১১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র হত্যা মামলায় যুবলীগ নেতা ‘ল্যাংড়া সোহেল’ গ্রেপ্তার।

  • শাহীনুল হক।
  • Update Time : ১২:০১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৯৭ Time View

ঢাকার সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি ও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের নেতা সোহেল রানা ওরফে ল্যাংড়া সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভার পৌরসভার মজিদপুর এলাকা থেকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সোহেল রানা ওরফে ল্যাংড়া সোহেল (৪৫) সাভার উপজেলার মজিদপুর এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে। তিনি সাভার থানা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম মন্ডলের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একদফা আন্দোলন চলাকালীন সময় সাভারে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন ল্যাংড়া সোহেল। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘদিন তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করে এলাকায় ফিরে ফের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম মজিদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) আরমান আলী বলেন, “সোহেল রানার বিরুদ্ধে সাভারে সংঘটিত ছাত্র হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”

প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসসহ ৪ ও ৫ আগস্ট সাভারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে ছাত্র-জনতা জমায়েত হলে তৎকালীন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী পতিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব এবং ঢাকা-১৯ আসনের পতিত সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে।
এতে সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক ছাত্র-জনতা শহিদ হন এবং অসংখ্য মানুষ চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গণধর্ষণের তথ্য মেলেনি! আলফাডাঙ্গায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি ছাড়ল মাদ্রাসাছাত্রী

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র হত্যা মামলায় যুবলীগ নেতা ‘ল্যাংড়া সোহেল’ গ্রেপ্তার।

Update Time : ১২:০১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি ও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের নেতা সোহেল রানা ওরফে ল্যাংড়া সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভার পৌরসভার মজিদপুর এলাকা থেকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সোহেল রানা ওরফে ল্যাংড়া সোহেল (৪৫) সাভার উপজেলার মজিদপুর এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে। তিনি সাভার থানা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম মন্ডলের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একদফা আন্দোলন চলাকালীন সময় সাভারে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন ল্যাংড়া সোহেল। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘদিন তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করে এলাকায় ফিরে ফের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম মজিদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) আরমান আলী বলেন, “সোহেল রানার বিরুদ্ধে সাভারে সংঘটিত ছাত্র হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”

প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসসহ ৪ ও ৫ আগস্ট সাভারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে ছাত্র-জনতা জমায়েত হলে তৎকালীন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী পতিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব এবং ঢাকা-১৯ আসনের পতিত সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে।
এতে সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক ছাত্র-জনতা শহিদ হন এবং অসংখ্য মানুষ চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেন।