০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে অভ্যস্ত করতে মাঠে শিক্ষা কর্মকর্তা, পুরস্কার নিজ অর্থে

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক।

উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে চালু করা হচ্ছে বিশেষ ‘নামাজ ট্র্যাকিং’ কার্যক্রম। আর এ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারের অর্থও দিচ্ছেন তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হকের স্বাক্ষরিত এক প্রাতিষ্ঠানিক নোটিশে এ কার্যক্রমের কথা জানানো হয়।

নোটিশ অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে উপজেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় শুরু হবে নামাজ আদায়ের তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম। প্রতিদিনের প্রথম ধর্মীয় ক্লাসে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কিংবা সহকারী মৌলভী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আগের দিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরে নির্ধারিত রেজিস্টারে তা লিপিবদ্ধ করা হবে।

এভাবে প্রতিদিনের তথ্য মাসব্যাপী সংরক্ষণের পর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরি করবে। মাস শেষে ওই প্রতিবেদন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শুধু তথ্য সংগ্রহ বা পর্যবেক্ষণ নয়, শিক্ষার্থীদের ভালো কাজে আগ্রহী করে তুলতেই রাখা হয়েছে পুরস্কারের ব্যবস্থা। নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ও সর্বোচ্চসংখ্যক ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পুরস্কার দেওয়া হবে। বিশেষ করে এ পুরস্কারের অর্থ সরকারি কোনো বরাদ্দ থেকে নয়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হকের ব্যক্তিগত অর্থায়নে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কৈশোর থেকেই একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও ভালো অভ্যাস গড়ে উঠলে তার প্রভাব পড়ে ভবিষ্যৎ জীবনেও। সেই ভাবনা থেকেই পাঠ্য শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চায় উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে নামাজের ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে ইহকালে শান্তি ও পরকালে মুক্তি লাভের প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি হাদিসের আলোকে কেয়ামতের দিন নামাজের হিসাবের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের নামাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে নয়, বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। নামাজ একজন মানুষের জীবনে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও আত্মসংযম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের ভালো কাজে উৎসাহিত করতেই ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কাউকে চাপ প্রয়োগ করা নয়, বরং উৎসাহ ও ইতিবাচক পরিবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলাই এ কার্যক্রমের লক্ষ্য।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

​লন্ডনের গ্রিনউইচ ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োমেডিসিনে স্নাতক করলেন কালকিনির সুমাইয়া কনা

শিক্ষার্থীদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে অভ্যস্ত করতে মাঠে শিক্ষা কর্মকর্তা, পুরস্কার নিজ অর্থে

Update Time : ০৭:০০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক।

উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে চালু করা হচ্ছে বিশেষ ‘নামাজ ট্র্যাকিং’ কার্যক্রম। আর এ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারের অর্থও দিচ্ছেন তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হকের স্বাক্ষরিত এক প্রাতিষ্ঠানিক নোটিশে এ কার্যক্রমের কথা জানানো হয়।

নোটিশ অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে উপজেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় শুরু হবে নামাজ আদায়ের তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম। প্রতিদিনের প্রথম ধর্মীয় ক্লাসে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কিংবা সহকারী মৌলভী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আগের দিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরে নির্ধারিত রেজিস্টারে তা লিপিবদ্ধ করা হবে।

এভাবে প্রতিদিনের তথ্য মাসব্যাপী সংরক্ষণের পর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরি করবে। মাস শেষে ওই প্রতিবেদন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শুধু তথ্য সংগ্রহ বা পর্যবেক্ষণ নয়, শিক্ষার্থীদের ভালো কাজে আগ্রহী করে তুলতেই রাখা হয়েছে পুরস্কারের ব্যবস্থা। নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ও সর্বোচ্চসংখ্যক ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পুরস্কার দেওয়া হবে। বিশেষ করে এ পুরস্কারের অর্থ সরকারি কোনো বরাদ্দ থেকে নয়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হকের ব্যক্তিগত অর্থায়নে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কৈশোর থেকেই একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও ভালো অভ্যাস গড়ে উঠলে তার প্রভাব পড়ে ভবিষ্যৎ জীবনেও। সেই ভাবনা থেকেই পাঠ্য শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চায় উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে নামাজের ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে ইহকালে শান্তি ও পরকালে মুক্তি লাভের প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি হাদিসের আলোকে কেয়ামতের দিন নামাজের হিসাবের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের নামাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে নয়, বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। নামাজ একজন মানুষের জীবনে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও আত্মসংযম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের ভালো কাজে উৎসাহিত করতেই ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কাউকে চাপ প্রয়োগ করা নয়, বরং উৎসাহ ও ইতিবাচক পরিবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলাই এ কার্যক্রমের লক্ষ্য।