০১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেট অধিবেশন শুরু: চোখ এখন অর্থমন্ত্রীর দিকে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন শুরুর আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের সময়কাল ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে। প্রথা অনুযায়ী, আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন। এরপর দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে ৩০ জুন বাজেটটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তুতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই বাজেটের বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজস্ব ও ব্যয়ের ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার খাতগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এই খাতে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা বেশি।

খাতভিত্তিক বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:

  • বিদ্যুৎ খাত: ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
  • সার আমদানি: ২৭ হাজার কোটি টাকা।
  • খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা: নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
  • রেমিট্যান্স প্রণোদনা: বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়াতে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা (যা চলতি বছরের তুলনায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি)।
  • রপ্তানি প্রণোদনা: ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কৃষি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া এলএনজি আমদানির জন্যও উল্লেখযোগ্য অর্থ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সরকার ধীরে ধীরে ওএমএস ও টিসিবির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ ও শর্তাবলি বিবেচনায় রেখে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার পাশাপাশি বাংলাদেশ নতুন করে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণের জন্য আবেদন জানিয়েছে।

সার্বিক দিক বিবেচনায়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান স্থিতিশীল রাখাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কালকিনিতে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী রবিউলের পাশে কাতার প্রবাসী সমাজসেবক অমল বাড়ৈ

বাজেট অধিবেশন শুরু: চোখ এখন অর্থমন্ত্রীর দিকে

Update Time : ০২:২৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন শুরুর আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের সময়কাল ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে। প্রথা অনুযায়ী, আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন। এরপর দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে ৩০ জুন বাজেটটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তুতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই বাজেটের বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজস্ব ও ব্যয়ের ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার খাতগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এই খাতে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা বেশি।

খাতভিত্তিক বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:

  • বিদ্যুৎ খাত: ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
  • সার আমদানি: ২৭ হাজার কোটি টাকা।
  • খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা: নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
  • রেমিট্যান্স প্রণোদনা: বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়াতে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা (যা চলতি বছরের তুলনায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি)।
  • রপ্তানি প্রণোদনা: ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কৃষি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া এলএনজি আমদানির জন্যও উল্লেখযোগ্য অর্থ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সরকার ধীরে ধীরে ওএমএস ও টিসিবির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ ও শর্তাবলি বিবেচনায় রেখে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার পাশাপাশি বাংলাদেশ নতুন করে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণের জন্য আবেদন জানিয়েছে।

সার্বিক দিক বিবেচনায়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান স্থিতিশীল রাখাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।