মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধা ও লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ‘দৈনিক আমার বার্তা’র অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া বিভাগের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক নাজমুল হাসান। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে সংবাদ সংগ্রহের সময় এক ইন্টার্ন চিকিৎসক তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে একটি মারামারির ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান নাজমুল হাসান। এ সময় সার্জারি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসক তাঁকে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ঘটনার পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিক নাজমুল হাসান। সেখানে তিনি লেখেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে মারামারির ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন চিকিৎসকের অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখে পড়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করলেও এ ধরনের আগ্রাসী মনোভাব হতাশাজনক। তিনি আরও জানান, ওই সংবাদে চিকিৎসকদের সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় ছিল না; বরং আহত ব্যক্তিদের স্বজনদের বক্তব্য নিতেই তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, “আহত এক মুমূর্ষু রোগীর স্বজন এবং আমার এক আত্মীয় আমাকে হাসপাতালে যেতে বলেন। তাঁদের আহ্বানে সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যাই। এ সময় হঠাৎ ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে আমাকে বাধা দেন। তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আমাকে চলে যেতে বলেন। পরে হাসপাতালের অন্য রোগীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমি সেখান থেকে চলে আসি।”
তিনি আরও জানান, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ৪৬৭ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজের কোনো ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেননি। বেলা ৩টার দিকে ৪৬৭ নম্বর কক্ষে অবস্থানকালে নিজের নাম-পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, “ওই সাংবাদিক ভিডিও করছিলেন, যা আমার পছন্দ হয়নি। এ জন্য আমি চিৎকার করে তাঁকে বাইরে চলে যেতে বলেছি।”
অন্য কোনো গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক জানান, অন্য কোনো গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়নি। শুধু ভিডিও ধারণ পছন্দ না হওয়ায় ওই সাংবাদিককে বাইরে চলে যেতে বলেছেন।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনলাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রচার সম্পাদক (দপ্তরে সংযুক্ত) মোমিনুর রহমান। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও সমাজের সার্বিক চিত্র নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরেন। সংবাদ সংগ্রহের মতো পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মিনহাজ উদ্দীন বলেন, “এ ব্যাপারে আমাকে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ নয়। তবে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া উচিত। কোনো সাংবাদিককে পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া কিংবা হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।”
এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মানিকগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ: 

















