০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যু জয় করে কালকিনি তাহাজ্জুলের জজ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ


আড়াই বছর বয়সে পিতৃহীন হওয়া, চরম দারিদ্র্যের সাথে লড়াই এবং পরবর্তীতে দুটি কিডনি বিকল—জীবনের সব অন্ধকার ও মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে এসে অবশেষে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন এস এম তাইজুল ইসলাম। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ১২০তম স্থান অর্জন করে সহকারী জজ (সিভিল জাজ) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার এই কৃতী সন্তান।
​পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের পূর্ব আলীপুর গ্রামের সন্তান তাইজুল ২০০৮ সালে আলীপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে গোল্ডেন এ+ পান। ২০১০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে সাফল্যর সঙ্গে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেন।
​তবে পথচলা সহজ ছিল না। ২০১৩ সাল থেকে অসুস্থতায় ভোগার পর ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই তাঁর দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, শিক্ষক, স্বজন ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় ২০১৭ সালে ভারতে তাঁর সফল কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।
​প্রতিবন্ধকতা ও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ জয় করে অবশেষে সিভিল জজ হিসেবে চূড়ান্ত সাফল্য পান তিনি। মা হাওয়া বেগম অশ্রুসজল চোখে বলেন, “একবেলা না খেয়ে সন্তানদের মানুষ করেছি। আমার একটাই স্বপ্ন ছিল ছেলে জজ হবে; আল্লাহ আজ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন।”
​নবমনোনীত বিচারক এস এম তাইজুল ইসলাম বলেন, “আল্লাহর রহমত, মায়ের অকৃত্রিম ত্যাগ এবং অসংখ্য মানুষের সহযোগিতার কাছে আমি চিরঋণী। নিষ্ঠার সাথে বিচারকাজ পরিচালনা করে মানুষের সেবা করতে চাই।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

​লন্ডনের গ্রিনউইচ ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োমেডিসিনে স্নাতক করলেন কালকিনির সুমাইয়া কনা

মৃত্যু জয় করে কালকিনি তাহাজ্জুলের জজ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ

Update Time : ১০:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আড়াই বছর বয়সে পিতৃহীন হওয়া, চরম দারিদ্র্যের সাথে লড়াই এবং পরবর্তীতে দুটি কিডনি বিকল—জীবনের সব অন্ধকার ও মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে এসে অবশেষে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন এস এম তাইজুল ইসলাম। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ১২০তম স্থান অর্জন করে সহকারী জজ (সিভিল জাজ) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার এই কৃতী সন্তান।
​পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের পূর্ব আলীপুর গ্রামের সন্তান তাইজুল ২০০৮ সালে আলীপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে গোল্ডেন এ+ পান। ২০১০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে সাফল্যর সঙ্গে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেন।
​তবে পথচলা সহজ ছিল না। ২০১৩ সাল থেকে অসুস্থতায় ভোগার পর ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই তাঁর দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, শিক্ষক, স্বজন ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় ২০১৭ সালে ভারতে তাঁর সফল কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।
​প্রতিবন্ধকতা ও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ জয় করে অবশেষে সিভিল জজ হিসেবে চূড়ান্ত সাফল্য পান তিনি। মা হাওয়া বেগম অশ্রুসজল চোখে বলেন, “একবেলা না খেয়ে সন্তানদের মানুষ করেছি। আমার একটাই স্বপ্ন ছিল ছেলে জজ হবে; আল্লাহ আজ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন।”
​নবমনোনীত বিচারক এস এম তাইজুল ইসলাম বলেন, “আল্লাহর রহমত, মায়ের অকৃত্রিম ত্যাগ এবং অসংখ্য মানুষের সহযোগিতার কাছে আমি চিরঋণী। নিষ্ঠার সাথে বিচারকাজ পরিচালনা করে মানুষের সেবা করতে চাই।