খাল ভরাট করে রাস্তা, কৃষি জমিতে নির্মিত হচ্ছে ব্রীজ
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা এলাকায় কাটাখালি খাল ভরাট করে নির্মিত হচ্ছে রাস্তা। একই সঙ্গে কৃষি জমি অধিগ্রহন করে নির্মাণ করা হচ্ছে ব্রিজ। এতে পানি প্রবাহ ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাস্তা ও ব্রিজটি নির্মিত হলে ফসল উৎপাদনে প্রভাব পড়বে। এ কারণে খাল ভরাট করে রাস্তা ও ফসলি জমি অধিগ্রহন করে ব্রিজটি নির্মাণ না করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বরাংগাইল থেকে টাংগাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক তৈরিতে ২০০৫ সালে সড়ক ও জনপথ পয়লা ইউনিয়নের পয়লা বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকায় জমি অধিগ্রহন করে অপরিকল্পিতভাবে ব্রীজ নির্মাণ করেন। চলিত বছর মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ পুনরায় জমি অধিগ্রহন করে ৯০ ফুট ব্রীজ নির্মাণের অনুমোদন নেন। কিন্তু তারা খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ না করে খাল ভরাট করে রাস্তা তৈরি করে এবং ফসলী জমিতে ব্রীজ নির্মাণ করছে। ফলে খালের পানি প্রবাহের গতি পরিবর্তন ঘটবে এবং হুমকির মুখে পড়বে কৃষি জমি, তেরশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেরশ্রী কে এন ইনইষ্টিটিউশন, শহীদ স্মৃতি স্তম্ভসহ একাধিক বাড়ি ঘর।

জানা যায়, মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ বরাংগাইল-টাংগাইল আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘিওর উপজেলার পয়লা বাসট্যান্ড এর আগের ব্রীজটি বাতিল করে এর দক্ষিণপাশে চর বাইলজুরী মৌজায় খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ না করে তা আর এস-২৩৩০ দাগে অপরিকল্পিতভাবে নতুন ৯০ ফুট ব্রিজ ফসলি জমির উপর নির্মান করা হচ্ছে এবং খাল ভরাট করে হচ্ছে রাস্তা। ব্রিজটি খালের উপর না করে ২০০ ফুট ভিতরে ফসলি জমির উপর নির্মান করা হচ্ছে। এছাড়াও এলাকাবাসীর দাবি ব্রিজটি খালের উপর নির্মান করা হলে কৃষি জমি, সরকারি স্থাপনা ও বাড়িঘর রক্ষা পাবে।

শহীদুল ইসলাম টিপু, মো. আতোয়ার রহমানসহ একাধিক স্থানীয়রা জানান, মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা ২০০৫ সালে পয়লা মোড়ে জমি অধিগ্রহন করে ব্রীজ নির্মান করে আবার চলিত অর্থ বছরে পুরাতন ব্রীজ হতে ঠিক ১০০ গজ দক্ষিণে কৃষি জমির উপর নতুন করে আরেকটি ব্রীজ নির্মাণ করছে। যার ফলে পুনরায় জমি অধিগ্রহন করে খালের গতিপথ পরিবর্তন করা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তারা অপরিকল্পিতভাবে জমি অধিগ্রহন ও ব্রীজ নির্মাণ করে রাস্তা করার ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে এবং জমির মালিকরা পড়ছে বিপাকে।

জমির মালিক পারভিন জানান, খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ ও ফসলি জমির উপর ব্রীজ তৈরি করে খালের গতিপথ পরিবর্তন করলে পানি প্রবাহের গতি পরিবর্তন হবে এবং হুমকির মুখে পড়বে কৃষি জমিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
খাল ভরাট করে কৃষি জমিতে ব্রীজ নির্মানের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মানের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমরা জমি অধিগ্রহন করে রাস্তা তৈরী করছি। খালের পাশে নতুন ব্রীজ নির্মান করা হলেও পানি প্রবাহে কোন অসুবিধা হবে না। পানি প্রবাহে অসুবিধা হলে প্রয়োজনে আমরা আরো জমি অধিগ্রহন করে পানি প্রবাহের রাস্তা তৈরী করবো।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড: মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, নতুন করে অপরিকল্পিত কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ নেই।
Reporter Name 



















