ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জাল দলিল ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে জমি নামজারির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আলফাডাঙ্গা মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. শহিদুল ইসলাম। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তের নামে করা নামজারি বাতিল করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ ইলেকট্রিশিয়ান ফেডারেশন আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম জানান, তাঁর বাবা মো. অলিয়ার রহমান পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মালিকানাধীন ৮০ শতাংশ জমি দানপত্রের মাধ্যমে তাঁর নামে লিখে দেন। পরবর্তীতে তিনি ৬ মে ২০২৬ তারিখে নামজারির জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে দীর্ঘদিন কোনো অগ্রগতি না দেখে ভূমি অফিসে খোঁজ নিতে গেলে জানতে পারেন, তাঁর আবেদনকৃত জমি ও বসতভিটা ইতোমধ্যে অন্য একজনের নামে নামজারি হয়ে গেছে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার প্রতিবেশী শাম কাজী নামের এক ব্যক্তি ২০০৮ সালের ৭৯১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে জমিটি নিজের নামে নামজারি করিয়েছেন। ভূমি অফিসে প্রদর্শিত দলিলের কপিতে আমার বাবা অলিয়ার রহমানকে দাতা হিসেবে দেখানো হলেও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত মূল দলিল যাচাই করে সেখানে তাঁর নাম পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া দলিলে ব্যবহৃত ছবি ও স্বাক্ষরও তাঁর নয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রাহানুর রহমানকে অবহিত করলে তিনি কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির সত্যতা পান। পরে অভিযুক্তের নামে করা নামজারি বাতিল করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রাহানুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও রেকর্ড যাচাই করা হয়েছে। তদন্তে অসঙ্গতি ও জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় নামজারি বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাম কাজীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাম কাজী পেশায় মাটি কাটার দিনমজুর।
সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম জাল দলিল তৈরি ও ব্যবহারকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সকলকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভূমি জালিয়াতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: 

















