১২:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় স্বামী-স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মিঠাপুর এলাকায় স্বামী-স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মুখোশপরা ৫-৬ জনের একটি ডাকাত দল গ্রিল কেটে ও দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী (৬৩) আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশিদা খাতুনের স্বামী। তিনি আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক প্রধান অফিস সহকারী। এ ঘটনায় তিনি আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে খাবার শেষে মোহাম্মদ আলী ও তাঁর স্ত্রী নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন বাড়ির পূর্ব পাশের এসএস গ্রিল কেটে গেস্ট রুমের দুটি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তাঁদের কক্ষের ছিটকিনি ভেঙে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রীকে জিম্মি করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় ডাকাতরা মোহাম্মদ আলীর হাতে ও কাঁধে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে আলমারি, ওয়ারড্রপ ও ফাইল ক্যাবিন খুলে দুটি গলার হার, আট জোড়া কানের দুল, দুটি বালা, আটটি আংটি ও দুটি চেইনসহ মোট ১০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। অভিযোগে লুট হওয়া মালামালের মোট মূল্য ২২ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী অভিযোগে জানান, ডাকাতদের সবার মুখ ও কপাল গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। তাদের হাতে চাপাতি, ছুরি, রামদা ও লোহার রড ছিল। তাদের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫ বছর। তারা নিজেদের মধ্যে ফরিদপুরের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ডাকাতরা স্বামী-স্ত্রীকে একটি কক্ষে রেখে চলে যায়। পরে তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। স্থানীয় হারেজ ও হেমায়েত শেখও ডাকাতির খবর পেয়ে বাড়ির দিকে আসার পথে অস্ত্রধারী ৫-৬ জনকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের কাছে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক রাশিদা খাতুন বলেন, রাতে হঠাৎ অস্ত্রধারীরা ঘরে ঢুকে আমাদের জিম্মি করে। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এ ঘটনায় পরিবারের সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলীর ছেলে আইনজীবী রাফিজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিকল্পিতভাবে বাড়ির গ্রিল ও দরজা ভেঙে তারা ঘরে প্রবেশ করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি সোহেল সরোয়ার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কালকিনিতে নতুন ইউএনওকে গ্রাম পুলিশের শুভেচ্ছা

আলফাডাঙ্গায় স্বামী-স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

Update Time : ০৩:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মিঠাপুর এলাকায় স্বামী-স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মুখোশপরা ৫-৬ জনের একটি ডাকাত দল গ্রিল কেটে ও দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী (৬৩) আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশিদা খাতুনের স্বামী। তিনি আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক প্রধান অফিস সহকারী। এ ঘটনায় তিনি আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে খাবার শেষে মোহাম্মদ আলী ও তাঁর স্ত্রী নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন বাড়ির পূর্ব পাশের এসএস গ্রিল কেটে গেস্ট রুমের দুটি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তাঁদের কক্ষের ছিটকিনি ভেঙে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রীকে জিম্মি করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় ডাকাতরা মোহাম্মদ আলীর হাতে ও কাঁধে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে আলমারি, ওয়ারড্রপ ও ফাইল ক্যাবিন খুলে দুটি গলার হার, আট জোড়া কানের দুল, দুটি বালা, আটটি আংটি ও দুটি চেইনসহ মোট ১০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। অভিযোগে লুট হওয়া মালামালের মোট মূল্য ২২ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী অভিযোগে জানান, ডাকাতদের সবার মুখ ও কপাল গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। তাদের হাতে চাপাতি, ছুরি, রামদা ও লোহার রড ছিল। তাদের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫ বছর। তারা নিজেদের মধ্যে ফরিদপুরের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ডাকাতরা স্বামী-স্ত্রীকে একটি কক্ষে রেখে চলে যায়। পরে তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। স্থানীয় হারেজ ও হেমায়েত শেখও ডাকাতির খবর পেয়ে বাড়ির দিকে আসার পথে অস্ত্রধারী ৫-৬ জনকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের কাছে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক রাশিদা খাতুন বলেন, রাতে হঠাৎ অস্ত্রধারীরা ঘরে ঢুকে আমাদের জিম্মি করে। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এ ঘটনায় পরিবারের সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলীর ছেলে আইনজীবী রাফিজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিকল্পিতভাবে বাড়ির গ্রিল ও দরজা ভেঙে তারা ঘরে প্রবেশ করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি সোহেল সরোয়ার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।