয়া হয়েছে।  এছাড়া, বিদ্যালয় পরিচালনা এডহক কমিটির সভাপতি শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত  অভিযোগের পরবর্তী কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।    
জানা গেছে, অর্থ আত্মসাৎ, সরকারী অর্থের অপচয়, বিধিবর্হিভূতভাবে অর্থ আদায়, কম্পিউটার ল্যাবের অযতœ-অবহেলা, সরকারী পরিপত্র অমান্য করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা-মাউসি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাধ্যমিক-২ এসএম মোসলেম উদ্দিন স্বাক্ষরিত পত্রে দুই মাসের বেতন কর্তন করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ভর্তি ফরমের মূল্য বেশি নেওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকগণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের তার বেতন ভাতা (সরকারী অংশ) কর্তন করা হয়।  
নয়াবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী রুস্তম আলী খানের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি-এসএমসির দাতা ভোটার গ্রহণে অনিময়, স্কুলের আয়-ব্যায়ে অসংগতি, সহকারী শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা ইত্যাদি অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ডিসেম্বর ২০২৩ এর বেতন ভাতার সরকারী অংশ কর্তন করা হয়। 
এছাড়া, স্কুলের নামে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদানের ৩০ হাজার টাকা ও স্কুল মাঠ সংস্কারের জন্য যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২০২৩ সালে মে মাসে তার বেতন ভাতা (সরকারী অংশ) কর্তন করা হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা পেয়ে এ যাবৎ ৫ মাসের বেতন কর্তনের আদেশ দিয়েছেন।  এছাড়া, বিদ্যালয়ের টাকায় ব্যক্তিগত ১৮টি মামলা পরিচালনাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ১১ লক্ষ টাকার দুর্নীতিসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ভূক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।   

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ৪২ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ আটক ২ নারী

নয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ

Update Time : ০৪:০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫


স্টাফ রিপোর্টার :


মানিকগঞ্জ, শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রায় ১১ লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ  দেয়া হয়েছে। যদিও প্রধান শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করেন।
জানা গেছে,২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মোঃ ইসমাইল হোসেন নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। চাকুরিতে যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি শুরু করেন। সচেতন অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ এ নিয়ে আপত্তি তুললেও তিনি কর্ণপাত না করে স্বেচ্ছাচারিভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে থাকেন। ভূক্তভোগী অনেকেই এ অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেও তেমন ফল পাওয়া যায়নি। স্থানীয় একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় প্রধান শিক্ষক দুর্নীতির মাত্রা বাড়িয়ে তোলেন।

এতে, শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম-দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ উঠে। উক্ত প্রধান শিক্ষক ২০০৮ সালে মানিকগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামীলীগ দলীয় এমপি এবিএম আনোয়ারুল হকের নিকট আত্মীয় পরিচয়ে ইসমাইল হোসেন নানা তদবির চালিয়ে ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। তার নিয়োগ ওই সময় নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, অর্থ ঘুষ প্রদানের অভিযোগ ওঠে।
তার পর থেকে ইসমাইল হোসেন স্বেচ্ছাচারিভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে থাকা এক পর্যায়ে বিভিন্ন ভূঁইফোড়, নাম সর্বস্ব সংগঠনের  মাধ্যমে অন্তত ১৮টি সম্মাননা-ক্রেস্ট গ্রহণের বিষয়ে স্থানীয় মহলে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়।
এতদসত্তে¡ও নানা দূর্নীতির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে ঢিলে-ঢালা ভাবের কারণে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। অনেক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ পর্যন্ত ৪ দফায় ৫ মাসের  বেতন কর্তন করা হয়েছে।
অথচ, এলাকার ভূক্তভোগীদের পক্ষ থেকে চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল, জুন, আগস্ট ও নভেম্বর মাসে স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও শিক্ষকদের দেয়া লিখিত অভিযোগ শিক্ষা বিভাগসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তার দপ্তরে  দেয়া হয়েছে।  এছাড়া, বিদ্যালয় পরিচালনা এডহক কমিটির সভাপতি শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত  অভিযোগের পরবর্তী কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।    
জানা গেছে, অর্থ আত্মসাৎ, সরকারী অর্থের অপচয়, বিধিবর্হিভূতভাবে অর্থ আদায়, কম্পিউটার ল্যাবের অযতœ-অবহেলা, সরকারী পরিপত্র অমান্য করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা-মাউসি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাধ্যমিক-২ এসএম মোসলেম উদ্দিন স্বাক্ষরিত পত্রে দুই মাসের বেতন কর্তন করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ভর্তি ফরমের মূল্য বেশি নেওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকগণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের তার বেতন ভাতা (সরকারী অংশ) কর্তন করা হয়।  
নয়াবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী রুস্তম আলী খানের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি-এসএমসির দাতা ভোটার গ্রহণে অনিময়, স্কুলের আয়-ব্যায়ে অসংগতি, সহকারী শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা ইত্যাদি অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ডিসেম্বর ২০২৩ এর বেতন ভাতার সরকারী অংশ কর্তন করা হয়। 
এছাড়া, স্কুলের নামে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদানের ৩০ হাজার টাকা ও স্কুল মাঠ সংস্কারের জন্য যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২০২৩ সালে মে মাসে তার বেতন ভাতা (সরকারী অংশ) কর্তন করা হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা পেয়ে এ যাবৎ ৫ মাসের বেতন কর্তনের আদেশ দিয়েছেন।  এছাড়া, বিদ্যালয়ের টাকায় ব্যক্তিগত ১৮টি মামলা পরিচালনাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ১১ লক্ষ টাকার দুর্নীতিসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ভূক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।