১১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিষ্টির হাঁড়িতে মরণ বিষের ফোঁড়া: আলফাডাঙ্গায় ৪৫ ইয়াবাসহ কারবারি শিকলবন্দি

রসগোল্লার রসে আর সন্দেশের ঘ্রাণে যেখানে মৌ মৌ করবার কথা, সেখানেই পাওয়া গেল মরণ নেশার তীব্র বিষ। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বেড়ীরহাট বাজারে মিষ্টির হাঁড়ির তলানিতে লুকিয়ে ছিল ইয়াবার কালো ছোবল। মিষ্টান্নের বাহারি পসরা সাজিয়ে দিনের পর দিন যুবসমাজের রক্তে বিষ ঢালছিল এক কারবারি। অবশেষে খুলে গেল সেই পাপের হাঁড়ি। পুলিশের জালে ধরা পড়ল মিষ্টি ব্যবসার মুখোশধারী সেই মাদক সম্রাট।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ধৃত আতিয়ার রহমান (৫২) কে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করে জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার খড়গ নেমেছে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার( ১১ মে) রাতের আঁধার ঘনিয়ে আসতেই উপজেলার বেড়ীরহাট বাজারে বজ্রের মতো হানা দেয় পুলিশ। দীর্ঘদিনের গোপন খবরের সুতো ধরে এসআই মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল চৌকস সেপাই ঝটিকা তল্লাশি চালায় ওই কুখ্যাত মিষ্টির দোকানে। তল্লাশিকালে দোকানের আনাচে-কানাচে খুঁজে পাওয়া যায় ৪৫ পিস ইয়াবা। রসের হাঁড়ির আড়ালেই ছিল মরণের কারবার। ঘটনাস্থলেই হাতকড়া পরানো হয় দোকানের মালিক আতিয়ার রহমানকে।

হাট-বাজারের মানুষের মুখে মুখে ফেরে, এই লোক মিষ্টির লেবাসে এলাকার তরুণ-যুবকদের হাতে তুলে দিচ্ছিল ধ্বংসের টিকিট। চিনির বদলে বিকোচ্ছিল বিষ। এতদিন আইনের চোখে ধুলো দিয়ে পার পেয়ে গেলেও এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের জালে আটকা পড়েছে রাঘববোয়াল।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার কর্ণধার, অফিসার ইনচার্জ (ওসি)ফকির তাইজুর রহমান বজ্রকণ্ঠে বলেন, আলফাডাঙ্গার মাটি মাদক কারবারিদের জন্য হারাম। মিষ্টির দোকান হোক কিংবা সাধুর আখড়া, মাদকের কারবার করলেই তার ঠিকানা হবে জেলের ভেতর। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই আমরণ। কোনো রক্তচক্ষু, কোনো তদবির চলবে না। অপরাধী যেই হোক, তাকে শিকল পরতেই হবে। এই জনপদকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের অভিযান চলছে, চলবে।

পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে বুকভরে নিঃশ্বাস ফেলছে এলাকার মানুষ। তাদের একটাই দাবি, সমাজের শিরা-উপশিরায় ঢুকে পড়া এই মাদকের বিষদাঁত ভাঙতে এমন অভিযান চলুক লাগাতার। থামলে চলবে না।

সচেতন মানুষজনের ভাষ্য, শুধু খাকি পোশাকের হুংকারে হবে না। ঘরে ঘরে জাগাতে হবে সচেতনতার মশাল। সমাজের সবাই রুখে না দাঁড়ালে এই মরণ নেশার শিকড় উপড়ে ফেলা দায়। প্রশাসনের কড়া নজর আর মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধেই গড়ে উঠতে পারে একটি নিরাপদ, মাদকমুক্ত আলফাডাঙ্গা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রত্যয়ে আলফাডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠন

মিষ্টির হাঁড়িতে মরণ বিষের ফোঁড়া: আলফাডাঙ্গায় ৪৫ ইয়াবাসহ কারবারি শিকলবন্দি

Update Time : ০৯:১৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

রসগোল্লার রসে আর সন্দেশের ঘ্রাণে যেখানে মৌ মৌ করবার কথা, সেখানেই পাওয়া গেল মরণ নেশার তীব্র বিষ। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বেড়ীরহাট বাজারে মিষ্টির হাঁড়ির তলানিতে লুকিয়ে ছিল ইয়াবার কালো ছোবল। মিষ্টান্নের বাহারি পসরা সাজিয়ে দিনের পর দিন যুবসমাজের রক্তে বিষ ঢালছিল এক কারবারি। অবশেষে খুলে গেল সেই পাপের হাঁড়ি। পুলিশের জালে ধরা পড়ল মিষ্টি ব্যবসার মুখোশধারী সেই মাদক সম্রাট।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ধৃত আতিয়ার রহমান (৫২) কে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করে জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার খড়গ নেমেছে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার( ১১ মে) রাতের আঁধার ঘনিয়ে আসতেই উপজেলার বেড়ীরহাট বাজারে বজ্রের মতো হানা দেয় পুলিশ। দীর্ঘদিনের গোপন খবরের সুতো ধরে এসআই মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল চৌকস সেপাই ঝটিকা তল্লাশি চালায় ওই কুখ্যাত মিষ্টির দোকানে। তল্লাশিকালে দোকানের আনাচে-কানাচে খুঁজে পাওয়া যায় ৪৫ পিস ইয়াবা। রসের হাঁড়ির আড়ালেই ছিল মরণের কারবার। ঘটনাস্থলেই হাতকড়া পরানো হয় দোকানের মালিক আতিয়ার রহমানকে।

হাট-বাজারের মানুষের মুখে মুখে ফেরে, এই লোক মিষ্টির লেবাসে এলাকার তরুণ-যুবকদের হাতে তুলে দিচ্ছিল ধ্বংসের টিকিট। চিনির বদলে বিকোচ্ছিল বিষ। এতদিন আইনের চোখে ধুলো দিয়ে পার পেয়ে গেলেও এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের জালে আটকা পড়েছে রাঘববোয়াল।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার কর্ণধার, অফিসার ইনচার্জ (ওসি)ফকির তাইজুর রহমান বজ্রকণ্ঠে বলেন, আলফাডাঙ্গার মাটি মাদক কারবারিদের জন্য হারাম। মিষ্টির দোকান হোক কিংবা সাধুর আখড়া, মাদকের কারবার করলেই তার ঠিকানা হবে জেলের ভেতর। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই আমরণ। কোনো রক্তচক্ষু, কোনো তদবির চলবে না। অপরাধী যেই হোক, তাকে শিকল পরতেই হবে। এই জনপদকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের অভিযান চলছে, চলবে।

পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে বুকভরে নিঃশ্বাস ফেলছে এলাকার মানুষ। তাদের একটাই দাবি, সমাজের শিরা-উপশিরায় ঢুকে পড়া এই মাদকের বিষদাঁত ভাঙতে এমন অভিযান চলুক লাগাতার। থামলে চলবে না।

সচেতন মানুষজনের ভাষ্য, শুধু খাকি পোশাকের হুংকারে হবে না। ঘরে ঘরে জাগাতে হবে সচেতনতার মশাল। সমাজের সবাই রুখে না দাঁড়ালে এই মরণ নেশার শিকড় উপড়ে ফেলা দায়। প্রশাসনের কড়া নজর আর মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধেই গড়ে উঠতে পারে একটি নিরাপদ, মাদকমুক্ত আলফাডাঙ্গা।