০৮:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরিরামপুরে ১৯৮ টন ধান আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর খাদ্য গুদামে চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সংগৃহীত সরকারি ধানের একটি বড় অংশ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ৩০৯ টন ধানের মধ্যে মাত্র ১১১ টন ধান সংগ্রহ ও মাড়াই দেখিয়ে বাকি প্রায় ১৯৮ টন ধান কাগজে-কলমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে এসেছে হরিরামপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আলামিনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলতি সংগ্রহ মৌসুমে উপজেলা খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে মোট ৩০৯ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আলামিন নানাবিধ অনিয়ম ও যোগসাজশের মাধ্যমে বাস্তবে মাত্র ১১১ টন ধান সংগ্রহ করেছেন। কাগজে-কলমে সম্পূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা দেখানো হলেও বাকি ১৯৮ টন ধানের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, তারা নির্ধারিত সরকারি মূল্যে গুদামে ধান সরবরাহ করতে গেলে গুদাম কর্মকর্তা নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেন। সঠিক প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে নিজস্ব সুবিধাজনক হিসাব দেখিয়ে বিশাল পরিমাণ এই ধান আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে সরকারি ধান মাড়াইয়ের দায়িত্বে থাকা ‘মা-মাহি রাইস মিল’-এ যোগাযোগ করা হলে মিলের প্রোপ্রাইটার কামরুজ্জামান জানান, ঝিটকা খাদ্য গুদাম থেকে তাকে মাড়াইয়ের জন্য মাত্র ১১১ টন ধান দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমাকে ১১১ টন ধানই দেওয়া হয়েছে এবং আমার হিসাবের খাতায় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।”

তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আলামিন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “মা-মাহি রাইস মিল থেকেই ৩০৯ টন ধান মাড়াই করা হয়েছে। রাইস মিলের মালিক অশিক্ষিত লোক, তিনি হিসাব-কিতাব বোঝেন না। আমাদের কাছে সব ধরনের দাপ্তরিক কাগজপত্র রয়েছে।” এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রমাণ বা নথিপত্র দেখাতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অফিস থেকে বের হয়ে যান এবং আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রাবেয়া সুলতানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার উপজেলা কার্যালয়ে সরাসরি গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

সামগ্রিক বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা খন্দকার নাজমুস সাকিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে যদি সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বিন্দুমাত্র জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, সরকারি খাদ্য গুদামে এমন বড় ধরণের অনিয়মের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল। তারা দ্রুত একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হিসাব উন্মোচন এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কালকিনি ও ডাসারে এইচএসসি পরীক্ষার ফল: শীর্ষে শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়

হরিরামপুরে ১৯৮ টন ধান আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

Update Time : ০৫:১৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর খাদ্য গুদামে চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সংগৃহীত সরকারি ধানের একটি বড় অংশ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ৩০৯ টন ধানের মধ্যে মাত্র ১১১ টন ধান সংগ্রহ ও মাড়াই দেখিয়ে বাকি প্রায় ১৯৮ টন ধান কাগজে-কলমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে এসেছে হরিরামপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আলামিনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলতি সংগ্রহ মৌসুমে উপজেলা খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে মোট ৩০৯ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আলামিন নানাবিধ অনিয়ম ও যোগসাজশের মাধ্যমে বাস্তবে মাত্র ১১১ টন ধান সংগ্রহ করেছেন। কাগজে-কলমে সম্পূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা দেখানো হলেও বাকি ১৯৮ টন ধানের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, তারা নির্ধারিত সরকারি মূল্যে গুদামে ধান সরবরাহ করতে গেলে গুদাম কর্মকর্তা নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেন। সঠিক প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে নিজস্ব সুবিধাজনক হিসাব দেখিয়ে বিশাল পরিমাণ এই ধান আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে সরকারি ধান মাড়াইয়ের দায়িত্বে থাকা ‘মা-মাহি রাইস মিল’-এ যোগাযোগ করা হলে মিলের প্রোপ্রাইটার কামরুজ্জামান জানান, ঝিটকা খাদ্য গুদাম থেকে তাকে মাড়াইয়ের জন্য মাত্র ১১১ টন ধান দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমাকে ১১১ টন ধানই দেওয়া হয়েছে এবং আমার হিসাবের খাতায় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।”

তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আলামিন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “মা-মাহি রাইস মিল থেকেই ৩০৯ টন ধান মাড়াই করা হয়েছে। রাইস মিলের মালিক অশিক্ষিত লোক, তিনি হিসাব-কিতাব বোঝেন না। আমাদের কাছে সব ধরনের দাপ্তরিক কাগজপত্র রয়েছে।” এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রমাণ বা নথিপত্র দেখাতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অফিস থেকে বের হয়ে যান এবং আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রাবেয়া সুলতানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার উপজেলা কার্যালয়ে সরাসরি গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

সামগ্রিক বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা খন্দকার নাজমুস সাকিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে যদি সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বিন্দুমাত্র জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, সরকারি খাদ্য গুদামে এমন বড় ধরণের অনিয়মের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল। তারা দ্রুত একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হিসাব উন্মোচন এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।