প্রতিনিধিঃ শাহীনুল হক।
সাভারের হেমায়েতপুরে জামায়াতের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে মারধরসহ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় আল-আকসা মসজিদের পাশে মোয়াজ্জিন নাসিরউদ্দিনের দোকানের সামনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করায় মৃত শাহজাহান ব্যাপারীর ছেলে ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন মোশা’র ছোট ভাই শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।
সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারধরে ৩ জন জামায়াত কর্মী আহত হলে তাদেরকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ভাঙা ব্রিজ সংলগ্ন আল-আকসা মসজিদের পাশে বাদ আসর মসজিদের মোয়াজ্জিন নাসির উদ্দিনের দোকানের সামনে জামায়াতের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প চলছিলো। এঘটনায় মৃত শাহজাহান ব্যাপারীর ছেলে বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মোশা’র ছোট ভাই ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী জামায়াত নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা ও দোকান ভাংচুরসহ নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য মালামালসহ প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
হামলায় এসময় জামায়াত কর্মী মনির হোসেন (৩৫), মসজিদের মোয়াজ্জিন নাসিরউদ্দিন (৪৫) ও জোবায়ের হোসেন (২৫) আহত হয়। এঘটনায় এলাকাবাসীরা আহতদেরকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এদিকে বিএনপি নেতার ছোট ভাইয়ের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা চালানোয় আশপাশে সাধারণ জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এই সন্ত্রাসী শরিফুল ইসলামের অত্যাচারে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা সবসময় আতঙ্কে দিন পার করছেন। এর আগেও একাধিক হামলার ঘটনায় শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও সে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের অনুসারী হওয়ায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সেক্রেটারী আমিরুল ইসলাম জানান, গত মাসের ২৮ নভেম্বর জামায়াতের উদ্যোগে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুরের প্রভাতি একাডেমী মাঠে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করায় বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মোশা’র ছোট ভাই শরিফউদ্দিনের নেতৃত্বে একই কায়দায় হামলা ও দোকান ভাংচুর করা হয়। আজও তারা জামায়াত কর্মী মনির হোসেনকে কেন জাময়াতের পক্ষ থেকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়েছে বলেই হামলা এবং মারধর শুরু করেন।
হামলার ঘটনায় আহত মনির হোসেন বাদী হয়ে শরিফুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুর তেঁতুলঝোড়া এলাকায় বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মুসা, তার ভাই শরিফুল ইসলামসহ ৫ ভাইয়ের নেতৃত্বে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ একাধিক মামলা থাকার পরেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে তারা আরও বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তবে হামলার ও লুটপাটের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সাভার মডেল থানার (ওসি) তদন্ত মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে অভিযোগ পেলে সে যেই দলের হোকনা কেন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Reporter Name 


















