১০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে ভারপ্রাপ্তদের কাঁধে, বাড়ছে প্রশাসনিক জটিলতা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ না থাকায় ভারপ্রাপ্তদের দিয়েই চলছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে দৈনন্দিন পাঠদান কার্যক্রম সচল থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অন্তত ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করছেন।
ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—আলফাডাঙ্গা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের এম.এম. মুজিবুর রহমান মুজিব, কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির মো. কাওছার প্রামাণিক, চরনারানদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. তারিকুল ইসলাম, জাটিগ্রাম মমতাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সৈয়দ আতিয়ার রহমান, নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. দবিরউদ্দিন, বানা মৌলভী আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের হাদী সাহেব আলী, হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. ওহিদুজ্জামান খান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যাপীঠের মো. খায়রুল আলম এবং বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের শেখ ফাতেমা অনন্যা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারপ্রাপ্ত প্রধানরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ না থাকায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্থায়ী উন্নয়ন কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ভারপ্রাপ্তরা দায়িত্ব পালন করছেন বলেই শিক্ষা কার্যক্রম সচল রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়মিত প্রধান নিয়োগ করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদে দ্রুত নিয়মিত প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করে শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

১০ বছরেও সংস্কার হয়নি সেতু, বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার,দুর্ভোগে দুই গ্রামের মানুষ।

আলফাডাঙ্গার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে ভারপ্রাপ্তদের কাঁধে, বাড়ছে প্রশাসনিক জটিলতা

Update Time : ১২:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ না থাকায় ভারপ্রাপ্তদের দিয়েই চলছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে দৈনন্দিন পাঠদান কার্যক্রম সচল থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অন্তত ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করছেন।
ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—আলফাডাঙ্গা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের এম.এম. মুজিবুর রহমান মুজিব, কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির মো. কাওছার প্রামাণিক, চরনারানদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. তারিকুল ইসলাম, জাটিগ্রাম মমতাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সৈয়দ আতিয়ার রহমান, নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. দবিরউদ্দিন, বানা মৌলভী আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের হাদী সাহেব আলী, হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. ওহিদুজ্জামান খান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যাপীঠের মো. খায়রুল আলম এবং বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের শেখ ফাতেমা অনন্যা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারপ্রাপ্ত প্রধানরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ না থাকায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্থায়ী উন্নয়ন কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ভারপ্রাপ্তরা দায়িত্ব পালন করছেন বলেই শিক্ষা কার্যক্রম সচল রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়মিত প্রধান নিয়োগ করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদে দ্রুত নিয়মিত প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করে শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে।