০২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শৈশবের মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ—কুড়িগ্রামবাসীর জন্য একটি দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন

মানুষের জীবনে প্রকৃত সাফল্য শুধু উচ্চশিক্ষা, পদ-পদবি কিংবা পেশাগত প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটানো এবং নিজের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর মধ্যেই সাফল্যের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। চিকিৎসা পেশায় এই মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব আরও বেশি। কুড়িগ্রামের চিকিৎসাসেবায় নিজের মেধা, পেশাগত দক্ষতা, আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছেন সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুস সালাম।

শৈশব থেকেই মেধাবী ও অধ্যবসায়ী এই চিকিৎসক আজ হৃদরোগ চিকিৎসায় বিশেষায়িত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করছেন কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। তাঁর শিক্ষাজীবনের সাফল্য, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং কুড়িগ্রামবাসীর জন্য একটি দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন তাঁকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশাকে আরও গভীর করেছে।

দুধখাওয়া গ্রামের মেধাবী সন্তান

১৯৮৫ সালের শুরুর দিকে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার দুধখাওয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ডা. মোঃ আব্দুস সালাম। তাঁর পিতা মোঃ আনছার আলী ব্যাপারী এবং মাতা মরহুমা ছালেহা খাতুন। সাধারণ গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা সালাম ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী, পরিশ্রমী ও মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু স্থানীয় পাঠানপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায়। সেখানে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর তিনি দুধখাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৯৬ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাজীবনে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। পরে স্থানীয় টগরাই হাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ১৯৯৯ সালে জুনিয়র পর্যায়েও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন।

২০০২ সালে ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৪ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বৃত্তিসহ এ-প্লাস গ্রেড অর্জন করেন তিনি। ধারাবাহিক এই সাফল্য তাঁকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়ন করে ২০১০ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। কঠোর অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও জ্ঞানার্জনের প্রতি আগ্রহের মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলেন। শিক্ষাজীবনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পুরস্কার, প্রথম আলো মেধা পুরস্কার এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি অর্জন তাঁর মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি বহন করে।

হৃদরোগ চিকিৎসায় উচ্চতর শিক্ষা ও দক্ষতা

চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের পরও জ্ঞানার্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন ডা. আব্দুস সালাম। হৃদরোগ চিকিৎসায় বিশেষায়িত দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হৃদরোগ চিকিৎসায় উচ্চতর শিক্ষা এবং লন্ডন ও সিঙ্গাপুর থেকে কার্ডিওলজিবিষয়ক ফেলোশিপ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি ডায়াবেটিস চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণও অর্জন করেছেন বারডেম থেকে।

হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব রোগের ক্ষেত্রে সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং রোগীর জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের চিকিৎসাসেবায় নিজের দক্ষতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও আগ্রহী ডা. সালাম।

কর্মজীবনে অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয়

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি প্রাইম মেডিকেল কলেজে এক বছর মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মুন্নু মেডিকেল কলেজে দুই বছর প্রভাষক হিসেবে কাজ করেন। ৩৩তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের মাধ্যমে ২০১৪ সালে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এবং নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

তাঁর পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে চিকিৎসা, শিক্ষাদান, রোগ নির্ণয় এবং হৃদরোগ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিবর্তনশীল জ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এবং রোগীদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া একজন চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডা. সালামের কর্মজীবনেও এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় প্রকাশ পেয়েছে।

রোগীর প্রতি আন্তরিকতা, মানবিক আচরণ ও মানুষের ভালোবাসা

একজন চিকিৎসকের দক্ষতা যেমন রোগীর সুস্থতার জন্য জরুরি, তেমনি তাঁর সুন্দর ব্যবহার, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনার মানসিকতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চিকিৎসা নিতে আসা একজন মানুষ শুধু ওষুধ বা ব্যবস্থাপত্র চান না; তিনি চান আশ্বাস, সম্মান এবং নিজের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা।

ডা. আব্দুস সালামের শিক্ষাজীবনের পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বক্তব্যে তাঁর মেধা, অধ্যবসায়, নম্রতা, ধৈর্য ও সুন্দর আচরণের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তাঁদের মতে, ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্য এবং পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা পেশায় তাঁর অগ্রযাত্রা সেই অধ্যবসায়েরই প্রতিফলন।

তাঁকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও সমর্থনের প্রকাশও লক্ষণীয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকে রোগীদের সেবায় তাঁর ভূমিকা, মানবিক আচরণ এবং কুড়িগ্রামবাসীর জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, তিনি যেন সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে পারেন।

অবশ্য একজন চিকিৎসকের প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর পেশাগত দক্ষতা, রোগীদের প্রতি আচরণ, চিকিৎসাসেবার মান এবং দায়িত্ব পালনের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। সেই মূল্যায়নের কেন্দ্রে থাকা উচিত রোগীর কল্যাণ ও জনস্বার্থ।

বিভ্রান্তিকর সংবাদ নিয়ে প্রতিক্রিয়া এবং সেবার অঙ্গীকার

সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে ডা. আব্দুস সালাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের অনেকে সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন। তবে সংবাদটি নিয়ে ওঠা অভিযোগ বা সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হওয়ায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। যে কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও যথাযথ যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. সালাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রোগীদের সেবায় আরও বেশি সময় ও মনোযোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর হলো—প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি নিজের পেশাগত দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান না; বরং চিকিৎসাসেবায় আরও বেশি আত্মনিয়োগ করতে চান।

তিনি মনে করেন, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার যথার্থ প্রতিদান দেওয়ার পথ হলো আরও আন্তরিকভাবে কাজ করা। এ অবস্থান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পেশাগত নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং রোগীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই হবে তাঁর জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ।

কুড়িগ্রামবাসীর জন্য দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন

ডা. আব্দুস সালামের বক্তব্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো কুড়িগ্রামবাসীর জন্য একটি দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার আজীবন লালিত স্বপ্ন। তিনি জানিয়েছেন, নিজের সারাজীবনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে একদিন এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম। বিশেষ করে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় অনেক রোগীকে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শের জন্য ব্যয় বহন করতে হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য এসব ব্যয় কখনো কখনো বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ বাস্তবতায় একটি দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আর্থিক সক্ষমতা, উপযুক্ত অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই পরিচালনব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত। ডা. সালামের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রামের স্বাস্থ্যসেবায় তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে।

তিনি যে স্বপ্নের কথা বলেছেন, তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়া তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের পাশাপাশি বৃহত্তর জনকল্যাণের সম্ভাবনাও বহন করে।

চিকিৎসা-জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ

ডা. আব্দুস সালাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় আরও জানিয়েছেন, একজন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তিনি এখন থেকে প্রতি মাসে কার্ডিওলজি বিষয়ে সেমিনার আয়োজন করতে চান। চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

হৃদরোগের ঝুঁকি, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাও অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্য স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা আয়োজন করা গেলে এর সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে।

পেশাগত জ্ঞানকে নিয়মিত চর্চা, আলোচনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার যে প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

পেশাগত পরিচয় ও চিকিৎসাসেবা

ডা. মোঃ আব্দুস সালামের দেওয়া পেশাগত পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি মেডিসিন, বাত-জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ বিষয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। তাঁর যোগ্যতার তালিকায় এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), কার্ডিওলজিবিষয়ক উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ, ডি-কার্ড, সিসিডি এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ ও সদস্যপদের উল্লেখ রয়েছে। এসব ডিগ্রি ও সনদের সঠিক নাম এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রকাশের আগে মূল সনদ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি নিয়মিত রোগী দেখেন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মোড়ে অবস্থিত নিউ খান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড সিটি স্ক্যান সেন্টারে। তাঁর পেশাগত পরিচয় ও চেম্বারসংক্রান্ত তথ্য রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক লেখালেখির প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। চিকিৎসাবিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে তা সহায়ক হতে পারে।

ব্যক্তিগত জীবনে ডা. আব্দুস সালামের সহধর্মিণী মিজ শাওনারা পারভীন একজন সরকারি শিক্ষিকা।

