১২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় দিগন্তজোড়া সূর্যমুখী কৃষিতে হলুদ বিপ্লব,বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি


মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের কাওড়া গ্রামের চৌগাছা এলাকায়
বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। যেদিকে চোখ যায়,শুধু সোনালি সূর্যমুখীর সমারোহ।
কম ফলনশীল জমি আজ রূপ নিয়েছে সম্ভাবনার
উর্বর ভান্ডারে। কৃষকের মুখে হাসি,মাঠে কর্মচাঞ্চল্য-সব মিলিয়ে এলাকায় বইছে কৃষি জাগরণের নতুন হাওয়া।

উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের কাওড়া
গ্রামের পাঁচজন কৃষক সবাই মিলে একত্রিত হয়ে
দুই একরের বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন।
কৃষকরা হচ্ছেন,সঞ্জয় বিশ্বাস,নাজমুল শেখ,
আরব শেখ,আতিকুল শেখ,সোলাইমান শেখ ও
গোপাল বিশ্বাস সূর্যমুখী আরডিএস-২৭২
মৌসুম রবি-২৫,কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষ করেছেন তারা।

মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে উন্নত জাতের বীজ,সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং সময়োপযোগী পরিচর্যার মাধ্যমে চাষাবাদ পরিচালিত হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
কাওড়া গ্রামের কৃষক আরব শেখ বলেন,
গতবছর সূর্যমুখী যারা চাষ করেছে তাদের ফলন বেশি হওয়ায় আমি এবার সূর্যমুখী চাষ করেছি।
ফলন ভালো হলে আগামীবার আরো বড় পরিসরে সূর্যমুখী চাষ করব।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী,সূর্যমুখী চাষে ধানের তুলনায় সেচের প্রয়োজন কম এবং জমিতে পানি জমে থাকলে ক্ষতির আশঙ্কাও কম। তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘায় তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বাড়ছে-এটিও কৃষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়,অনেক কৃষক আগে একমাত্র ধান বা পাটের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
এখন ফসল বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে সূর্যমুখী যুক্ত হওয়ায় ঝুঁকি কমছে এবং আয় বাড়ছে।এতে মৌসুমি কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে,রোপণ,আগাছা পরিষ্কার ও ফসল সংগ্রহে স্থানীয় শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছেন।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি সূর্যমুখীর মাঠ এখন দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন বিকেলে সূর্যমুখী ফুল দেখতে ছবি তুলতে এবং ভিডিও করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে মাঠে ঘুরতে আসছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি বা ভিডিও প্রচার হওয়ায় এলাকার পরিচিতিও বাড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার পিযুষ রায় বলেন,
কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় বালিদিয়া ইউনিয়নের কাওরা গ্রামে সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে।জমিতে প্রায় পঞ্চাশ পারসেন্ট ফুল ফুটেছে
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি ফুল ফুটে যাবে ।
পাঁচজন কৃষক মিলে দুই একরের বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করছেন। সূর্যমুখী তেলে কোলেস্টোরাল ফ্রি এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকার-অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ এই সূর্যমুখী তেল ক্রয় করেন ।

দিগন্তজোড়া হলুদ ফুল যেন এক নতুন বার্তা দিচ্ছে-সঠিক দিকনির্দেশনা,আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং কৃষকের অদম্য পরিশ্রম গ্রামবাংলার মাটিতেই সম্ভব টেকসই উন্নয়ন।মহম্মদপুরে সূর্যমুখী ক্ষেত তাই শুধু একটি ফসলের গল্প নয়,এটি সম্ভাবনা, আত্মবিশ্বাস ও স্বনির্ভরতার এক উজ্জ্বল প্রতীক।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ৪২ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ আটক ২ নারী

মাগুরায় দিগন্তজোড়া সূর্যমুখী কৃষিতে হলুদ বিপ্লব,বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

Update Time : ০৪:০৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬


মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের কাওড়া গ্রামের চৌগাছা এলাকায়
বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। যেদিকে চোখ যায়,শুধু সোনালি সূর্যমুখীর সমারোহ।
কম ফলনশীল জমি আজ রূপ নিয়েছে সম্ভাবনার
উর্বর ভান্ডারে। কৃষকের মুখে হাসি,মাঠে কর্মচাঞ্চল্য-সব মিলিয়ে এলাকায় বইছে কৃষি জাগরণের নতুন হাওয়া।

উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের কাওড়া
গ্রামের পাঁচজন কৃষক সবাই মিলে একত্রিত হয়ে
দুই একরের বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন।
কৃষকরা হচ্ছেন,সঞ্জয় বিশ্বাস,নাজমুল শেখ,
আরব শেখ,আতিকুল শেখ,সোলাইমান শেখ ও
গোপাল বিশ্বাস সূর্যমুখী আরডিএস-২৭২
মৌসুম রবি-২৫,কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষ করেছেন তারা।

মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে উন্নত জাতের বীজ,সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং সময়োপযোগী পরিচর্যার মাধ্যমে চাষাবাদ পরিচালিত হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
কাওড়া গ্রামের কৃষক আরব শেখ বলেন,
গতবছর সূর্যমুখী যারা চাষ করেছে তাদের ফলন বেশি হওয়ায় আমি এবার সূর্যমুখী চাষ করেছি।
ফলন ভালো হলে আগামীবার আরো বড় পরিসরে সূর্যমুখী চাষ করব।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী,সূর্যমুখী চাষে ধানের তুলনায় সেচের প্রয়োজন কম এবং জমিতে পানি জমে থাকলে ক্ষতির আশঙ্কাও কম। তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘায় তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বাড়ছে-এটিও কৃষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়,অনেক কৃষক আগে একমাত্র ধান বা পাটের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
এখন ফসল বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে সূর্যমুখী যুক্ত হওয়ায় ঝুঁকি কমছে এবং আয় বাড়ছে।এতে মৌসুমি কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে,রোপণ,আগাছা পরিষ্কার ও ফসল সংগ্রহে স্থানীয় শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছেন।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি সূর্যমুখীর মাঠ এখন দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন বিকেলে সূর্যমুখী ফুল দেখতে ছবি তুলতে এবং ভিডিও করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে মাঠে ঘুরতে আসছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি বা ভিডিও প্রচার হওয়ায় এলাকার পরিচিতিও বাড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার পিযুষ রায় বলেন,
কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় বালিদিয়া ইউনিয়নের কাওরা গ্রামে সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে।জমিতে প্রায় পঞ্চাশ পারসেন্ট ফুল ফুটেছে
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি ফুল ফুটে যাবে ।
পাঁচজন কৃষক মিলে দুই একরের বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করছেন। সূর্যমুখী তেলে কোলেস্টোরাল ফ্রি এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকার-অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ এই সূর্যমুখী তেল ক্রয় করেন ।

দিগন্তজোড়া হলুদ ফুল যেন এক নতুন বার্তা দিচ্ছে-সঠিক দিকনির্দেশনা,আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং কৃষকের অদম্য পরিশ্রম গ্রামবাংলার মাটিতেই সম্ভব টেকসই উন্নয়ন।মহম্মদপুরে সূর্যমুখী ক্ষেত তাই শুধু একটি ফসলের গল্প নয়,এটি সম্ভাবনা, আত্মবিশ্বাস ও স্বনির্ভরতার এক উজ্জ্বল প্রতীক।