০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিবির হাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার।

  • শাহীনুল হক।
  • Update Time : ০৮:১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৯২ Time View

সাভারে এক সময় ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত ছিল, পরে ধীরে ধীরে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় সাভারের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করা এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার পুরো গল্পের অবসান ঘটাল ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনাকারী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মোঃ বিল্লাল ওরফে ফান্টু বিল্লাল (৩৫) অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়
সাভার পৌরসভার মজিদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল সাভার পৌরসভার মজিদপুর ছোট বলি মেহের এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গনির ছেলে এবং সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ও সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বিল্লাল দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে সাভার পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। ইয়াবা, ফেনসিডিল ও অন্যান্য মাদক সরবরাহের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তার হাত ধরেই পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ার কারণে এতদিন তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিল্লাল সাভার পৌরসভার সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে কারাগারে থাকা রুবেল মন্ডলের ঘনিষ্ঠ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই সম্পর্কই তাকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালানোর সুযোগ করে দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্ষমতার পালাবদলের পরও বিল্লাল নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে কৌশল পরিবর্তন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি ভোল্ট পাল্টে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় নতুন করে মাদক নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের ফলে তার সেই কৌশলও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানায়, বিল্লাল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত দুটি মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ মোট তিনটি মামলায় অভিযুক্ত।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিল্লাল এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। তাকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

বিল্লালের গ্রেপ্তারের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও মাদক সংশ্লিষ্ট চক্রে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। অনেকেই বলছেন, এই গ্রেপ্তার যদি ধারাবাহিকভাবে এগোয়, তবে সাভার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে গড়ে ওঠা মাদক সাম্রাজ্যে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন ও জুলাই যোদ্ধাদের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন: অভিযুক্তদের বিচার দাবি

ডিবির হাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার।

Update Time : ০৮:১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারে এক সময় ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত ছিল, পরে ধীরে ধীরে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় সাভারের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করা এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার পুরো গল্পের অবসান ঘটাল ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনাকারী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মোঃ বিল্লাল ওরফে ফান্টু বিল্লাল (৩৫) অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়
সাভার পৌরসভার মজিদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল সাভার পৌরসভার মজিদপুর ছোট বলি মেহের এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গনির ছেলে এবং সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ও সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বিল্লাল দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে সাভার পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। ইয়াবা, ফেনসিডিল ও অন্যান্য মাদক সরবরাহের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তার হাত ধরেই পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ার কারণে এতদিন তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিল্লাল সাভার পৌরসভার সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে কারাগারে থাকা রুবেল মন্ডলের ঘনিষ্ঠ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই সম্পর্কই তাকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালানোর সুযোগ করে দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্ষমতার পালাবদলের পরও বিল্লাল নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে কৌশল পরিবর্তন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি ভোল্ট পাল্টে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় নতুন করে মাদক নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের ফলে তার সেই কৌশলও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানায়, বিল্লাল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত দুটি মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ মোট তিনটি মামলায় অভিযুক্ত।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিল্লাল এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। তাকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

বিল্লালের গ্রেপ্তারের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও মাদক সংশ্লিষ্ট চক্রে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। অনেকেই বলছেন, এই গ্রেপ্তার যদি ধারাবাহিকভাবে এগোয়, তবে সাভার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে গড়ে ওঠা মাদক সাম্রাজ্যে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হবে।