০১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমিদার বাড়ির প্রকল্পের কাজ অদৃশ্য উন্নয়ন, দায় এড়াচ্ছেন কর্মকর্তারা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ঐতিহাসিক তেওতা জমিদার বাড়ির পুকুর সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত দেড় লাখ টাকার কোনো কাজ বাস্তবে দৃশ্যমান হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নথিপত্রে প্রকল্প থাকলেও হদিস মিলছে না এ সংক্রান্ত কাজের। এদিকে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

শিবালয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাহমিনা আক্তার চৌধুরীর কাছে প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাজের তদারকি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, “এই প্রকল্পের কাজ তৎকালীন ইউএনও মো. জাকির হোসেন স্যার তদারকি করেছেন। তিনি ভালো জানেন।” একজন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও নিজের কাজের তদারকির দায় সাবেক কর্মকর্তার ওপর চাপানোয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পিআইও যার ওপর দায় চাপিয়েছেন, সেই সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন কয়েক মাস আগে বদলি হয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে তিনি অন্য জেলায় কর্মরত থাকায় এবং সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পের অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকারকে অবগত করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পের বরাদ্দ কাকে দেওয়া হয়েছিল আগে খোঁজ খবর নেন বলেই , ১০ মিনিট পরে আপনাক ফোন দিচ্ছি। আবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমার সামনে অনেক লোকজন রয়েছে, আমি কল ব্যাক করছি,

স্থানীয়রা বলছেন, কাজ না করেই টাকা তুলে নেওয়া এখন একটি ওপেন সিক্রেট। দেড় লাখ টাকা ছোট অংক মনে হলেও একটি ঐতিহাসিক স্থানের সৌন্দর্য বর্ধনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো। কিন্তু তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতি এবং সাবেক কর্মকর্তার দোহাই দিয়ে এই অর্থ ‘হরিলুট’ করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

পিআইও-র উপস্থিতিতে কাজ হওয়ার কথা থাকলেও কেন তিনি তদারকি করলেন না? আর যদি কাজ না-ই হয়ে থাকে, তবে সেই বরাদ্দের টাকা এখন কোথায়? প্রশ্ন স্থানীয়দের।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান-৬ জুয়াড়ি আটক

জমিদার বাড়ির প্রকল্পের কাজ অদৃশ্য উন্নয়ন, দায় এড়াচ্ছেন কর্মকর্তারা

Update Time : ১১:৩৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ঐতিহাসিক তেওতা জমিদার বাড়ির পুকুর সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত দেড় লাখ টাকার কোনো কাজ বাস্তবে দৃশ্যমান হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নথিপত্রে প্রকল্প থাকলেও হদিস মিলছে না এ সংক্রান্ত কাজের। এদিকে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

শিবালয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাহমিনা আক্তার চৌধুরীর কাছে প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাজের তদারকি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, “এই প্রকল্পের কাজ তৎকালীন ইউএনও মো. জাকির হোসেন স্যার তদারকি করেছেন। তিনি ভালো জানেন।” একজন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও নিজের কাজের তদারকির দায় সাবেক কর্মকর্তার ওপর চাপানোয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পিআইও যার ওপর দায় চাপিয়েছেন, সেই সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন কয়েক মাস আগে বদলি হয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে তিনি অন্য জেলায় কর্মরত থাকায় এবং সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পের অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকারকে অবগত করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পের বরাদ্দ কাকে দেওয়া হয়েছিল আগে খোঁজ খবর নেন বলেই , ১০ মিনিট পরে আপনাক ফোন দিচ্ছি। আবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমার সামনে অনেক লোকজন রয়েছে, আমি কল ব্যাক করছি,

স্থানীয়রা বলছেন, কাজ না করেই টাকা তুলে নেওয়া এখন একটি ওপেন সিক্রেট। দেড় লাখ টাকা ছোট অংক মনে হলেও একটি ঐতিহাসিক স্থানের সৌন্দর্য বর্ধনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো। কিন্তু তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতি এবং সাবেক কর্মকর্তার দোহাই দিয়ে এই অর্থ ‘হরিলুট’ করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

পিআইও-র উপস্থিতিতে কাজ হওয়ার কথা থাকলেও কেন তিনি তদারকি করলেন না? আর যদি কাজ না-ই হয়ে থাকে, তবে সেই বরাদ্দের টাকা এখন কোথায়? প্রশ্ন স্থানীয়দের।