মানুষের আস্থা অর্জনের দায়িত্ব

চিকিৎসা পেশা এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে মানুষের আস্থা অর্জন করতে দীর্ঘ সময়ের নিষ্ঠা লাগে, কিন্তু সেই আস্থা ধরে রাখতে প্রতিদিনের কাজেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হয়। রোগীর প্রতি সহমর্মিতা, সঠিক তথ্য প্রদান, চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে স্বচ্ছতা এবং পেশাগত নৈতিকতা একজন চিকিৎসকের গ্রহণযোগ্যতার মূল ভিত্তি।

ডা. আব্দুস সালামকে ঘিরে তাঁর পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা হলো, তিনি যেন নিজের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে আরও বৃহত্তর পরিসরে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারেন। একই সঙ্গে তাঁর ঘোষিত দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এবং নিয়মিত সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তিনি কুড়িগ্রামের স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখবেন—এমন আশাও প্রকাশ করেছেন অনেকে।

শেষ কথা

দুধখাওয়া গ্রামের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হয়ে ওঠার পথটি ডা. মোঃ আব্দুস সালামের অধ্যবসায় ও দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রার পরিচয় বহন করে। তাঁর জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, মানুষের আস্থা রক্ষা এবং কুড়িগ্রামের অসচ্ছল মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ।

নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এবং চিকিৎসাবিষয়ক সেমিনার আয়োজনের অঙ্গীকার যদি বাস্তব রূপ পায়, তবে তা তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি পেরিয়ে জনকল্যাণের একটি অর্থবহ উদ্যোগে পরিণত হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর পদবি কিংবা ডিগ্রির তালিকা নয়; বরং তাঁর চিকিৎসায় কত মানুষ উপকৃত হলেন, কতজন অসহায় মানুষ সেবা পেলেন এবং মানুষের আস্থা অর্জনে তিনি কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলেন। ডা. আব্দুস সালামের সামনে সেই মানবিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি তাঁর ঘোষিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামবাসীর জন্য একটি স্থায়ী কল্যাণকর দৃষ্টান্ত গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শিবালয়ে বিশেষ অভিযান: ৪ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ 

শৈশবের মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ—কুড়িগ্রামবাসীর জন্য একটি দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন

Update Time : ০৩:১১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মানুষের জীবনে প্রকৃত সাফল্য শুধু উচ্চশিক্ষা, পদ-পদবি কিংবা পেশাগত প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটানো এবং নিজের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর মধ্যেই সাফল্যের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। চিকিৎসা পেশায় এই মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব আরও বেশি। কুড়িগ্রামের চিকিৎসাসেবায় নিজের মেধা, পেশাগত দক্ষতা, আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছেন সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুস সালাম।

শৈশব থেকেই মেধাবী ও অধ্যবসায়ী এই চিকিৎসক আজ হৃদরোগ চিকিৎসায় বিশেষায়িত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করছেন কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। তাঁর শিক্ষাজীবনের সাফল্য, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং কুড়িগ্রামবাসীর জন্য একটি দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন তাঁকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশাকে আরও গভীর করেছে।

দুধখাওয়া গ্রামের মেধাবী সন্তান

১৯৮৫ সালের শুরুর দিকে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার দুধখাওয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ডা. মোঃ আব্দুস সালাম। তাঁর পিতা মোঃ আনছার আলী ব্যাপারী এবং মাতা মরহুমা ছালেহা খাতুন। সাধারণ গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা সালাম ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী, পরিশ্রমী ও মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু স্থানীয় পাঠানপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায়। সেখানে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর তিনি দুধখাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৯৬ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাজীবনে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। পরে স্থানীয় টগরাই হাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ১৯৯৯ সালে জুনিয়র পর্যায়েও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন।

২০০২ সালে ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৪ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বৃত্তিসহ এ-প্লাস গ্রেড অর্জন করেন তিনি। ধারাবাহিক এই সাফল্য তাঁকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়ন করে ২০১০ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। কঠোর অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও জ্ঞানার্জনের প্রতি আগ্রহের মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলেন। শিক্ষাজীবনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পুরস্কার, প্রথম আলো মেধা পুরস্কার এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি অর্জন তাঁর মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি বহন করে।

