০২:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের মূল অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। ধর্ম যার যার—রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার—নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, হিন্দু ধর্মমতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেন এবং ভক্তদের কল্যাণ সাধন করে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটান। সত্য ও সুন্দরের এই আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠী, গোত্র ও সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। এটিই বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের মূল সৌন্দর্য। এ ধরনের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব পরিস্ফুটিত হয়ে ওঠে।”

সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারকে সকল ধর্মের মূল উপজীব্য হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতার কল্যাণই সকল ধর্মের মূল শিক্ষা। তাই যার যার ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি অনুশীলনের পাশাপাশি মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ বহাল রাখা সকলের দায়িত্ব।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। একই সাথে শুরু হয়েছে দেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই নতুন বাংলাদেশে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা, আপনারা উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে, নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সারা দেশে উৎসব-আনন্দ উদযাপন করুন।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কালকিনি ও ডাসারে এইচএসসি পরীক্ষার ফল: শীর্ষে শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০৮:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের মূল অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। ধর্ম যার যার—রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার—নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, হিন্দু ধর্মমতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেন এবং ভক্তদের কল্যাণ সাধন করে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটান। সত্য ও সুন্দরের এই আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠী, গোত্র ও সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। এটিই বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের মূল সৌন্দর্য। এ ধরনের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব পরিস্ফুটিত হয়ে ওঠে।”

সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারকে সকল ধর্মের মূল উপজীব্য হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতার কল্যাণই সকল ধর্মের মূল শিক্ষা। তাই যার যার ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি অনুশীলনের পাশাপাশি মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ বহাল রাখা সকলের দায়িত্ব।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। একই সাথে শুরু হয়েছে দেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই নতুন বাংলাদেশে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা, আপনারা উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে, নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সারা দেশে উৎসব-আনন্দ উদযাপন করুন।”