১০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াকান্দিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

কথায় আছে সাবধানের মার নেই, তবে এতো সাবধান থাকার পরেও ঘটে গেল –
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড আর এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মালামাল পুড়ে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে তাদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী এম এ কুদ্দুস জানান, তিনি তার দুই ব্যবসায়িক অংশীদার মৃনাল কান্তি শিকদার ও হিঠুকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বহরপুর বাজারে পাটের ব্যবসা করে আসছেন। ভোরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পান, দোকানে থাকা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার পাট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী সুমন মোল্লা জানান, তার ফার্মেসিতে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকার ওষুধ আগুনে পুড়ে গেছে।

মুদি দোকান ‘জারিফ স্টোর’-এর মালিক মিমরাজুল হক জানান, তার দোকানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল ছিল। আগুনে তার দোকানের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া জলিল সরদারের চাল, গম ও তেলের মিলে আগুন লেগে ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে জলিল সরদারের ছেলে আত্মা ফার্মাসীর মালিক জাহিদুল ইসলামের ওষুধের দোকানের মালামালও আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
‘মির্সাস ব্রাদার ইলেকট্রনিকস’-এর ব্যবসায়ী বিপ্লব হোসেন জানান, তার দোকানে থাকা পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের ইলেকট্রনিকস সামগ্রী পুড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে বহরপুর বাজারের একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকা। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন। বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার সালাউদ্দিন লস্কর জানায় রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানার নেতৃত্বে চারটি ইউনিট দীর্ঘ সময় কাজ করে, এক কোটি বিশ লক্ষ টাকার মালামাল উদ্ধার করেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

১০ বছরেও সংস্কার হয়নি সেতু, বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার,দুর্ভোগে দুই গ্রামের মানুষ।

বালিয়াকান্দিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

Update Time : ০১:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

কথায় আছে সাবধানের মার নেই, তবে এতো সাবধান থাকার পরেও ঘটে গেল –
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড আর এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মালামাল পুড়ে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে তাদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী এম এ কুদ্দুস জানান, তিনি তার দুই ব্যবসায়িক অংশীদার মৃনাল কান্তি শিকদার ও হিঠুকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বহরপুর বাজারে পাটের ব্যবসা করে আসছেন। ভোরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পান, দোকানে থাকা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার পাট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী সুমন মোল্লা জানান, তার ফার্মেসিতে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকার ওষুধ আগুনে পুড়ে গেছে।

মুদি দোকান ‘জারিফ স্টোর’-এর মালিক মিমরাজুল হক জানান, তার দোকানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল ছিল। আগুনে তার দোকানের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া জলিল সরদারের চাল, গম ও তেলের মিলে আগুন লেগে ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে জলিল সরদারের ছেলে আত্মা ফার্মাসীর মালিক জাহিদুল ইসলামের ওষুধের দোকানের মালামালও আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
‘মির্সাস ব্রাদার ইলেকট্রনিকস’-এর ব্যবসায়ী বিপ্লব হোসেন জানান, তার দোকানে থাকা পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের ইলেকট্রনিকস সামগ্রী পুড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে বহরপুর বাজারের একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকা। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন। বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার সালাউদ্দিন লস্কর জানায় রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানার নেতৃত্বে চারটি ইউনিট দীর্ঘ সময় কাজ করে, এক কোটি বিশ লক্ষ টাকার মালামাল উদ্ধার করেছে।