০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচিত যুবলীগ নেতা তুর্য, অবশেষে গ্রেপ্তার।

  • শাহীনুল হক।
  • Update Time : ০৯:৪৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৯৪ Time View

ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও উত্তরায় ধারাবাহিক নাশকতা, সহিংসতা ও আতঙ্ক সৃষ্টির নেপথ্যে থাকা এক যুবলীগ নেতাকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি সাভার থানা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী আহমেদ ফয়সাল নাঈম তুর্য (৩০)। তিনি মজিদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মৃত আবু আহমেদ নাসিম পাভেলের ছেলে।

পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া আলোচিত ছয়টি মামলার এজাহারনামীয় আসামি তিনি। এসব মামলায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, নাশকতা ও সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বারবার উঠে আসে আহমেদ ফয়সাল নাঈম তুর্যের নাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার ভূমিকা যাচাই করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন আগারগাঁও পানির ট্যাংকির মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা জেলা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাভার মডেল থানা পুলিশ ও ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

শনিবার সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে তার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সাইদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আহমেদ ফয়সাল নাঈম তুর্যকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ডে নাশকতা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সহযোগী, অর্থের উৎস এবং পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই যুবলীগ নেতার গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত ছাত্রদের স্বজন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী বলেন, “আহমেদ ফয়সাল নাঈম তুর্যের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা জুলাই মাসসহ গত ৪ ও ৫ আগস্ট সাভারে জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী সাভার উপজেলার পতিত চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব এবং ঢাকা-১৯ আসনের পতিত সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক ছাত্র-জনতা শহিদ হন এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান-৬ জুয়াড়ি আটক

আলোচিত যুবলীগ নেতা তুর্য, অবশেষে গ্রেপ্তার।

Update Time : ০৯:৪৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও উত্তরায় ধারাবাহিক নাশকতা, সহিংসতা ও আতঙ্ক সৃষ্টির নেপথ্যে থাকা এক যুবলীগ নেতাকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি সাভার থানা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী আহমেদ ফয়সাল নাঈম তুর্য (৩০)। তিনি মজিদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মৃত আবু আহমেদ নাসিম পাভেলের ছেলে।

পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া আলোচিত ছয়টি মামলার এজাহারনামীয় আসামি তিনি। এসব মামলায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, নাশকতা ও সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বারবার উঠে আসে আহমেদ ফয়সাল নাঈম তুর্যের নাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার ভূমিকা যাচাই করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন আগারগাঁও পানির ট্যাংকির মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা জেলা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাভার মডেল থানা পুলিশ ও ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

শনিবার সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে তার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সাইদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আহমেদ ফয়সাল নাঈম তুর্যকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ডে নাশকতা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সহযোগী, অর্থের উৎস এবং পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই যুবলীগ নেতার গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত ছাত্রদের স্বজন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী বলেন, “আহমেদ ফয়সাল নাঈম তুর্যের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা জুলাই মাসসহ গত ৪ ও ৫ আগস্ট সাভারে জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী সাভার উপজেলার পতিত চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব এবং ঢাকা-১৯ আসনের পতিত সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক ছাত্র-জনতা শহিদ হন এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন।