০৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় চিকিৎসকের গাড়ি পুড়িয়ে দিল আ.লীগ নেতা

ঢাকার আশুলিয়ায় মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ কায়কোবাদ হোসেন রাসেলের ব্যক্তিগত গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত (২৭ মার্চ) রাত ২টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উনাইল গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ডাঃ কায়কোবাদ হোসেন রাসেল ধামসোনা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজী মোঃ আব্বাস উদ্দিনের ছেলে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটাতে তিনি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে তার ঢাকা মেট্রো-গ ৩৭-৩৩০২ নম্বরের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারটি রাখা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, রাত ২টার দিকে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই গাড়িটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান ডা. রাসেলের চাচাতো ভাই ডাঃ সোহেল আরমান ও মোঃ নিজাম উদ্দিন। তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার এক মাস আগে ডা. রাসেলের নির্মাণাধীন মার্কেট থেকে সাবমারসিবল পাম্প ও তিন টন রড চুরির ঘটনাও ঘটে, যেখানে একই অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ডা. রাসেলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাবা হাজী মোঃ আব্বাস উদ্দিন, চাচা আফাজ উদ্দিন, ইমতিয়াজ উদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যদের গুরুতর আহত করা হয়। ওই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং পরবর্তীতে আদালত হানিফ মিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও তার ভাই নুর উদ্দিনকে ৭ বছরের কারাদণ্ডসহ অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে। অভিযোগ রয়েছে, মামলা তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন হানিফ মিয়া ও তার লোকজন। মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রতিশোধমূলকভাবে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত হানিফ মিয়া পলাতক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের অনুসারী এবং এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা, নিরীহ মানুষকে মারধর ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, নারী নির্যাতনসহ এসব ঘটনায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, ডাঃ কায়কোবাদ হোসেন রাসেল জুলাই আন্দোলনের সময় আশুলিয়া এলাকায় আহতদের নিজস্ব উদ্যোগে তার মালিকানাধীন সাহারা মডার্ন হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। শহীদদের লাশ পরিবহনে তিনি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান করেন এবং নিয়মিত এলাকাবাসীর জন্য মাসে একবার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সবার ভালোবাসা অর্জন করেছেন। একজন মানবিক চিকিৎসকের ওপর এমন নৃশংস ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং অভিযুক্তদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ৪২ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ আটক ২ নারী

আশুলিয়ায় চিকিৎসকের গাড়ি পুড়িয়ে দিল আ.লীগ নেতা

Update Time : ০৭:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ কায়কোবাদ হোসেন রাসেলের ব্যক্তিগত গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত (২৭ মার্চ) রাত ২টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উনাইল গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ডাঃ কায়কোবাদ হোসেন রাসেল ধামসোনা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজী মোঃ আব্বাস উদ্দিনের ছেলে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটাতে তিনি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে তার ঢাকা মেট্রো-গ ৩৭-৩৩০২ নম্বরের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারটি রাখা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, রাত ২টার দিকে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই গাড়িটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান ডা. রাসেলের চাচাতো ভাই ডাঃ সোহেল আরমান ও মোঃ নিজাম উদ্দিন। তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার এক মাস আগে ডা. রাসেলের নির্মাণাধীন মার্কেট থেকে সাবমারসিবল পাম্প ও তিন টন রড চুরির ঘটনাও ঘটে, যেখানে একই অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ডা. রাসেলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাবা হাজী মোঃ আব্বাস উদ্দিন, চাচা আফাজ উদ্দিন, ইমতিয়াজ উদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যদের গুরুতর আহত করা হয়। ওই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং পরবর্তীতে আদালত হানিফ মিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও তার ভাই নুর উদ্দিনকে ৭ বছরের কারাদণ্ডসহ অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে। অভিযোগ রয়েছে, মামলা তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন হানিফ মিয়া ও তার লোকজন। মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রতিশোধমূলকভাবে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত হানিফ মিয়া পলাতক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের অনুসারী এবং এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা, নিরীহ মানুষকে মারধর ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, নারী নির্যাতনসহ এসব ঘটনায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, ডাঃ কায়কোবাদ হোসেন রাসেল জুলাই আন্দোলনের সময় আশুলিয়া এলাকায় আহতদের নিজস্ব উদ্যোগে তার মালিকানাধীন সাহারা মডার্ন হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। শহীদদের লাশ পরিবহনে তিনি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান করেন এবং নিয়মিত এলাকাবাসীর জন্য মাসে একবার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সবার ভালোবাসা অর্জন করেছেন। একজন মানবিক চিকিৎসকের ওপর এমন নৃশংস ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং অভিযুক্তদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”