০৫:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় মিশ্র ফলের বাগানকরে সফল মিজানুর রহমান


জীবিকার তাগিদে একসময় গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে ছুটে বেড়াতেন তিনি। তবে নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি এলাকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন থেকেই-২০২১ সালে শুরু করেন মিশ্র ফলের বাগান। এছাড়া বিভিন্ন উন্নত জাতের ফলে চারা তিনি বিক্রয় করে থাকেন।
সময়ের পরিক্রমায় সেই উদ্যোগ এখন রূপ নিয়েছে এক সফলতা। তারে ফলের চাহিদা থাকাই স্থানীয় ফলের বাগিচা ও বিভিন্ন হাট বাজার ও বড় মোকামে বিক্রি হচ্ছে।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের ছোট কলধারী গ্রামের মো.মিজানুর রহমান এখন পরিচিত একজন সফল ফলচাষী হিসেবে। পেশায় তিনি একজন ড্রাইভার। কিন্তু পেশার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগ,পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছেন তিনটি মিশ্র ফলের বাগান। আড়াই বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা তিনটি বাগানে একসঙ্গে চাষ হচ্ছে নানা জাতের উন্নত ফল।

বাগানে রয়েছে ভিয়েতনামি মাল্টা, ১২ মাসি মাল্টা, মাল্টা পয়সা বারি১, বাউ-৩ ভিয়েতনামি জাত, চায়না ও দার্জিলিং কমলা, বেদানা বারি-৪ ও বারি-৭ জাত, পেঁপে এবং বিভিন্ন জাতের লেবু। এরই মধ্যে বেশ কিছু গাছে ধরেছে প্রচুর ফল। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে থাকা ফলগুলো যেন মিজানুর রহমানের পরিশ্রম আর স্বপ্নেরই প্রতিচ্ছবি।

মিজানুর রহমান জানান, মানুষের ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিজের জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি ফলের বাগান করার উদ্যোগ নেন। শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বাগানকে বড় করেছেন।

তিনি বলেন,“নিজের উদ্যোগে কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ফলের বাগান শুরু করি। এখন বাগানে বিভিন্ন জাতের ফল হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাগান করার ইচ্ছা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মিজানুর রহমানের উদ্যোগটি অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার।

তার পেশার বাইরে নিজস্ব উদ্যোগে কৃষিকাজের মাধ্যমে যে সফল হওয়া সম্ভব, তার একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছেন তিনি।
কৃষির প্রতি আগ্রহী তরুণদের জন্য মিজানুর রহমানের এই উদ্যোগ হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে পতিত বা অনাবাদি জমিকেও যে আয়ের উৎসে পরিণত করা যায়, তারই যেন জীবন্ত প্রমাণ ছোট কলধারীর এই মিশ্র ফলের বাগান।
একসময় যে হাতে ছিল গাড়ির স্টিয়ারিং, সেই হাতেই আজ ফলের চারা পরিচর্যা করে গড়ে উঠছে সম্ভাবনার সবুজ ভুবন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ফরিদপুরের মধুখালীকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করতে ইউএনওর পদক্ষেপ

মাগুরায় মিশ্র ফলের বাগানকরে সফল মিজানুর রহমান

Update Time : ০২:২০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬


জীবিকার তাগিদে একসময় গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে ছুটে বেড়াতেন তিনি। তবে নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি এলাকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন থেকেই-২০২১ সালে শুরু করেন মিশ্র ফলের বাগান। এছাড়া বিভিন্ন উন্নত জাতের ফলে চারা তিনি বিক্রয় করে থাকেন।
সময়ের পরিক্রমায় সেই উদ্যোগ এখন রূপ নিয়েছে এক সফলতা। তারে ফলের চাহিদা থাকাই স্থানীয় ফলের বাগিচা ও বিভিন্ন হাট বাজার ও বড় মোকামে বিক্রি হচ্ছে।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের ছোট কলধারী গ্রামের মো.মিজানুর রহমান এখন পরিচিত একজন সফল ফলচাষী হিসেবে। পেশায় তিনি একজন ড্রাইভার। কিন্তু পেশার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগ,পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছেন তিনটি মিশ্র ফলের বাগান। আড়াই বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা তিনটি বাগানে একসঙ্গে চাষ হচ্ছে নানা জাতের উন্নত ফল।

বাগানে রয়েছে ভিয়েতনামি মাল্টা, ১২ মাসি মাল্টা, মাল্টা পয়সা বারি১, বাউ-৩ ভিয়েতনামি জাত, চায়না ও দার্জিলিং কমলা, বেদানা বারি-৪ ও বারি-৭ জাত, পেঁপে এবং বিভিন্ন জাতের লেবু। এরই মধ্যে বেশ কিছু গাছে ধরেছে প্রচুর ফল। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে থাকা ফলগুলো যেন মিজানুর রহমানের পরিশ্রম আর স্বপ্নেরই প্রতিচ্ছবি।

মিজানুর রহমান জানান, মানুষের ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিজের জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি ফলের বাগান করার উদ্যোগ নেন। শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বাগানকে বড় করেছেন।

তিনি বলেন,“নিজের উদ্যোগে কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ফলের বাগান শুরু করি। এখন বাগানে বিভিন্ন জাতের ফল হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাগান করার ইচ্ছা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মিজানুর রহমানের উদ্যোগটি অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার।

তার পেশার বাইরে নিজস্ব উদ্যোগে কৃষিকাজের মাধ্যমে যে সফল হওয়া সম্ভব, তার একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছেন তিনি।
কৃষির প্রতি আগ্রহী তরুণদের জন্য মিজানুর রহমানের এই উদ্যোগ হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে পতিত বা অনাবাদি জমিকেও যে আয়ের উৎসে পরিণত করা যায়, তারই যেন জীবন্ত প্রমাণ ছোট কলধারীর এই মিশ্র ফলের বাগান।
একসময় যে হাতে ছিল গাড়ির স্টিয়ারিং, সেই হাতেই আজ ফলের চারা পরিচর্যা করে গড়ে উঠছে সম্ভাবনার সবুজ ভুবন।