১০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, জিএমসহ চারজন বরখাস্ত ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর


মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার অস্বাভাবিক বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহম্মদপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এস এম শাহিন আহসান বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত জিএমের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চারজনের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বরখাস্ত হওয়া অন্য তিনজন হলেন-শালিখা উপজেলার আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী রায়, বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মোহাম্মদ তোরাপ আলী। জিএম মো. মহিতুল ইসলামকে যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এবং অন্য তিনজনকে মাগুরা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে। ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে। বিলের তথ্য অনুযায়ী, ৮ আগস্ট মিটারের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান রিডিং ৩৯৫। অর্থাৎ এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। কিন্তু এই ব্যবহারের বিপরীতে বিলের ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট ও ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ হয়ে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট বিল হওয়ার কথা ছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা; বিলম্ব মাশুলসহ তা হওয়ার কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা।অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি জানাজানি হলে তা সংশোধন করা হয়। পরে সংশোধিত বিল অনুযায়ী গ্রাহকের প্রকৃত বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। এ ঘটনায় তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় সৃষ্ট ভোগান্তি ও উদ্বেগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আচ্ছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলন

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, জিএমসহ চারজন বরখাস্ত ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর

Update Time : ১১:৪৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬


মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার অস্বাভাবিক বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহম্মদপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এস এম শাহিন আহসান বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত জিএমের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চারজনের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বরখাস্ত হওয়া অন্য তিনজন হলেন-শালিখা উপজেলার আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী রায়, বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মোহাম্মদ তোরাপ আলী। জিএম মো. মহিতুল ইসলামকে যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এবং অন্য তিনজনকে মাগুরা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে। ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে। বিলের তথ্য অনুযায়ী, ৮ আগস্ট মিটারের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান রিডিং ৩৯৫। অর্থাৎ এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। কিন্তু এই ব্যবহারের বিপরীতে বিলের ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট ও ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ হয়ে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট বিল হওয়ার কথা ছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা; বিলম্ব মাশুলসহ তা হওয়ার কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা।অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি জানাজানি হলে তা সংশোধন করা হয়। পরে সংশোধিত বিল অনুযায়ী গ্রাহকের প্রকৃত বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। এ ঘটনায় তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় সৃষ্ট ভোগান্তি ও উদ্বেগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।