০৮:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াকান্দিতে আদালতে বিচারাধীন জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন

বালিয়াকান্দি ( রাজবাড়ী) প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল গ্রামে আদালতে বিচারাধীন জমিতে জোরপূর্বক পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বালিয়াকান্দি থানার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোঃ কাজেম মণ্ডল।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তিনি এ অভিযোগ দাখিল করেন।

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী কাজেম মণ্ডল (৫০), ইলিশকোল গ্রামের মৃত ইদ্রিস মণ্ডলের ছেলে। অভিযোগে বিবাদী হিসেবে বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল গ্রামের বাসুদেব চন্দ্র দাস (৬৫) এবং নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী এলাকার বিনয় সিকদারকে (৪০) উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ইলিশকোল মৌজার এসএ ১১৭ নম্বর খতিয়ানের ৭১ নম্বর দাগে মোট ৩৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২৮ শতাংশ জমি অভিযোগকারী ও তাঁর চাচাতো ভাই দলিলমূলে মালিকানা লাভ করেন। ওই জমির ২০ শতাংশ নিয়ে বিবাদীদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন ১৩৩/২০১৮ নম্বর মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিবাদীরা স্থানীয় অমল্য চাকীসহ কয়েকজনকে নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। এ কাজে বাধা দিলে তাঁরা তা উপেক্ষা করেন। আদালতের মামলার কাগজপত্র দেখানোর পরও নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, জমির বিরোধসংক্রান্ত মামলার বর্তমান অবস্থা জানতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি চিঠি থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন ১৩৩/২০১৮ মামলার রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে গত ২১ মে ২০২৫ তারিখে আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং ১৯৬০/২০২৫ দায়ের করা হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন (পেন্ডিং) রয়েছে।

অভিযোগকারী কাজেম মণ্ডল বলেন, আদালতে বিচারাধীন জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে তাঁরা আর্থিক ও জমিসংক্রান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বালিয়াকান্দিতে আদালতে বিচারাধীন জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন

বালিয়াকান্দিতে আদালতে বিচারাধীন জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন

Update Time : ০৭:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

বালিয়াকান্দি ( রাজবাড়ী) প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল গ্রামে আদালতে বিচারাধীন জমিতে জোরপূর্বক পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বালিয়াকান্দি থানার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোঃ কাজেম মণ্ডল।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তিনি এ অভিযোগ দাখিল করেন।

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী কাজেম মণ্ডল (৫০), ইলিশকোল গ্রামের মৃত ইদ্রিস মণ্ডলের ছেলে। অভিযোগে বিবাদী হিসেবে বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল গ্রামের বাসুদেব চন্দ্র দাস (৬৫) এবং নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী এলাকার বিনয় সিকদারকে (৪০) উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ইলিশকোল মৌজার এসএ ১১৭ নম্বর খতিয়ানের ৭১ নম্বর দাগে মোট ৩৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২৮ শতাংশ জমি অভিযোগকারী ও তাঁর চাচাতো ভাই দলিলমূলে মালিকানা লাভ করেন। ওই জমির ২০ শতাংশ নিয়ে বিবাদীদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন ১৩৩/২০১৮ নম্বর মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিবাদীরা স্থানীয় অমল্য চাকীসহ কয়েকজনকে নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। এ কাজে বাধা দিলে তাঁরা তা উপেক্ষা করেন। আদালতের মামলার কাগজপত্র দেখানোর পরও নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, জমির বিরোধসংক্রান্ত মামলার বর্তমান অবস্থা জানতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি চিঠি থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন ১৩৩/২০১৮ মামলার রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে গত ২১ মে ২০২৫ তারিখে আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং ১৯৬০/২০২৫ দায়ের করা হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন (পেন্ডিং) রয়েছে।

অভিযোগকারী কাজেম মণ্ডল বলেন, আদালতে বিচারাধীন জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে তাঁরা আর্থিক ও জমিসংক্রান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।