০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা, হাজারো মানুষের ঢল

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, গ্রামীণ জনপদের মানুষের মাঝে নির্মল বিনোদন ছড়িয়ে দেওয়া এবং যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। ঘোড়ার ক্ষিপ্রগতির দৌড়, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর মেলার আনন্দে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বানা ইউনিয়নের রুদ্রবানা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরেরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মাঠের চারপাশ।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও রুদ্রবানা গ্রামের বাসিন্দা হাদী জিয়াউর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবর শেখের সার্বিক সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২৬টি দুরন্ত ঘোড়া অংশ নেয়। ঘোড়ার দৌড় শুরু হলে দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে মাঠের আশপাশে বসে গ্রামীণ মেলা। মেলায় বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার, খেলনা, মিষ্টি ও বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। শিশু-কিশোরদের আনন্দ, গ্রামীণ খাবারের ঘ্রাণ আর মানুষের প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরে আসে বাংলার চিরচেনা মেলা ও উৎসবের আবহ। অনেকের কাছে এটি হয়ে ওঠে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর এক বিশেষ উপলক্ষ।

আয়োজকরা জানান, একসময় গ্রামবাংলার বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা, সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানো এবং যুবসমাজকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনমুখী করতেই তাঁদের এ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে বানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও আয়োজকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি ও আয়োজকরা।

স্থানীয়দের মতে, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজনের বিকল্প নেই। নিয়মিত এমন প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হলে একদিকে যেমন গ্রামীণ সংস্কৃতির চর্চা বাড়বে, অন্যদিকে যুবসমাজও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে উৎসাহিত হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলফাডাঙ্গায় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা, হাজারো মানুষের ঢল

আলফাডাঙ্গায় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা, হাজারো মানুষের ঢল

Update Time : ০৭:৫৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, গ্রামীণ জনপদের মানুষের মাঝে নির্মল বিনোদন ছড়িয়ে দেওয়া এবং যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। ঘোড়ার ক্ষিপ্রগতির দৌড়, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর মেলার আনন্দে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বানা ইউনিয়নের রুদ্রবানা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরেরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মাঠের চারপাশ।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও রুদ্রবানা গ্রামের বাসিন্দা হাদী জিয়াউর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবর শেখের সার্বিক সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২৬টি দুরন্ত ঘোড়া অংশ নেয়। ঘোড়ার দৌড় শুরু হলে দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে মাঠের আশপাশে বসে গ্রামীণ মেলা। মেলায় বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার, খেলনা, মিষ্টি ও বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। শিশু-কিশোরদের আনন্দ, গ্রামীণ খাবারের ঘ্রাণ আর মানুষের প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরে আসে বাংলার চিরচেনা মেলা ও উৎসবের আবহ। অনেকের কাছে এটি হয়ে ওঠে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর এক বিশেষ উপলক্ষ।

আয়োজকরা জানান, একসময় গ্রামবাংলার বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা, সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানো এবং যুবসমাজকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনমুখী করতেই তাঁদের এ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে বানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও আয়োজকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি ও আয়োজকরা।

স্থানীয়দের মতে, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজনের বিকল্প নেই। নিয়মিত এমন প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হলে একদিকে যেমন গ্রামীণ সংস্কৃতির চর্চা বাড়বে, অন্যদিকে যুবসমাজও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে উৎসাহিত হবে।