হৃদরোগ চিকিৎসায় উচ্চতর শিক্ষা ও দক্ষতা

চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের পরও জ্ঞানার্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন ডা. আব্দুস সালাম। হৃদরোগ চিকিৎসায় বিশেষায়িত দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হৃদরোগ চিকিৎসায় উচ্চতর শিক্ষা এবং লন্ডন ও সিঙ্গাপুর থেকে কার্ডিওলজিবিষয়ক ফেলোশিপ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি ডায়াবেটিস চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণও অর্জন করেছেন বারডেম থেকে।

হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব রোগের ক্ষেত্রে সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং রোগীর জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের চিকিৎসাসেবায় নিজের দক্ষতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও আগ্রহী ডা. সালাম।

কর্মজীবনে অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয়

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি প্রাইম মেডিকেল কলেজে এক বছর মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মুন্নু মেডিকেল কলেজে দুই বছর প্রভাষক হিসেবে কাজ করেন। ৩৩তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের মাধ্যমে ২০১৪ সালে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এবং নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

তাঁর পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে চিকিৎসা, শিক্ষাদান, রোগ নির্ণয় এবং হৃদরোগ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিবর্তনশীল জ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এবং রোগীদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া একজন চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডা. সালামের কর্মজীবনেও এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় প্রকাশ পেয়েছে।

রোগীর প্রতি আন্তরিকতা, মানবিক আচরণ ও মানুষের ভালোবাসা

একজন চিকিৎসকের দক্ষতা যেমন রোগীর সুস্থতার জন্য জরুরি, তেমনি তাঁর সুন্দর ব্যবহার, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনার মানসিকতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চিকিৎসা নিতে আসা একজন মানুষ শুধু ওষুধ বা ব্যবস্থাপত্র চান না; তিনি চান আশ্বাস, সম্মান এবং নিজের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা।

ডা. আব্দুস সালামের শিক্ষাজীবনের পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বক্তব্যে তাঁর মেধা, অধ্যবসায়, নম্রতা, ধৈর্য ও সুন্দর আচরণের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তাঁদের মতে, ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্য এবং পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা পেশায় তাঁর অগ্রযাত্রা সেই অধ্যবসায়েরই প্রতিফলন।

তাঁকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও সমর্থনের প্রকাশও লক্ষণীয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকে রোগীদের সেবায় তাঁর ভূমিকা, মানবিক আচরণ এবং কুড়িগ্রামবাসীর জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, তিনি যেন সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে পারেন।

অবশ্য একজন চিকিৎসকের প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর পেশাগত দক্ষতা, রোগীদের প্রতি আচরণ, চিকিৎসাসেবার মান এবং দায়িত্ব পালনের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। সেই মূল্যায়নের কেন্দ্রে থাকা উচিত রোগীর কল্যাণ ও জনস্বার্থ।

বিভ্রান্তিকর সংবাদ নিয়ে প্রতিক্রিয়া এবং সেবার অঙ্গীকার

সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে ডা. আব্দুস সালাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের অনেকে সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন। তবে সংবাদটি নিয়ে ওঠা অভিযোগ বা সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হওয়ায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। যে কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও যথাযথ যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. সালাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রোগীদের সেবায় আরও বেশি সময় ও মনোযোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর হলো—প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি নিজের পেশাগত দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান না; বরং চিকিৎসাসেবায় আরও বেশি আত্মনিয়োগ করতে চান।

তিনি মনে করেন, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার যথার্থ প্রতিদান দেওয়ার পথ হলো আরও আন্তরিকভাবে কাজ করা। এ অবস্থান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পেশাগত নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং রোগীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই হবে তাঁর জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ।

কুড়িগ্রামবাসীর জন্য দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন

ডা. আব্দুস সালামের বক্তব্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো কুড়িগ্রামবাসীর জন্য একটি দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার আজীবন লালিত স্বপ্ন। তিনি জানিয়েছেন, নিজের সারাজীবনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে একদিন এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম। বিশেষ করে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় অনেক রোগীকে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শের জন্য ব্যয় বহন করতে হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য এসব ব্যয় কখনো কখনো বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ বাস্তবতায় একটি দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আর্থিক সক্ষমতা, উপযুক্ত অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই পরিচালনব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত। ডা. সালামের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রামের স্বাস্থ্যসেবায় তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে।

