০৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দোকান বন্ধ করেই থেমে গেল জীবনের পথচলা: বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল নান্নু মিয়ার

নিয়ম করে প্রতিদিন দোকান বন্ধ করে ঘরে ফিরতেন। সেদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু রোববার রাতের সেই পথই হয়ে উঠল ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার প্রবীণ মুদি দোকানি নান্নু মিয়ার জীবনের শেষ যাত্রা।

বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে প্রায় ২০ হাত টেনে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সোমবার সকালে হার মানলেন ৬৫ বছরের নান্নু মিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বুড়াইচ নতুন বাজারের মুদি দোকান গুটিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন মালিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা নান্নু মিয়া। হঠাৎই পেছন থেকে ছুটে আসা দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজোরে ধাক্কা মারে তাকে।

প্রত্যক্ষদর্শী রঞ্জু কাঁপা গলায় বলেন, বাইকটা ছিল পাগলা ঘোড়ার মতো। ধাক্কা দিয়ে নান্নু চাচাকে প্রায় ২০ হাত টেনে নিয়ে গেল। ঘটনাস্থলেই রক্তে ভেসে যায় রাস্তা। এত ভয়ংকর দৃশ্য জীবনে দেখিনি।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রথমে তাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কিন্তু মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাতের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাকে। সোমবার সকাল ১১টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নান্নু মিয়া আলফাডাঙ্গার সমকাল প্রতিনিধি ইকবাল হোসেনের আপন মামা। তিনি মালিডাঙ্গা গ্রামের মৃত ওহাব মিয়া ওরফে মাস্টারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে বুড়াইচ নতুন বাজারে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মুদি ব্যবসা করে আসছিলেন।

এলাকাবাসীর কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ। কারও সঙ্গে উচ্চবাচ্য ছিল না, সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন।

তার মৃত্যুতে তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে গড়া সংসারে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে মালিডাঙ্গা গ্রামের বাতাস।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, রাত হলেই আলফাডাঙ্গার সড়কে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

তারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার স্থাপন, রাতের টহল জোরদার এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।যাতে আর কোনো নান্নু মিয়াকে দোকান বন্ধ করে ঘরে ফেরার পথে এভাবে থেমে যেতে না হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে ​নহাটা ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির যুগপূর্তিতে মাদকবিরোধী র‍্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

দোকান বন্ধ করেই থেমে গেল জীবনের পথচলা: বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল নান্নু মিয়ার

Update Time : ০১:৩৬:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

নিয়ম করে প্রতিদিন দোকান বন্ধ করে ঘরে ফিরতেন। সেদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু রোববার রাতের সেই পথই হয়ে উঠল ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার প্রবীণ মুদি দোকানি নান্নু মিয়ার জীবনের শেষ যাত্রা।

বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে প্রায় ২০ হাত টেনে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সোমবার সকালে হার মানলেন ৬৫ বছরের নান্নু মিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বুড়াইচ নতুন বাজারের মুদি দোকান গুটিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন মালিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা নান্নু মিয়া। হঠাৎই পেছন থেকে ছুটে আসা দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজোরে ধাক্কা মারে তাকে।

প্রত্যক্ষদর্শী রঞ্জু কাঁপা গলায় বলেন, বাইকটা ছিল পাগলা ঘোড়ার মতো। ধাক্কা দিয়ে নান্নু চাচাকে প্রায় ২০ হাত টেনে নিয়ে গেল। ঘটনাস্থলেই রক্তে ভেসে যায় রাস্তা। এত ভয়ংকর দৃশ্য জীবনে দেখিনি।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রথমে তাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কিন্তু মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাতের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাকে। সোমবার সকাল ১১টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নান্নু মিয়া আলফাডাঙ্গার সমকাল প্রতিনিধি ইকবাল হোসেনের আপন মামা। তিনি মালিডাঙ্গা গ্রামের মৃত ওহাব মিয়া ওরফে মাস্টারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে বুড়াইচ নতুন বাজারে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মুদি ব্যবসা করে আসছিলেন।

এলাকাবাসীর কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ। কারও সঙ্গে উচ্চবাচ্য ছিল না, সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন।

তার মৃত্যুতে তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে গড়া সংসারে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে মালিডাঙ্গা গ্রামের বাতাস।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, রাত হলেই আলফাডাঙ্গার সড়কে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

তারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার স্থাপন, রাতের টহল জোরদার এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।যাতে আর কোনো নান্নু মিয়াকে দোকান বন্ধ করে ঘরে ফেরার পথে এভাবে থেমে যেতে না হয়।