০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গার আলোচিত সুমন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার আলোচিত সুমন শেখ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি কবির শেখকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া কবির শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের মৃত হাকি শেখের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ও গ্রাম্য বিরোধের জেরে সুমন শেখকে প্রকাশ্যে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় কবির শেখকে এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি কবির শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় সুমন শেখের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে হবে — অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন

আলফাডাঙ্গার আলোচিত সুমন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

Update Time : ০২:১৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার আলোচিত সুমন শেখ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি কবির শেখকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া কবির শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের মৃত হাকি শেখের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ও গ্রাম্য বিরোধের জেরে সুমন শেখকে প্রকাশ্যে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় কবির শেখকে এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি কবির শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় সুমন শেখের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।