আসন্ন কুড়িগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক পৌর মেয়র আবু বকর সিদ্দিক প্রতিদিন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তিনি কুড়িগ্রাম পৌরসভাকে আধুনিক, ডিজিটাল, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। এ লক্ষ্যে তিনি পৌরবাসীর সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছেন।
আবু বকর সিদ্দিক কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র। তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, কুড়িগ্রাম পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত।
তার সমর্থকদের দাবি, সাবেক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কুড়িগ্রাম পৌরসভার সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি সহায়তায় রেললাইন অপসারণ করে সেখানে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ এবং জিয়া বাজারের সম্প্রসারণ তার সময়ের উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরছেন তারা।
শ্রমজীবী মানুষের সংগঠিত হওয়া ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও আবু বকর সিদ্দিকের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তার অনুসারীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার সহযোগিতায় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে ওঠে। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা বেসরকারি কারিগরি বিদ্যুৎ শ্রমিক ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও তিনি পরিচিত।
যানজট নিরসন ও উন্নত সড়কব্যবস্থায় গুরুত্ব
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হলে কুড়িগ্রাম পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পরিকল্পিত ওয়ান-ওয়ে ব্যবস্থা চালু, যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সড়কের পাশে ফুটপাত নির্মাণে গুরুত্ব দিতে চান আবু বকর সিদ্দিক। তার পরিকল্পনায় রয়েছে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করা এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কমানো এবং নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনের ওপর জোর দিতে চান তিনি। প্রতিটি সড়কে পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপন করে রাতের চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের পরিকল্পনা
নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে পৌর এলাকার প্রতিটি বাসিন্দার জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিতে চান এই মনোনয়নপ্রত্যাশী। পাশাপাশি নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, পৌরসভার উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা চালু এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন তিনি। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৌরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে আগের মতো পৌরসভায় চিকিৎসকের ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
পরিচ্ছন্ন ও ডিজিটাল পৌরসভা গড়ার প্রত্যাশা
আবু বকর সিদ্দিকের নির্বাচনী ভাবনায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি কুড়িগ্রাম পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও ডিজিটাল সেবাসমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চান। এ জন্য সড়ক, ড্রেনেজ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সুবিধার সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানাচ্ছেন তিনি।
গণসংযোগকালে তিনি বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়নসংক্রান্ত মতামত জানার চেষ্টা করছেন। পৌরবাসীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং নাগরিক সমস্যার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে চান তিনি।
বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠে সক্রিয়
দলীয় মনোনয়নকে সামনে রেখে আবু বকর সিদ্দিকের ধারাবাহিক গণসংযোগ তার নির্বাচনী তৎপরতাকে আরও দৃশ্যমান করছে। তার অনুসারীরা তাকে বিএনপির একজন ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে মেয়র পদে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাদের প্রত্যাশা, দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার সুযোগ পাবেন।
তবে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ও ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট দলীয় সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এরই মধ্যে আবু বকর সিদ্দিক পৌরবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার নাগরিকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—যানজটমুক্ত সড়ক, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সুপেয় পানি, কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। এসব চাহিদা পূরণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে পৌরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। আবু বকর সিদ্দিকের নির্বাচনী পরিকল্পনায় এসব বিষয় কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা নিয়ে এখন আগ্রহ রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে।
মো:তোরাব আলী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: 









