০৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার্কাস আয়োজনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে তীব্র বিক্ষোভ, ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সম্ভাব্য সার্কাস আয়োজনকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ আয়োজন বন্ধের দাবিতে বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

রবিবার (২১ জুন) বিকেলে পৌর সদরের প্রাণকেন্দ্র সদর বাজার চৌরাস্তায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কাতলাসুর স্বপ্ননগর এলাকায় একটি সার্কাস আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের আয়োজনের আড়ালে অনেক সময় মাদকসেবন, জুয়া ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটে, যা সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব বয়ে আনে। পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইকিং এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হলে এলাকার স্বাভাবিক, সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, আগামী ২ জুলাই থেকে সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এ সময় পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি শান্ত, নিরিবিলি ও পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সার্কাসকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শব্দদূষণ, অতিরিক্ত জনসমাগম এবং রাতব্যাপী অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

জনস্বার্থ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক শৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্থানীয় জনগণের আপত্তি উপেক্ষা করে সার্কাস আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা কওমি উলামা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা তামিম আহমেদ, সভাপতি মুফতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আহসানুল্লাহ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এস এম হাফিজুর রহমান, উপজেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আমিনুল্লাহ, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুফতি ইবাদত হোসাইন, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি মাওলানা শরিফুল ইসলাম জুয়েল এবং উপজেলা খেলাফত যুব মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু মুসাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ইউএনও রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় সার্কাস আয়োজনের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া সার্কাস আয়োজনের সুযোগ নেই। স্থানীয় নাগরিকদের আপত্তি এবং তাদের প্রদত্ত স্মারকলিপির বিষয়টি দ্রুত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে অবহিত করা হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, জনস্বার্থ এবং এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ফরিদপুরের মধুখালীকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করতে ইউএনওর পদক্ষেপ

সার্কাস আয়োজনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে তীব্র বিক্ষোভ, ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি

Update Time : ০৫:২৬:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সম্ভাব্য সার্কাস আয়োজনকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ আয়োজন বন্ধের দাবিতে বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

রবিবার (২১ জুন) বিকেলে পৌর সদরের প্রাণকেন্দ্র সদর বাজার চৌরাস্তায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কাতলাসুর স্বপ্ননগর এলাকায় একটি সার্কাস আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের আয়োজনের আড়ালে অনেক সময় মাদকসেবন, জুয়া ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটে, যা সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব বয়ে আনে। পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইকিং এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হলে এলাকার স্বাভাবিক, সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, আগামী ২ জুলাই থেকে সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এ সময় পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি শান্ত, নিরিবিলি ও পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সার্কাসকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শব্দদূষণ, অতিরিক্ত জনসমাগম এবং রাতব্যাপী অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

জনস্বার্থ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক শৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্থানীয় জনগণের আপত্তি উপেক্ষা করে সার্কাস আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা কওমি উলামা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা তামিম আহমেদ, সভাপতি মুফতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আহসানুল্লাহ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এস এম হাফিজুর রহমান, উপজেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আমিনুল্লাহ, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুফতি ইবাদত হোসাইন, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি মাওলানা শরিফুল ইসলাম জুয়েল এবং উপজেলা খেলাফত যুব মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু মুসাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ইউএনও রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় সার্কাস আয়োজনের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া সার্কাস আয়োজনের সুযোগ নেই। স্থানীয় নাগরিকদের আপত্তি এবং তাদের প্রদত্ত স্মারকলিপির বিষয়টি দ্রুত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে অবহিত করা হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, জনস্বার্থ এবং এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে