০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কুমুরতিয়া গ্রামে গ্রাম্য বিরোধের জের ধরে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন বুধবার সকাল নয়টার দিকে কুমুরতিয়া গ্রামের প্রবাসী নুর আলম শেখের বাড়িতে কামাল শেখের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় বাড়ির সদস্যদের মারধর, স্বর্ণালংকার ছিনতাই, নগদ অর্থ লুট এবং ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে শাহা আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীদের সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে হামলাকারীরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ করতে থাকে এবং তার ছেলে শান্ত শেখকে খুঁজতে থাকে। এ সময় বাড়িতে থাকা রোজিনা বেগম প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা রোজিনা বেগমের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে টিনের বাক্সে রাখা প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়ে যায়। হামলার সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ভুক্তভোগী পরিবার আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

ইতোমধ্যে হামলার সময়ের একটি আংশিক ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ভিডিওটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত কামাল শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তবে বাড়িঘর ভাঙচুর বা লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও অভিযোগে উল্লেখিত অর্থ ও মালামাল লুটের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রত্যয়ে আলফাডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠন

আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

Update Time : ০৬:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কুমুরতিয়া গ্রামে গ্রাম্য বিরোধের জের ধরে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন বুধবার সকাল নয়টার দিকে কুমুরতিয়া গ্রামের প্রবাসী নুর আলম শেখের বাড়িতে কামাল শেখের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় বাড়ির সদস্যদের মারধর, স্বর্ণালংকার ছিনতাই, নগদ অর্থ লুট এবং ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে শাহা আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীদের সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে হামলাকারীরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ করতে থাকে এবং তার ছেলে শান্ত শেখকে খুঁজতে থাকে। এ সময় বাড়িতে থাকা রোজিনা বেগম প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা রোজিনা বেগমের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে টিনের বাক্সে রাখা প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়ে যায়। হামলার সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ভুক্তভোগী পরিবার আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

ইতোমধ্যে হামলার সময়ের একটি আংশিক ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ভিডিওটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত কামাল শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তবে বাড়িঘর ভাঙচুর বা লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও অভিযোগে উল্লেখিত অর্থ ও মালামাল লুটের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।