নারী ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ—একটি সচেতন ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান। কিন্তু সেই প্রতিবাদের জেরে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা, যেখানে প্রাণ হারাতে হলো এক তরুণকে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরেক যুবক মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হাসপাতালে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ মার্চ রাতে উপজেলার লক্ষনখোলা বাজার এলাকায়। নিহত যুবকের নাম শাহজালাল ওরফে সাব্বির (২০)। এ ঘটনায় আহত জিহাদ (২২) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগের দিন ২৬ মার্চ আলী শাহ ভান্ডারীর ওরশ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নারী উত্যক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে একদল যুবকের বাকবিতণ্ডা হয়। প্রতিবাদের মুখে পড়ে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয়।

পরদিন সন্ধ্যায় সাব্বির ও জিহাদসহ কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে লক্ষনখোলা বাজার এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা হামলাকারীরা তাদের গতিরোধ করে। দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে সিএনজি থেকে টেনে নামিয়ে তাদের উপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাব্বিরের মৃত্যু হয়। জিহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মেঘনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।
সমাজের জন্য বার্তা:
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, নারী ইভটিজিং শুধু একটি সামাজিক ব্যাধি নয়—এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষদেরও জীবন দিতে হতে পারে। অথচ একটি সভ্য সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করা—দুটিই হওয়া উচিত স্বাভাবিক ও নিরাপদ অধিকার।
সচেতন মহল বলছে, ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। নইলে প্রতিবাদকারীরাই হয়ে উঠবে পরবর্তী শিকার।
শেষ কথা:
একটি প্রতিবাদ, একটি সংঘর্ষ, এবং একটি অকাল মৃত্যু—এই ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা: 


