তিনি যে স্বপ্নের কথা বলেছেন, তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়া তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের পাশাপাশি বৃহত্তর জনকল্যাণের সম্ভাবনাও বহন করে।

চিকিৎসা-জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ

ডা. আব্দুস সালাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় আরও জানিয়েছেন, একজন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তিনি এখন থেকে প্রতি মাসে কার্ডিওলজি বিষয়ে সেমিনার আয়োজন করতে চান। চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

হৃদরোগের ঝুঁকি, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাও অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্য স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা আয়োজন করা গেলে এর সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে।

পেশাগত জ্ঞানকে নিয়মিত চর্চা, আলোচনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার যে প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

পেশাগত পরিচয় ও চিকিৎসাসেবা

ডা. মোঃ আব্দুস সালামের দেওয়া পেশাগত পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি মেডিসিন, বাত-জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ বিষয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। তাঁর যোগ্যতার তালিকায় এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), কার্ডিওলজিবিষয়ক উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ, ডি-কার্ড, সিসিডি এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ ও সদস্যপদের উল্লেখ রয়েছে। এসব ডিগ্রি ও সনদের সঠিক নাম এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রকাশের আগে মূল সনদ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি নিয়মিত রোগী দেখেন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মোড়ে অবস্থিত নিউ খান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড সিটি স্ক্যান সেন্টারে। তাঁর পেশাগত পরিচয় ও চেম্বারসংক্রান্ত তথ্য রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক লেখালেখির প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। চিকিৎসাবিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে তা সহায়ক হতে পারে।

ব্যক্তিগত জীবনে ডা. আব্দুস সালামের সহধর্মিণী মিজ শাওনারা পারভীন একজন সরকারি শিক্ষিকা।

মানুষের আস্থা অর্জনের দায়িত্ব

চিকিৎসা পেশা এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে মানুষের আস্থা অর্জন করতে দীর্ঘ সময়ের নিষ্ঠা লাগে, কিন্তু সেই আস্থা ধরে রাখতে প্রতিদিনের কাজেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হয়। রোগীর প্রতি সহমর্মিতা, সঠিক তথ্য প্রদান, চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে স্বচ্ছতা এবং পেশাগত নৈতিকতা একজন চিকিৎসকের গ্রহণযোগ্যতার মূল ভিত্তি।

ডা. আব্দুস সালামকে ঘিরে তাঁর পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা হলো, তিনি যেন নিজের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে আরও বৃহত্তর পরিসরে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারেন। একই সঙ্গে তাঁর ঘোষিত দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এবং নিয়মিত সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তিনি কুড়িগ্রামের স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখবেন—এমন আশাও প্রকাশ করেছেন অনেকে।

শেষ কথা

দুধখাওয়া গ্রামের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হয়ে ওঠার পথটি ডা. মোঃ আব্দুস সালামের অধ্যবসায় ও দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রার পরিচয় বহন করে। তাঁর জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, মানুষের আস্থা রক্ষা এবং কুড়িগ্রামের অসচ্ছল মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ।

নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এবং চিকিৎসাবিষয়ক সেমিনার আয়োজনের অঙ্গীকার যদি বাস্তব রূপ পায়, তবে তা তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি পেরিয়ে জনকল্যাণের একটি অর্থবহ উদ্যোগে পরিণত হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর পদবি কিংবা ডিগ্রির তালিকা নয়; বরং তাঁর চিকিৎসায় কত মানুষ উপকৃত হলেন, কতজন অসহায় মানুষ সেবা পেলেন এবং মানুষের আস্থা অর্জনে তিনি কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলেন। ডা. আব্দুস সালামের সামনে সেই মানবিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি তাঁর ঘোষিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামবাসীর জন্য একটি স্থায়ী কল্যাণকর দৃষ্টান্ত গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে।