০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সার ডিলার নিয়োগের দাবিতে যুবদলের সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছে উপজেলা যুবদল ও পৌর বিএনপির একাংশের নেতারা। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ এবং কৃষকদের জন্য সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা পৌর সদর বাজারে বিএনপি নেতা খোসবুর রহমান খোকনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শাহিন মোল্লা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. বাশারুল বারী।

এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. কাইয়ূম শিকদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

লিখিত বক্তব্যে নেতারা অভিযোগ করেন, বিসিআইসি ও খুচরা সার ডিলার নিয়োগে একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুবিধাভোগী চক্র আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে পুনরায় ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকদের স্বার্থ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে চারটি ইউনিয়নের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ডিলারশিপ পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান আয়োজকেরা। তাঁরা হলেন—আলফাডাঙ্গা ইউনিয়নের দাউদ মোল্যা (বিএনএফ), টগরবন্দ ইউনিয়নের আলামিন শেখ টোকন, বানা ইউনিয়নের কাজী অমিত হাসান জয় এবং পাচুড়িয়া ইউনিয়নের শওকত আলী। তাঁদের ডিলারশিপ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তোলা হলেও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় একটি সুবিধাভোগী চক্র ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস বলেন, ডিলার নিয়োগের বিষয়টি কৃষি বিভাগের। আমার জানা মতে, এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা বলেন, উপজেলা কমিটি তদন্ত করে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজন যোগ্য আবেদনকারীর নাম জেলা কমিটিতে পাঠায়। জেলা কমিটি তা অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। পরবর্তী সময়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকেই চূড়ান্ত ডিলার নিয়োগ সম্পন্ন হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শিবালয়ে বিশেষ অভিযান: ৪ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ 

আলফাডাঙ্গায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সার ডিলার নিয়োগের দাবিতে যুবদলের সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৯:৫১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছে উপজেলা যুবদল ও পৌর বিএনপির একাংশের নেতারা। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ এবং কৃষকদের জন্য সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা পৌর সদর বাজারে বিএনপি নেতা খোসবুর রহমান খোকনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শাহিন মোল্লা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. বাশারুল বারী।

এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. কাইয়ূম শিকদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

লিখিত বক্তব্যে নেতারা অভিযোগ করেন, বিসিআইসি ও খুচরা সার ডিলার নিয়োগে একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুবিধাভোগী চক্র আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে পুনরায় ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকদের স্বার্থ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে চারটি ইউনিয়নের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ডিলারশিপ পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান আয়োজকেরা। তাঁরা হলেন—আলফাডাঙ্গা ইউনিয়নের দাউদ মোল্যা (বিএনএফ), টগরবন্দ ইউনিয়নের আলামিন শেখ টোকন, বানা ইউনিয়নের কাজী অমিত হাসান জয় এবং পাচুড়িয়া ইউনিয়নের শওকত আলী। তাঁদের ডিলারশিপ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তোলা হলেও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় একটি সুবিধাভোগী চক্র ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস বলেন, ডিলার নিয়োগের বিষয়টি কৃষি বিভাগের। আমার জানা মতে, এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা বলেন, উপজেলা কমিটি তদন্ত করে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজন যোগ্য আবেদনকারীর নাম জেলা কমিটিতে পাঠায়। জেলা কমিটি তা অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। পরবর্তী সময়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকেই চূড়ান্ত ডিলার নিয়োগ সম্পন্ন হয়।