০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় আ্যাপস ব্যাবহার করে প্রেমের ফাঁদ পেতে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

ঢাকার আশুলিয়ায় প্রেমের ফাঁদ পেতে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে হানি ট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে আশুলিয়া থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবির।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানার মুন্সিরচর গিমাডাঙ্গা এলাকার মো. মোতালেব শেখের ছেলে মো. ইয়াছিন শেখ (২৫) এবং মাগুরা জেলার সদর থানার শিমুলিয়া এলাকার মো. অলিয়ার রহমানের মেয়ে মোসা. সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার (২৫)। বর্তমানে তারা উভয়েই আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতলা এলাকার বাসিন্দা।

অপরদিকে ভুক্তভোগী পলাশ হোসেন (২৫) মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার পেচুয়াধারা এলাকার মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন ৭/১-বি দক্ষিনা আবাসন এলাকার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির জানান, গত ২০ জুন হানি ট্র্যাপ ডেটিং সাইট টানটান অ্যাপসে জামগড়ার সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তারের সাথে পরিচয় হয় পলাশ হোসেনের। পরে সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার ২০ জুন রাত নয়টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বাদি পলাশ হোসেনকে ডেকে নেন। এসময় প্রতারক সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার ও ইয়াসিন শেখ তাকে একটি বাড়ির ছাদে নিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে ও নগ্ন ভিডিও ধারণ করার কথা বলে তার কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন।

এসময় তারা তার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল একটি আইফোন, এটিএম কার্ড ও নগদ টাকা নিয়ে ২১ জুন রাতে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিলে তিনি সুস্থ হয়ে রাতে প্রতারক সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার ও ইয়াসিন শেখকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পুলিশ রাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে। পরে দুপুরে আসামিদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় এই প্রতারক চক্রের আরো কেউ এর সাথে জড়িত আছে কিনা সে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধে জড়িত বলেও জানান তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন ও জুলাই যোদ্ধাদের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন: অভিযুক্তদের বিচার দাবি

আশুলিয়ায় আ্যাপস ব্যাবহার করে প্রেমের ফাঁদ পেতে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

Update Time : ০৯:০৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

ঢাকার আশুলিয়ায় প্রেমের ফাঁদ পেতে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে হানি ট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে আশুলিয়া থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবির।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানার মুন্সিরচর গিমাডাঙ্গা এলাকার মো. মোতালেব শেখের ছেলে মো. ইয়াছিন শেখ (২৫) এবং মাগুরা জেলার সদর থানার শিমুলিয়া এলাকার মো. অলিয়ার রহমানের মেয়ে মোসা. সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার (২৫)। বর্তমানে তারা উভয়েই আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতলা এলাকার বাসিন্দা।

অপরদিকে ভুক্তভোগী পলাশ হোসেন (২৫) মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার পেচুয়াধারা এলাকার মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন ৭/১-বি দক্ষিনা আবাসন এলাকার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির জানান, গত ২০ জুন হানি ট্র্যাপ ডেটিং সাইট টানটান অ্যাপসে জামগড়ার সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তারের সাথে পরিচয় হয় পলাশ হোসেনের। পরে সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার ২০ জুন রাত নয়টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বাদি পলাশ হোসেনকে ডেকে নেন। এসময় প্রতারক সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার ও ইয়াসিন শেখ তাকে একটি বাড়ির ছাদে নিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে ও নগ্ন ভিডিও ধারণ করার কথা বলে তার কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন।

এসময় তারা তার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল একটি আইফোন, এটিএম কার্ড ও নগদ টাকা নিয়ে ২১ জুন রাতে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিলে তিনি সুস্থ হয়ে রাতে প্রতারক সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার ও ইয়াসিন শেখকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পুলিশ রাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে। পরে দুপুরে আসামিদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় এই প্রতারক চক্রের আরো কেউ এর সাথে জড়িত আছে কিনা সে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধে জড়িত বলেও জানান তিনি।