০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাটুরিয়ায় মা-ছেলে হত্যা মামলায় দেবরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সৌদি প্রবাসী মো. আশরাফ আলী ওরফে মজনুর স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলে আব্দুল নূরকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় নিহত নারীর দেবর মো. সোলাইমান হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলাটিতে মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

মামলার বিবরণ ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ২০২০ সালে ভাবী পারভীনের সঙ্গে দেবর সোলাইমান হোসেনের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে পারভীন সোলাইমানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাঁদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এর জেরে সোলাইমান ছুরি দিয়ে গলা কেটে পারভীনকে হত্যা করেন।

ঘটনার সময় পারভীনের ৬ বছরের শিশুসন্তান আব্দুল নূর হত্যাকাণ্ডটি দেখে ফেলে। বিষয়টি আশপাশের মানুষের কাছে প্রকাশ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় ঘাতক সোলাইমান শিশুটিকেও একই কায়দায় গলা কেটে হত্যা করে।

চাঞ্চল্যকর এই ডাবল মার্ডারের ঘটনায় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি নিহত পারভীনের মা মজিরন বেগম বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোলাইমান হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়।

রায়ের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান জানান, এ রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট নন এবং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষও এ রায়ে সন্তুষ্ট নয়। আমরা মনে করি, এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কালকিনি ও ডাসারে এইচএসসি পরীক্ষার ফল: শীর্ষে শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়

সাটুরিয়ায় মা-ছেলে হত্যা মামলায় দেবরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড

Update Time : ০৬:২৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সৌদি প্রবাসী মো. আশরাফ আলী ওরফে মজনুর স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলে আব্দুল নূরকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় নিহত নারীর দেবর মো. সোলাইমান হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলাটিতে মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

মামলার বিবরণ ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ২০২০ সালে ভাবী পারভীনের সঙ্গে দেবর সোলাইমান হোসেনের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে পারভীন সোলাইমানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাঁদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এর জেরে সোলাইমান ছুরি দিয়ে গলা কেটে পারভীনকে হত্যা করেন।

ঘটনার সময় পারভীনের ৬ বছরের শিশুসন্তান আব্দুল নূর হত্যাকাণ্ডটি দেখে ফেলে। বিষয়টি আশপাশের মানুষের কাছে প্রকাশ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় ঘাতক সোলাইমান শিশুটিকেও একই কায়দায় গলা কেটে হত্যা করে।

চাঞ্চল্যকর এই ডাবল মার্ডারের ঘটনায় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি নিহত পারভীনের মা মজিরন বেগম বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোলাইমান হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়।

রায়ের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান জানান, এ রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট নন এবং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষও এ রায়ে সন্তুষ্ট নয়। আমরা মনে করি, এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’