ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নওয়াপাড়া মৌজায় অবস্থিত মারকাযুল কুরআন ও এতিমখানা মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গরুর গলার রশি দিয়ে টেনে নির্যাতনের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাওছার মৃধা ওরফে কাওছার মোল্লা (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে নওয়াপাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত মোতাহের মৃধার ছেলে এবং স্থানীয় কুচিয়াগ্রাম বটতলা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী। নির্যাতনের শিকার শিশু তামিম আহমেদ নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাওছার মৃধা তার একটি গরু মাদ্রাসার মাঠে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেন। গরুটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে লাগানো কয়েকটি চারা গাছ নষ্ট করলে তামিমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী গরুটিকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কাওছার মৃধা।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তিনি গরুটি নিয়ে এসে শিশু তামিমের গলা ও কোমরে রশি বেঁধে দেন। এরপর গরুটিকে তাড়া করলে আতঙ্কিত প্রাণীটি শিশুটিকে মাটিতে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রশি খুলে গেলে শিশুটি প্রাণে রক্ষা পায়। এরপরও অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটির দিকে মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় শিশুটির গলায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে এবং মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়।

মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ ইসমাইল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন নির্মম আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মানবতার চরম অবমাননা। গাছের সঙ্গে ধাক্কা না লাগলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ঘটনার পর শুক্রবার সকালে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও নির্যাতনের ভয়াবহতা দেখে ক্ষুব্ধ স্থানীয় যুবসমাজ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় এবং সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের শিকার শিশুটির ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় পুরো আলফাডাঙ্গা জুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। স্থানীয়রা দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: 

















