০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ শুভ জন্মাষ্টমী,শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব স্মরণে নানা আয়োজন


আজ শুভ জন্মাষ্টমী শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব স্মরণে নানা আয়োজন পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমীর উৎসব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব স্মরণে প্রতিবছর এ উৎসব পালন করেন ভক্তরা।

জানা গেছে, দ্বাপর যুগে পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার ও অধর্মের বিস্তার ঘটেছিল,তখন ধর্মের প্রতিষ্ঠা ও অধর্মের বিনাশের জন্য শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। মথুরার রাজা কংসের কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের অষ্টম সন্তান হিসেবে জন্ম নেন কৃষ্ণ।

নিশীথ রাতে কৃষ্ণের জন্মের পর কারাগারের দরজা অলৌকিকভাবে খুলে যায়। পিতা বসুদেব নবজাতক কৃষ্ণকে নিয়ে যমুনা পেরিয়ে গোকুলে পৌঁছে দেন এবং নন্দ-যশোদার কাছে তাঁকে রেখে আসেন। সেখানেই শুরু হয় গোপাল কৃষ্ণের শৈশবলীলা-যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মাখন,বাঁশি,গোপালদের দল আর বৃন্দাবনের অপরূপ প্রেমকথা।

সকাল থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা-অর্চনা,গীতাপাঠ, কীর্তন এর পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ফুল ও আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে মন্দির। কোথাও শিশুদের রাধা-কৃষ্ণের সাজে সাজানো হচ্ছে,আবার কোথাও আয়োজন করা হচ্ছে কৃষ্ণের বাল্যলীলা,ধর্মীয় নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

অনেক ভক্ত এদিন উপবাস ও ব্রত পালন করেন। দুধ, দই,মাখন-মিছরি,ফলমূলসহ নানা উপকরণ দিয়ে গোপালের ভোগ নিবেদন করা হয়। রাত গভীর হলে অপেক্ষা থাকে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের-নিশীথে শ্রীকৃষ্ণের জন্মক্ষণ স্মরণ করে বিশেষ পূজা,অভিষেক ও আরতি অনুষ্ঠিত হয়।

শঙ্খ, ঘণ্টা আর কীর্তনের ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। দেশের বড় মন্দির থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট ছোট মন্দির ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে
সবখানেই আজ ভক্তির আবেশ। কোথাও শোভাযাত্রা,কোথাও কীর্তন,কোথাও ধর্মীয় আলোচনা,আবার কোথাও সারারাত চলবে কৃষ্ণনাম ও ভক্তিগান।

বাঁশির সুরে প্রেম, গীতার বাণীতে কর্মের শিক্ষা আর জীবনের প্রতিটি সংকটে সত্যের পথে থাকার আহ্বান-শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের এই বার্তাই যেন জন্মাষ্টমীর মূল সুর।

তাই উৎসবের আনন্দ পেরিয়ে জন্মাষ্টমী আজ মানুষের কাছে একটি প্রত্যয়ের দিন।
অন্ধকারের বুক চিরে যেমন এসেছিলেন কৃষ্ণ, তেমনি মানুষের হৃদয়েও জেগে উঠুক প্রেম, মানবতা,ন্যায় ও শান্তির আলো।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক অজ্ঞাত যুবকের ৬ টুকরো মরদেহ উদ্ধার

আজ শুভ জন্মাষ্টমী,শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব স্মরণে নানা আয়োজন

Update Time : ১০:২৩:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আজ শুভ জন্মাষ্টমী শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব স্মরণে নানা আয়োজন পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমীর উৎসব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব স্মরণে প্রতিবছর এ উৎসব পালন করেন ভক্তরা।

জানা গেছে, দ্বাপর যুগে পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার ও অধর্মের বিস্তার ঘটেছিল,তখন ধর্মের প্রতিষ্ঠা ও অধর্মের বিনাশের জন্য শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। মথুরার রাজা কংসের কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের অষ্টম সন্তান হিসেবে জন্ম নেন কৃষ্ণ।

নিশীথ রাতে কৃষ্ণের জন্মের পর কারাগারের দরজা অলৌকিকভাবে খুলে যায়। পিতা বসুদেব নবজাতক কৃষ্ণকে নিয়ে যমুনা পেরিয়ে গোকুলে পৌঁছে দেন এবং নন্দ-যশোদার কাছে তাঁকে রেখে আসেন। সেখানেই শুরু হয় গোপাল কৃষ্ণের শৈশবলীলা-যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মাখন,বাঁশি,গোপালদের দল আর বৃন্দাবনের অপরূপ প্রেমকথা।

সকাল থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা-অর্চনা,গীতাপাঠ, কীর্তন এর পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ফুল ও আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে মন্দির। কোথাও শিশুদের রাধা-কৃষ্ণের সাজে সাজানো হচ্ছে,আবার কোথাও আয়োজন করা হচ্ছে কৃষ্ণের বাল্যলীলা,ধর্মীয় নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

অনেক ভক্ত এদিন উপবাস ও ব্রত পালন করেন। দুধ, দই,মাখন-মিছরি,ফলমূলসহ নানা উপকরণ দিয়ে গোপালের ভোগ নিবেদন করা হয়। রাত গভীর হলে অপেক্ষা থাকে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের-নিশীথে শ্রীকৃষ্ণের জন্মক্ষণ স্মরণ করে বিশেষ পূজা,অভিষেক ও আরতি অনুষ্ঠিত হয়।

শঙ্খ, ঘণ্টা আর কীর্তনের ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। দেশের বড় মন্দির থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট ছোট মন্দির ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে
সবখানেই আজ ভক্তির আবেশ। কোথাও শোভাযাত্রা,কোথাও কীর্তন,কোথাও ধর্মীয় আলোচনা,আবার কোথাও সারারাত চলবে কৃষ্ণনাম ও ভক্তিগান।

বাঁশির সুরে প্রেম, গীতার বাণীতে কর্মের শিক্ষা আর জীবনের প্রতিটি সংকটে সত্যের পথে থাকার আহ্বান-শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের এই বার্তাই যেন জন্মাষ্টমীর মূল সুর।

তাই উৎসবের আনন্দ পেরিয়ে জন্মাষ্টমী আজ মানুষের কাছে একটি প্রত্যয়ের দিন।
অন্ধকারের বুক চিরে যেমন এসেছিলেন কৃষ্ণ, তেমনি মানুষের হৃদয়েও জেগে উঠুক প্রেম, মানবতা,ন্যায় ও শান্তির আলো।