০১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

না ফেরার দেশে মাগুরার সেই শিশুটি

সপ্তাহখানেকেরও বেশি সময় ধরে ঠিকানা ছিল হাসপাতালের বিছানা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হেরে গেলো আমাদের ‘নির্ভয়া’। ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মাগুরায় নির্যাতনের শিকার শিশুটি মারা গেছে।

এর আগে, গতকাল বুধবার শিশুটির চারবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (হঠাৎ করে হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া) হয়। আজ হয় দু’বার, এরমধ্যে আজ দ্বিতীয়বার হওয়া কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের প্রায় ৩০ মিনিট পর তার হৃৎস্পন্দন ফিরে আসে। শিশুটির ব্রেন ফাংশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রক্তচাপও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছিলো। সবশেষ তৃতীয় দফা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর সে চলে গেলো না ফেরার দেশে।

শিশুটিকে বাঁচাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসা পর্ষদ গঠন করা হয়েছিল। সর্বাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে গত ৮ মার্চ সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিআইসিইউ থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আইএসপিআর ও প্রেস উইং থেকেও শিশুটির জন্য একাধিকবার দোয়া চাওয়া হয়। তবে, সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে মেয়েটি চলে গেলো চিরতরে।

উল্লেখ্য, মাগুরা শহরতলির নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে গত ৬ মার্চ দুপুরে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এরপর গত শনিবার শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন। এতে শিশুটির বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুরকে আসামি করা হয়েছে। তারা আগে থেকেই পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বোনের স্বামী, শাশুড়ি ও ভাশুরকে রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন ও জুলাই যোদ্ধাদের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন: অভিযুক্তদের বিচার দাবি

না ফেরার দেশে মাগুরার সেই শিশুটি

Update Time : ০৩:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫

সপ্তাহখানেকেরও বেশি সময় ধরে ঠিকানা ছিল হাসপাতালের বিছানা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হেরে গেলো আমাদের ‘নির্ভয়া’। ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মাগুরায় নির্যাতনের শিকার শিশুটি মারা গেছে।

এর আগে, গতকাল বুধবার শিশুটির চারবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (হঠাৎ করে হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া) হয়। আজ হয় দু’বার, এরমধ্যে আজ দ্বিতীয়বার হওয়া কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের প্রায় ৩০ মিনিট পর তার হৃৎস্পন্দন ফিরে আসে। শিশুটির ব্রেন ফাংশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রক্তচাপও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছিলো। সবশেষ তৃতীয় দফা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর সে চলে গেলো না ফেরার দেশে।

শিশুটিকে বাঁচাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসা পর্ষদ গঠন করা হয়েছিল। সর্বাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে গত ৮ মার্চ সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিআইসিইউ থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আইএসপিআর ও প্রেস উইং থেকেও শিশুটির জন্য একাধিকবার দোয়া চাওয়া হয়। তবে, সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে মেয়েটি চলে গেলো চিরতরে।

উল্লেখ্য, মাগুরা শহরতলির নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে গত ৬ মার্চ দুপুরে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এরপর গত শনিবার শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন। এতে শিশুটির বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুরকে আসামি করা হয়েছে। তারা আগে থেকেই পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বোনের স্বামী, শাশুড়ি ও ভাশুরকে রিমান্ডে পাঠায় আদালত।