০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজে নিয়ম ভেঙে ৫ গাছ কাটার অভিযোগ, দায় এড়াচ্ছেন অধ্যক্ষ-ইজারাদার


মাদারীপুরের কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পুকুরপাড় থেকে সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে পাঁচটি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়া ও পুকুরের ইজারাদার সুরাত আলী সিকদার পরস্পরকে দায়ী করছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড়ে কেটে রাখা কয়েকটি মেহগনি ও চাম্বুল গাছের গুঁড়ি এবং ডালপালা পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সম্প্রতি পুকুরপাড়ের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় থাকা চারটি বড় মেহগনি ও একটি চাম্বুল গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
অধ্যক্ষের নির্দেশে গাছ কাটার দাবি ইজারাদারের
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে পুকুরের ইজারাদার সুরাত আলী সিকদার বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই তিনি গাছগুলো কেটেছেন।

তিনি বলেন, “ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অনুমতি বা নির্দেশনা ছাড়া কলেজের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার সাধ্য আমার নেই। তাঁর নির্দেশেই গাছগুলো কাটা হয়েছে।”
পাঁচটি গাছ কাটার দায় নিতে নারাজ অধ্যক্ষ
তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়া ইজারাদারের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মৌখিক সম্মতি নিয়ে ইজারাদারকে কেবল একটি নির্দিষ্ট গাছ সরানোর কথা বলা হয়েছিল।
অধ্যক্ষ বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মৌখিক সম্মতি নিয়ে ইজারাদারকে কেবল একটি নির্দিষ্ট গাছ সরাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমার অগোচরে কীভাবে অতিরিক্ত আরও চারটি গাছ কাটা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।”
তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ অপসারণ কিংবা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন, টেন্ডার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ইউএনও বলছেন, তদন্ত চলছে
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাশ বলেন, সরকারি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ক্ষেত্রে কোনো মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে একাধিক গাছ কাটার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

এসআই আলতাফ হত্যা: ১৬৪ ধারায় জহুরুল, আপন ও জিহাদের জবানবন্দি।

সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজে নিয়ম ভেঙে ৫ গাছ কাটার অভিযোগ, দায় এড়াচ্ছেন অধ্যক্ষ-ইজারাদার

Update Time : ১০:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাদারীপুরের কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পুকুরপাড় থেকে সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে পাঁচটি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়া ও পুকুরের ইজারাদার সুরাত আলী সিকদার পরস্পরকে দায়ী করছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড়ে কেটে রাখা কয়েকটি মেহগনি ও চাম্বুল গাছের গুঁড়ি এবং ডালপালা পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সম্প্রতি পুকুরপাড়ের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় থাকা চারটি বড় মেহগনি ও একটি চাম্বুল গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
অধ্যক্ষের নির্দেশে গাছ কাটার দাবি ইজারাদারের
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে পুকুরের ইজারাদার সুরাত আলী সিকদার বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই তিনি গাছগুলো কেটেছেন।

তিনি বলেন, “ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অনুমতি বা নির্দেশনা ছাড়া কলেজের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার সাধ্য আমার নেই। তাঁর নির্দেশেই গাছগুলো কাটা হয়েছে।”
পাঁচটি গাছ কাটার দায় নিতে নারাজ অধ্যক্ষ
তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়া ইজারাদারের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মৌখিক সম্মতি নিয়ে ইজারাদারকে কেবল একটি নির্দিষ্ট গাছ সরানোর কথা বলা হয়েছিল।
অধ্যক্ষ বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মৌখিক সম্মতি নিয়ে ইজারাদারকে কেবল একটি নির্দিষ্ট গাছ সরাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমার অগোচরে কীভাবে অতিরিক্ত আরও চারটি গাছ কাটা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।”
তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ অপসারণ কিংবা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন, টেন্ডার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ইউএনও বলছেন, তদন্ত চলছে
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাশ বলেন, সরকারি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ক্ষেত্রে কোনো মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে একাধিক গাছ কাটার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”