০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসআই আলতাফ হত্যা: ১৬৪ ধারায় জহুরুল, আপন ও জিহাদের জবানবন্দি।


ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। মামলার প্রধান আসামি জহুরুল ইসলামসহ তিন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুই আসামি হলেন আপন ও জিহাদ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জহুরুল ইসলাম ও আপন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে এবং জিহাদ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমদের আদালতে জবানবন্দি দেন। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম।

তবে জবানবন্দিতে তারা কী বলেছেন, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি। ফলে তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল কিংবা অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ ও মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধরকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। বিষয়টি দেখে এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করলে হামলাকারীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা আরও লোকজন জড়ো করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলাম কাছের একটি পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা তাদের পিছু নিয়ে কারখানার ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে রড, পাইপ ও কাঠের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বাবা-ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় ছেলে আরিফুল ইসলামও গুরুতর আহত হন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলি পারভীন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। এতে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মামলায় মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে জহুরুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, ছাব্বির আহমেদ, ওয়াসিম, রাকিব, বিল্লাল, দেলোয়ার, গোলাম রাব্বী, কাশেম ও জিৎ রয়েছেন। পুলিশের দাবি, জিৎ হামলায় সরাসরি অংশ নিয়ে কাঠের লাঠি দিয়ে আলতাফ হোসেনের মাথা ও কপালে আঘাত করেন।

প্রধান আসামি জহুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ৮ সেপ্টেম্বর মামলার অপর আট আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠান আদালত।

এর আগে র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আপন ও জিহাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগের কথা জানানো হয়। র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আপন স্টিলের পাইপ দিয়ে আলতাফের মাথায় আঘাত করেন এবং জিহাদ ছুরি দিয়ে তাকে জখম করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া যায়।

এখন তিন আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার সময় উপস্থিত অন্যদের বিষয়ে কোনো তথ্য এসেছে কি না, হামলাকারীরা কীভাবে সংগঠিত হয়েছিল এবং কারখানায় গিয়ে হামলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল- এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জবানবন্দির তথ্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও ঘটনাস্থলের আলামতও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাকির আল আহসান জানিয়েছেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এজাহারের বাইরে আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও তদন্তের তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক অজ্ঞাত যুবকের ৬ টুকরো মরদেহ উদ্ধার

এসআই আলতাফ হত্যা: ১৬৪ ধারায় জহুরুল, আপন ও জিহাদের জবানবন্দি।

Update Time : ০৪:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। মামলার প্রধান আসামি জহুরুল ইসলামসহ তিন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুই আসামি হলেন আপন ও জিহাদ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জহুরুল ইসলাম ও আপন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে এবং জিহাদ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমদের আদালতে জবানবন্দি দেন। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম।

তবে জবানবন্দিতে তারা কী বলেছেন, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি। ফলে তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল কিংবা অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ ও মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধরকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। বিষয়টি দেখে এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করলে হামলাকারীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা আরও লোকজন জড়ো করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলাম কাছের একটি পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা তাদের পিছু নিয়ে কারখানার ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে রড, পাইপ ও কাঠের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বাবা-ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় ছেলে আরিফুল ইসলামও গুরুতর আহত হন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলি পারভীন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। এতে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মামলায় মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে জহুরুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, ছাব্বির আহমেদ, ওয়াসিম, রাকিব, বিল্লাল, দেলোয়ার, গোলাম রাব্বী, কাশেম ও জিৎ রয়েছেন। পুলিশের দাবি, জিৎ হামলায় সরাসরি অংশ নিয়ে কাঠের লাঠি দিয়ে আলতাফ হোসেনের মাথা ও কপালে আঘাত করেন।

প্রধান আসামি জহুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ৮ সেপ্টেম্বর মামলার অপর আট আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠান আদালত।

এর আগে র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আপন ও জিহাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগের কথা জানানো হয়। র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আপন স্টিলের পাইপ দিয়ে আলতাফের মাথায় আঘাত করেন এবং জিহাদ ছুরি দিয়ে তাকে জখম করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া যায়।

এখন তিন আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার সময় উপস্থিত অন্যদের বিষয়ে কোনো তথ্য এসেছে কি না, হামলাকারীরা কীভাবে সংগঠিত হয়েছিল এবং কারখানায় গিয়ে হামলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল- এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জবানবন্দির তথ্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও ঘটনাস্থলের আলামতও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাকির আল আহসান জানিয়েছেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এজাহারের বাইরে আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও তদন্তের তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।