০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় শয়তানের নিশ্বাসে’অচেতন করে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের অভিযোগ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্বর্ণের বার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কথিত ‘শয়তানের নিশ্বাস’ প্রয়োগ করে এক গৃহবধূর কাছ থেকে প্রায় ৭ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার হয়ে ওই নারী নিজের পরিহিত স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও লকেটসহ প্রায় ১ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২০০ টাকা হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও গোপালপুর রোডের দীপক স্বর্ণকারের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মরিয়ম খানম (২৬) আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাঁকাইল গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে এবং উপজেলার পানাইল গ্রামের আমিনুর রহমানের স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মরিয়মের ছেলে গোলাম রাব্বি আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুপুরে স্কুল ছুটি শেষে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মরিয়ম পানাইল গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের সামনে থেকে গোপালপুরগামী একটি ইজিবাইকে ওঠেন।
ইজিবাইকটি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীবেশে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি তাতে ওঠেন। পরে ইজিবাইকটি গোপালপুর রোডে দীপক স্বর্ণকারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি রাস্তার ওপর একটি ছোট ব্যাগ পড়ে থাকার কথা জানান। এরপর ব্যাগটি হাতে নিয়ে মরিয়মকে দেখানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাগের ভেতরে বোনের বিয়ের জন্য ৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের বার এবং স্বর্ণকারের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি রয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। চিঠিতে ওই স্বর্ণের বারের মূল্য ৬ লাখ টাকা উল্লেখ রয়েছে বলেও তাকে বলা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিষয়টি দেখিয়ে তাকে নানা ধরনের প্রলোভন ও কথাবার্তায় ফাঁসানো হয়। একপর্যায়ে কথিত ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা কোনো ধরনের গন্ধযুক্ত পদার্থের প্রভাবে তিনি স্বাভাবিক বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে নিজের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা প্রতারকদের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মরিয়মের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর গলায় থাকা প্রায় ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, প্রায় ৩ আনা ওজনের কানের দুল ও লকেটসহ মোট প্রায় ৭ আনা স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় প্রতারকরা। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা। একই সঙ্গে তাঁর ব্যাগে থাকা নগদ ২০০ টাকাও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে বাঁকাইল কামারবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে প্রতারকরা মরিয়মকে অন্য একটি ইজিবাইকে তুলে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে তাঁর স্বাভাবিক জ্ঞান ফিরলে স্বর্ণালংকার ও টাকা না থাকার বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মরিয়ম খানম আলফাডাঙ্গা থানায় অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক অজ্ঞাত যুবকের ৬ টুকরো মরদেহ উদ্ধার

আলফাডাঙ্গায় শয়তানের নিশ্বাসে’অচেতন করে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের অভিযোগ

Update Time : ০৫:১৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্বর্ণের বার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কথিত ‘শয়তানের নিশ্বাস’ প্রয়োগ করে এক গৃহবধূর কাছ থেকে প্রায় ৭ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার হয়ে ওই নারী নিজের পরিহিত স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও লকেটসহ প্রায় ১ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২০০ টাকা হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও গোপালপুর রোডের দীপক স্বর্ণকারের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মরিয়ম খানম (২৬) আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাঁকাইল গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে এবং উপজেলার পানাইল গ্রামের আমিনুর রহমানের স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মরিয়মের ছেলে গোলাম রাব্বি আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুপুরে স্কুল ছুটি শেষে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মরিয়ম পানাইল গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের সামনে থেকে গোপালপুরগামী একটি ইজিবাইকে ওঠেন।
ইজিবাইকটি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীবেশে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি তাতে ওঠেন। পরে ইজিবাইকটি গোপালপুর রোডে দীপক স্বর্ণকারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি রাস্তার ওপর একটি ছোট ব্যাগ পড়ে থাকার কথা জানান। এরপর ব্যাগটি হাতে নিয়ে মরিয়মকে দেখানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাগের ভেতরে বোনের বিয়ের জন্য ৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের বার এবং স্বর্ণকারের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি রয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। চিঠিতে ওই স্বর্ণের বারের মূল্য ৬ লাখ টাকা উল্লেখ রয়েছে বলেও তাকে বলা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিষয়টি দেখিয়ে তাকে নানা ধরনের প্রলোভন ও কথাবার্তায় ফাঁসানো হয়। একপর্যায়ে কথিত ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা কোনো ধরনের গন্ধযুক্ত পদার্থের প্রভাবে তিনি স্বাভাবিক বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে নিজের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা প্রতারকদের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মরিয়মের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর গলায় থাকা প্রায় ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, প্রায় ৩ আনা ওজনের কানের দুল ও লকেটসহ মোট প্রায় ৭ আনা স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় প্রতারকরা। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা। একই সঙ্গে তাঁর ব্যাগে থাকা নগদ ২০০ টাকাও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে বাঁকাইল কামারবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে প্রতারকরা মরিয়মকে অন্য একটি ইজিবাইকে তুলে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে তাঁর স্বাভাবিক জ্ঞান ফিরলে স্বর্ণালংকার ও টাকা না থাকার বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মরিয়ম খানম আলফাডাঙ্গা থানায় অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।