ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ছয় কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিম্নমানের দেড় লাখ ইভিএম কেনার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক এবং অনুসন্ধান দলের প্রধান মো. রাকিবুল হায়াত স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ২ জুলাই এই ছয় কর্মকর্তাকে দুদকে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। সূত্র বলছে, ইভিএম কেনার সময় এই কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।
তলবপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন, ইসির তৎকালীন উপপ্রধান মো. সাইফুল হক চৌধুরী, সহকারী প্রধান মো. মাহফুজুল হক, আইডিয়া প্রকল্পের আইটি সিস্টেম কনসালটেন্ট এএইচএম আব্দুর রহিম খান, উপসচিব (চলতি দায়িত্বে) ফরহাদ হোসেন, সিস্টেম অ্যানালিস্ট ফারজানা আখতার, সিনিয়র মেইন্টেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে তিনজন বর্তমানে ইসিতে কর্মরত নেই। বাকিরা এখনো বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এদের সবাই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মকর্তারা সরকারী অর্থনৈতিক বিধি-বিধান উপেক্ষা করে, প্রাথমিক কোনো সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। এছাড়া যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে উচ্চমূল্যে ইভিএম ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
এই ইভিএমগুলো ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে কেনা হয়। যদিও সেই নির্বাচনে সীমিত পরিসরে মেশিনগুলো ব্যবহার হয়, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুসন্ধান শুধু ইসির অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির চিত্রই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়টিও সামনে আনছে। দুদকের এই তদন্তের ফলে ভবিষ্যতে বড় প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 









